Saturday, March 24, 2018

ট্রাম্পের মুসলিম ফোবিয়া ~নয়া দিগন্ত

ট্রাম্পের মুসলিম ফোবিয়া
মুহাম্মাদ আলীরেজা
১৫ মার্চ ২০১৮  বৃহস্পতিবার  :  নয়া দিগন্ত       
পিউ রিসার্চ সেন্টার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জনমত জরিপ পরিচালনাকারী একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান। সারা বিশ্বের বিভিন্ন সামাজিক বিষয় নিয়ে জনমত জরিপ পরিচালনা এবং গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করাই তাদের মূল কাজ। পৃথিবীর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোতে পিউ রিসার্চ সেন্টারের গবেষণালব্ধ তথ্য-উপাত্তকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়। সম্প্রতি পিউ রিসার্চ সেন্টার একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে- যা কিছুটা অবাক হওয়ার মতোই। তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বের জনসংখ্যার তুলনায় দ্রুত বর্ধনশীল একমাত্র ধর্মবিশ্বাস হচ্ছে ইসলাম। ২০৭০ সালের মধ্যে ইসলামই হবে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ধর্ম। এটি দীর্ঘ গবেষণামূলক জরিপের ফলাফল। বর্তমানে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্ম হলো ইসলাম। আর সবচেয়ে বেশি অনুসারী খ্রিষ্টান ধর্মবিশ্বাসের।
মুসলিম জনসংখ্যা যেভাবে বদলে দিতে পারে ইউরোপের চেহারা (বিবিসি-বাংলা) ২ ডিসেম্বর ২০১৭ ইউরোপে মুসলিমদের সংখ্যা বাড়ছে। বিভিন্ন ধর্মের মানুষের সংখ্যার অনুপাতে ২০৫০ সালে ইউরোপের চেহারাটা কেমন দাঁড়াবে? ‘পিউ রিসার্চ সেন্টার’ অভিবাসনের হার বিবেচনায় এর যে নানা চিত্র দাঁড় করিয়েছে তাতে দেখানো হচ্ছে, মুসলিম জনসংখ্যার বিরাট বৃদ্ধি ঘটবে বিভিন্ন দেশে।
ধরা যাক সুইডেনের কথা। ২০১৬ সালে সুইডেনের মুসলিমদের সংখ্যা ছিল মোট জনসংখ্যার ৮ দশমিক ১ শতাংশ। কিন্তু অভিবাসনের উচ্চ হার যদি অব্যাহত থাকে, ২০৫০ সাল নাগাদ সুইডেনে মুসলিমরা হবে মোট জনসংখ্যার ৩০ শতাংশ।
পিউ রিসার্চ সেন্টার অভিবাসনের বিভিন্ন হার বিবেচনায় নিয়ে ইউরোপে মুসলিম জনসংখ্যা সম্পর্কে তিন ধরনের পূর্বাভাস দিয়েছে। এতে বলা হচ্ছে, অভিবাসন যদি এখনই শূন্যে নামিয়ে আনা হয়, তারপরও ইউরোপের মুসলিম জনসংখ্যা বর্তমানের ৪ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ৭ দশমিক ৪ শতাংশে। আর যদি অভিবাসনের উচ্চ হার অব্যাহত থাকে, তা হলে মুসলিম জনসংখ্যা হবে ১৪ শতাংশের বেশি। অভিবাসন বন্ধ হলেও ইউরোপে মুসলিম জনসংখ্যা বাড়তে থাকবে।
পিউ রিসার্চ সেন্টার এই গবেষণাটি চালায় মোট ৩০টি দেশের ওপর। এর মধ্যে ২৮টি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বর্তমান সদস্যরাষ্ট্র। অন্য দু’টি দেশ হচ্ছে নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড।
২০১৬ সালের তথ্য বিবেচনায় নিলে ইউরোপের এই ৩০টি দেশের মুসলিম জনসংখ্যা এই মুহূর্তে দুই কোটি ৫৭ লাখ যা মোট জনসংখ্যার ৪ দশমিক ৯ শতাংশ। এর মধ্যে জনসংখ্যার অনুপাতে সবচেয়ে বেশি মুসলিম আছে ফ্রান্সে। দেশটিতে বাস করে প্রায় অর্ধ কোটি মুসলিম (৪৯ লাখ ৫০ হাজার)। ফ্রান্সের মোট জনসংখ্যার অনুপাতে মুসলিমরা হচ্ছে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ। ইউরোপের ৩০টি দেশের মধ্যে মুসলিমরা দ্বিতীয় বৃহত্তম সংখ্যায় আছে জার্মানিতে। সেখানে মোট জনসংখ্যার ৬ দশমিক ১ শতাংশ মুসলিম। তাদের সংখ্যা ৫৭ লাখ ২০ হাজার।
ব্রিটেনে মোট জনসংখ্যার অনুপাতে মুসলমানদের সংখ্যা জার্মানির তুলনায় বেশি (৬ দশমিক ৩ শতাংশ)। ব্রিটেনে মুসলমানদের সংখ্যা ৪১ লাখ ৩০ হাজার। এ ছাড়া ইউরোপে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় এবং হারে মুসলিম আছে নেদারল্যান্ড, ইতালি, স্পেন ও সুইডেনে। উচ্চহারে অভিবাসন হলে ২০৫০ সালে ব্রিটেনের মুসলিম জনসংখ্যাই হবে ইউরোপের বৃহত্তম।
সামনের দশকগুলোতে ইউরোপের মুসলিম জনসংখ্যা সম্পর্কে পূর্বাভাস দিতে গিয়ে পিউ রিসার্চ সেন্টার তিন ধরনের অভিবাসন পরিস্থিতিকে বিবেচনায় নিয়েছেÑ একেবারে শূন্য, মধ্যম এবং উচ্চহারে অভিবাসন। ইউরোপে যদি অভিবাসন এখনই একেবারে বন্ধ করে দেয়া হয়, তারপরও ২০৫০ সাল নাগাদ ইউরোপে মুসলিম জনসংখ্যা দাঁড়াবে সাড়ে তিন কোটিতে, যা মোট জনসংখ্যার ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। যদি মধ্যম হারে অভিবাসন চলতে থাকে, তাহলে ইউরোপে মুসলিমদের সংখ্যা ২০৫০ সাল নাগাদ সাড়ে পাঁচ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। এর মধ্যে ব্রিটেনেই মুসলিমদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হবে, এক কোটি ৩০ লাখ। আর উচ্চ হারে যদি অভিবাসন ঘটে, তাহলে ২০৫০ সালে ইউরোপে মুসলিমদের সংখ্যা হবে সাড়ে সাত কোটি। জার্মানি হবে ইউরোপে সবচেয়ে বেশি মুসলিম জনসংখ্যার দেশ। জার্মানির মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ হবে মুসলিম। তাদের মোট সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় এক কোটি ৭৫ লাখে।
জাতিসঙ্ঘের উদ্বাস্তু সংস্থার পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালে ইউরোপ ১০ লাখের বেশি অভিবাসী ও শরণার্থী গ্রহণ করেছে। অভিবাসীদের বেশির ভাগই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের হওয়ায় ডানপন্থী কিছু রাজনৈতিক দল মুসলিমবিরোধী উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছে। মুসলিম সংখ্যা বাড়ার কারণ সম্পর্কে পিউ তার গবেষণা রিপোর্টে বলেছে, মুসলিমদের মধ্যে জন্মের হার বেশি, অন্যদের তুলনায় মুসলিমরা গড়ে ১৩ বছরের ছোট। ২০১৫-১৬ সালের পূর্বাবস্থায় অভিবাসীদের প্রবাহ ফিরে আসাকে অভিবাসী আগমনের মাঝারি ধাপ বলে মনে করা হয়। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সাল নাগাদ মুসলমানের বর্তমান সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়ে ১১ দশমিক ২ শতাংশ হবে। গবেষণার ক্ষেত্রে তৃতীয় ধাপটি তৈরি হয়েছে ২০১৫-১৬ সালে আসা মুসলিম শরণার্থীদের প্রবাহের ওপর ভিত্তি করে। পিউ বলেছে, ওই প্রবাহ অব্যাহত থাকলে মুসলিম সংখ্যা ২০৫০ সালের মধ্যে ইউরোপে ১৪ শতাংশে উন্নীত হবে। তারপরও মুসলমানদের অবস্থান খ্রিষ্টান ও ধর্মহীনদের পরেই থাকবে। খবরে বলা হয়েছে, ২০৭০ সালে ইসলাম বিশ্বের বৃহত্তম ধর্মে পরিণত হবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘৃণিত আচরণই তাকে ইসলাম গ্রহণে উৎসাহ জোগায় বলে ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানিয়েছেন লিজা সাকলিন নামের এক মার্কিন নারী। নওমুসলিম ওই নারী বলেন, ট্রাম্পের ইসলামবিদ্বেষই আমাকে ইসলাম সম্পর্কে জানতে উৎসাহ জুগিয়েছে।
এক বছর আগে ট্রাম্পের ঘৃণিত আচরণের কারণে তিনি ইসলাম সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হন বলেও স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন। ফেসবুকে দেয়া স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলো- যে দিন ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন, সে দিন এক মহিলা তার ফেসবুকে লিখেছিলেন, কিভাবে তার ( ট্রাম্পের ) ঘৃণ্য আচরণ তাকে ইসলামের দিকে ধাবিত করে।
এক বছর আগের কথা, ডোনাল্ড ট্রাম্পের কিছু ঘৃণিত আচরণ আমাকে কুরআন স্পর্শ করতে উদ্বুদ্ধ করে (বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় তুলনামূলকভাবে ধর্মের বিষয়ে তেমন পড়তাম না) এখন এটা আন্তরিকতার সাথে পড়ি। ‘আর এটাই মুসলমানদের সাথে আলাপচারিতার মাধ্যমে আমাকে ইসলাম গ্রহণের ক্ষেত্রে উদ্বুদ্ধ করে। যার ফলে আমি নিজেই কৃতজ্ঞ অনুভব করি। সিদ্ধান্ত নিয়েছি, শপথ গ্রহণের দিন অর্থাৎ ২০ জানুয়ারি ২০১৭ থেকে আমি জনসমক্ষে হিজাব পরা শুরু করব সবসময়ের জন্য। গর্বের সাথে হিজাব পরিধান করব এবং আমি মানুষকে গোপনে ও প্রকাশ্যে তাদের সব ধরনের ধর্মান্ধতার ওপর আহ্বান করব।’
স্ট্যাটাসে আরো রয়েছে, ক্লিনটন তখন মসনদে। আমি বাল্টিমোরে, ঘুম থেকে উঠে একদিন এক অবিশ্বাস্য নাটকীয় সংবাদ জানতে পারি। হোয়াইট হাউজে ইসলামের চাঁদতারা পতাকা উড়ছে। ভয়ের কিছু ছিল না। কারণ আলকায়েদার জন্ম তখনো হয়নি এবং বিন লাদেনেরও পাত্তা ছিল না, যিনি হোয়াইট হাউজে এসে এ ধরনের অঘটন ঘটানোর হিম্মত রাখেন। তবে সে সময় এখানকার মিডিয়ায় একটি ঝড় বয়ে যাচ্ছিল- যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুত সম্প্রসারণশীল ধর্ম হচ্ছে ইসলাম। এ সময়টিতে বাল্টিমোর জন হপকিন্সে গবেষণা করছি। এই বিশ্ববিদ্যালয়টি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় মেডিক্যাল রিসার্চ ইউনিভার্সিটি। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের হোমউড ক্যাম্পাসের লাইব্রেরির বেসমেন্টের ওয়ালের একটি তথ্য আমার চোখে পড়ে- প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে এক লাখ মানুষ ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করছে। মিডিয়ার অন্য সূত্রে জানতে পারি, এই এক লাখ নওমুসলিমের মধ্যে মহিলার সংখ্যাই বেশি। পাশ্চাত্য ভাবধারায় লালিতপালিত এবং মুক্ত হাওয়ায় বেড়ে ওঠা মেয়েরা এত ঝুঁকি নিয়ে কেন ইসলামকে পছন্দ করছে যেখানে বিদ্যমান শৃঙ্খলা, আত্মসমর্পণ ও ভিন্ন রূপ হওয়ার বিধান। Daughters of Another Path নামে একটি বই হাতে পাই। বইটিতে ফুটে উঠেছে আমেরিকান নারীদের ইসলাম গ্রহণের কথামালা। বইটি এত জনপ্রিয় যে, সাথে সাথে ফ্রেঞ্চ ভাষায় ফ্রান্স থেকে প্রকাশিত হয়।
ইন্টারনেটে একটি মেয়ে লিখেছে, ‘বইটি এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেলি। এ তো আমারই কথা। প্রথমে আব্বা-আম্মাকে পড়তে দিয়ে বলি, ‘এ বইতে পাবে, কেন আমি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করছি।’ যা হোক, বইটি আমার এত ভালো লেগেছিল যে, ঠিক করলাম অনুবাদ করব। এসে দেখি ২০০০ সালেই বইটি বাংলায় ঢাকা থেকে প্রকাশ করেছে কো-অপারেটিভ বুক সোসাইট। এতে আছে, মার্কিন মেয়েরা কেন পরিত্যাগ করছে তাদের এত দিনকার খ্রিষ্টীয় পরিবেশ আর পছন্দ করছে ইসলামকে। আমেরিকায় দ্রুত বেড়ে চলা ধর্ম হওয়ায় মুসলমানদের সমাজে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে বা কোণঠাসা করার মানসে আইনে প্রয়োগ করা হয় ‘সিক্রেট এভিডেন্স’। এই গোপনীয়তার সুযোগ নিয়ে মুসলমানদের জেলে ঢোকানো হতো। আর এই সিক্রেট এভিডেন্সের প্রয়োগ শুধু মুসলমানদের ক্ষেত্রেই দেখা যেত। এখানকার আমেরিকান মুসলিমদের তখন একমাত্র দাবি ছিল, এর অবসান। বুশের নির্বাচনে জেতার জন্য দরকার ছিল মুসলিম ভোট। কারণ এবারই প্রথম কোনো ইহুদি আমেরিকার ইতিহাসে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ইহুদিদের সব ভোট যাচ্ছে আলগোরের পাল্লায়। এই ভোটের মোকাবেলার জন্য বুশের দরকার পড়ল নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার জন্য সব মুসলিম ভোট।
তিনি এই সুযোগটি কাজে লাগান। আলগোরের সাথে নির্বাচনী বিতর্কে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সিক্রেট এভিডেন্সকে তিনি discriminatory (পক্ষপাত / বৈষম্যমূলক) মনে করেন। বাস্তবে ঐতিহাসিকভাবে কোনো আমেরিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জাতীয় নির্বাচনী বিতর্কে মুসলমানদের পক্ষে কথা বললেন। এর বিনিময়ে আমেরিকান মুসলমানেরা একজোট হয়ে নির্বাচনে সক্রিয়ভাবে বুশের পক্ষ নেন। দরজায় কড়া নেড়ে শেষে ইহুদি লবির বিপরীতে বুশকে বিজয়ী করেন। আগে মুসলমানেরা ব্যক্তিগত পছন্দ অনুসারে ভোট দিতেন; জোটবদ্ধভাবে একপাল্লায় এবারই প্রথম ভোট। বুশ জয়ী হলেন, নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণে ইনভেস্টরস বিজনেস ডেইলি এক নিবন্ধে লিখলÑ আমেরিকান মুসলমানদের জন্য এটা বিজয়ের চেয়ে অনেক বেশি ছিল।’ কিন্তু বুশ ক্ষমতার মসনদে গিয়ে প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে সিক্রেট এভিডেন্স বহাল রাখেন আর হোয়াইট হাউজ নির্বাচনকে চিরতরে মুসলিম ভোটের প্রভাব বলয়মুক্ত রাখার নীলনকশা হিসেবে নাইন-ইলেভেন নাটক মঞ্চস্থ করেন।
নাইন-ইলেভেনের এক গোপন স্যাটেলাইট ইমেজ রয়েছে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের কাছে। এমনটাই দাবি করলেন রাশিয়ার কূটনীতিকেরা। জানা গেছে, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে জঙ্গি হামলার এমন এক ছবি তার কাছে রয়েছে, যা দিয়ে প্রমাণ করা সম্ভব, কাজটা আসলে করিয়েছিল আমেরিকাই। এই ছবি নাকি প্রমাণ করবে, বিশ্বের ভয়ঙ্করতম জঙ্গি হামলার দায় আসলে মার্কিন প্রশাসন ও মার্কিন গোয়েন্দাদের। এমনটাই দাবি জানিয়েছে রাশিয়া। মস্কোর প্রাভদা নামের সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে এমন রিপোর্ট। বিভিন্ন সূত্র থেকে এখন ফাঁস হয়ে পড়েছে, আমেরিকা নিজেই নাইন-ইলেভেন ঘটিয়েছিল।
মূল কথা, মিডিয়া সুকৌশলে একটি বার্তা আমেরিকানদের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব নেয় যে, মুসলমানরা সন্ত্রাসী, মুসলমান হওয়া মানে সন্ত্রাসী হওয়া এবং এই লক্ষ্যে তারা জিহাদ করছে এই ভূখণ্ডে।’ এসব প্রোপাগান্ডা থেকে এটা সহজেই উপলব্ধি করা যায়, ইহুদি লবি ইসলামোফোবিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সমাজ ও সরকারকে কত বেশি প্রভাবিত করতে সক্ষম হয়েছে। ২০০১ সালে নয়-এগারোতে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ইতিহাসের ভয়ঙ্করতম হামলা হলেও একই জায়গায় প্রায় আট বছর আগে ১৯৯৩- এর ২৬ ফেব্রুয়ারি বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে মুসলমানরা সন্ত্রাসীÑ এটা প্রমাণের সূচনার মাধ্যমে নীলনকশা প্রণীত হয়েছিল। বিশ্বনন্দিত সাময়িকী রিডার্স ডাইজেস্টে বিশ্ব বাণিজ্যকেন্দ্রে এই বিস্ফোরণের ওপর একটি নিবন্ধে বলা হয়- বোমা হামলার জন্য এ কেন্দ্রটি বেছে নেয়ার উদ্দেশ্য ছিল, এই টুইন টাওয়ারে বিশ্বের সব দেশের এবং সব জাতির লোক অবস্থান করে, যাদের সংখ্যা একটি শহরের লোকসংখ্যার কাছাকাছি হবে। অতএব, এ কেন্দ্রে কিছু হওয়ার অর্থ হচ্ছে- বিশ্বের সব জাতি ও দেশের এবং বিশ্ব অর্থনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া। সিএনএনের প্রথম রিপোর্টে স্বীকার করা হয়, যদি বোমা হামলাকারীরা বিশ্ব বাণিজ্যকেন্দ্রের ধ্বংস করার পরিকল্পনা করত, তাহলে বিস্ফোরক রাস্তার সমতলে বসাত, যার ফলে শত শত লোক হতাহত হতো। বাল্টিমোর নিউট্রেন্ড পত্রিকা লিখেছে- বোমা হামলাটি পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছিল, যার ফলে সবচেয়ে কম ক্ষতি হয়, সবচেয়ে কম লোক এর আওতায় পড়ে।’ বিষয়টি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, নিউ ইয়র্কের বিশ্ব বাণিজ্যকেন্দ্রে প্রথমে হামলা ছিল একটি আগাম অভ্যন্তরীণ কৌশল, যার লক্ষ্য ছিল প্রচারমাধ্যমে স্পর্শকাতর অনুভূতি সৃষ্টি করে মুসলমানদের সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত ও প্রচার করা এবং মুসলমানদের ব্যাপারে আমেরিকানদের সতর্ক ও উত্তেজিত করা। ১৯৯৩ থেকে ২০০১ পর্যন্ত ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয় মিডিয়া সন্ত্রাস। নীলনকশার শেষ বা চূড়ান্ত পর্যায়টি ছিল ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। মাত্র ১৫ মিনিটের ব্যবধানে আছড়ে পড়ল নিউ ইয়র্কের বিশ্ব বাণিজ্যকেন্দ্রে দু’টি যাত্রীবাহী বিমান।
আমেরিকান মুসলমানদের অবশ্য করণীয় হচ্ছে- এ থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন ধারা সৃষ্টি করা। বুশ যা করতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প এবার প্রকাশ্যে ঘোষণার মাধ্যমে সে পথেই এগোচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রে এবার নতুন কৌশলে ‘নাইন-ইলেভেন’।
যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামবিদ্বেষ ছড়াতে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে! মুসলমানদের প্রতি ভীতি ও ঘৃণা ছড়াতে প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার খরচ করা হয়েছে। এমনি একটি ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে কাউন্সিল অব আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস্ (সিএআইআর) ও ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণায়। 
লেখক : সাবেক শিক্ষক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

Friday, November 17, 2017

ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের ভিন্নমাত্রিক ব্যাখ্যা

নয়া দিগন্ত

২৭ অক্টোবর ২০১৭,শুক্রবার,

ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের ভিন্নমাত্রিক ব্যাখ্যা

                                                                               আলী রেজা

ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সাথে ইসলামের তুলনা নয়, 

এখানে করা হয়েছে টপ অব দ্য ওয়ার্ল্ডের সাথে 

পাঁচ স্তম্ভের। বালটিমোরে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের একটি 

বিল্ডিং রয়েছে, 

দর্শকদের আকৃষ্ট করার জন্যে প্র্রচারপত্রে লেখা [ 

TOP OF THE WORLD]. 

বিল্ডিংয়ের ছাদে রক্ষিত  টেলিস্কোপ দিয়ে সম্পূর্ণ 

শহর দেখার সুযোগ 

রয়েছে। মনে প্র্রশ্ন জাগলঃ এটা কী করে TOP OF 

THE WORLD হয়? 

বিল্ডিংটা বড়জোর ৩৯ তলা, আর এটা কি-না 

TOP OF THE WORLD? 

বিশ্বে ১০১ তলা বিল্ডিং থাকার পরও এই পুচকি 

বিল্ডিং কে কিভাবে TOP 

OF THE WORLD বলা যায়। বিষয়টা তাহলে 

কী? আর চুপ থাকা সম্ভব 

হলো না। প্র্রশ্ন করে জানতে পারলাম এই বিল্ডিং 

চার কোণা আকৃতির নয়, 

এটা হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু PENTAGONAL 

BUILDING, , আর সে 

জন্য এই নামকরণ।

মূলত ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের একদম ভুল ব্যাখ্যা 

সাধারণ জনমনে প্রচলিত। প্রচলিত ধারণা এই 

পাঁচটি কাজ বা দায়িত্ব পালনের নাম ইসলাম। 

আসলে হাদিসে উপমাটি দিয়ে ইসলামকে একটি 

বাড়ির সাথে তুলনা করে বলা হয়: স্তম্ভ ছাড়া 

যেমন কোনো বাড়ির কল্পনা সম্ভব নয়, তেমনি ইসলাম 

পাঁচ (ঈমান, নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত) স্তম্ভের 

ওপর দাঁড়িয়ে আছে। প্রশ্ন আসেঃ শুধু স্তম্ভ থাকলেই 

কি বাড়ির অস্তিত্ব বাস্তবে কল্পনা করা যায়? 

বাড়ির পরিপূর্ণতার জন্য দরকার ছাদ, দেয়াল, 

জানালা-দরজা, আসবাবপত্র, রান্নাঘর, শয়নকক্ষ আরো 

কত কি? এ সব কিছু মিলেই না হয় একটা বাড়ি! তবে 

সব কিছুর আগে দরকার স্তম্ভ, যার ওপর গড়ে 

উঠবে বাড়িটি। ঈমান, নামাজ, রোজা, হজ, 

জাকাত সামগ্রিক ইসলামের বুনিয়াদ বা ভিত। 

কুরআনে একটি আয়াতও পাওয়া যাবে না যেখানে 

বলা হয়েছে, এই পাঁচটি কাজের মাধ্যমে জান্নাত 

পাওয়া যাবে? কুরআন পাকে জান্নাতে যাওয়ার 

শর্ত হিসেবে যত আয়াত দেখা যায়, সেগুলোতে 

আরো একটি গুণের অধিকারী হতেই হবে জান্নাত 

লাভের জন্য। না হলে জান্নাত কপালে জুটবে না। 

জান্নাত লাভের জন্য তাকে অবশ্যই সৎকর্মশীল 

হতেই হবে। মূলত নামাজ, রোজা, হজ, জাকাতের 

লক্ষ্য হচ্ছে মানুষকে সৎকর্মশীল হিসেবে তৈরি 

করা।  জান্নাত লাভের শর্ত হিসেবে বিশ্বাসের সাথে 

সর্বত্র সৎকর্মের কথা জুড়ে দেয়া হয়েছে। জান্নাত 

লাভের সব আয়াতেই বিশ্বাসের সাথে সৎকর্মশীল 

হওয়াটা জরুরি ধরা হয়েছে।

‘যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তারাই সৃষ্টির 

সেরা। তাদের পালনকর্তার কাছে রয়েছে তাদের প্রতিদান চিরকাল 

বসবাসের জান্নাত, যার তলদেশে ঝরনা প্রবাহিত। তারা সেখানে থাকবে 

অনন্তকাল। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারা আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। এটা 

তার জন্য, যে তার পালনকর্তাকে ভয় করে।’ [৯৮(৭,৮)‘সৎকর্ম শুধু এই 

নয় যে, পূর্ব কিংবা পশ্চিম দিকে মুখ করবে; বরং বড় সৎকাজ হলো এই 

ঈমান আনবে আল্লাহর 

ওপর, কিয়ামত দিবসের ওপর, ফেরেশতাদের 

ওপর এবং সব নবী-রাসূলের ওপর, আর সম্পদ ব্যয় করবে তাঁরই মহব্বতে আত্মীয়স্বজন, এতিম-মিসকিন, মুসাফির-

ভিুক ও মুক্তিকামী ক্রীতদাসদের জন্য। আর যারা 

নামাজ প্রতিষ্ঠা করে, জাকাত দান করে এবং যারা 

কৃত প্রতিজ্ঞা 

সম্পাদনকারী এবং অভাবে, রোগে-শোকে ও যুদ্ধের 

সময় ধৈর্যধারণকারী, 

তারাই হলো সত্যাশ্রয়ী আর তারাই পরহেজগার।’ 

[2 (১৭৭)] 

‘যে সৎকর্ম করে, সে নিজের উপকারের জন্যই 

করে, আর যে অসৎ কর্ম করে, তা তার ওপরই 

বর্তাবে। আপনার পালনকর্তা বান্দাদের প্রতি 

মোটেই জুলুম করেন না’। [৪১(৪৬)]


‘নিশ্চয় যারা বিশ্বাস করে ও সৎকর্ম করে, তাদের 

জন্য রয়েছে অফুরন্ত পুরস্কার।’ [৪১(৮)]

জান্নাত লাভের জন্য ঈমান আনার সাথে সাথে 

সৎকর্ম করার কথা যে সব আয়াতে রয়েছে, তার 

একটি তালিকা এখানে দেয়া হলো :সুরাহ২, আয়াত 

১৪৮;সূরাহ ২০, আয়াত ১১২; সূরাহ ২১, আয়াত 

৮৫ ও ৮৬; সূরাহ ২২, আয়াত ১৪ ও ৫০; সূরাহ 

২৮, আয়াত ৬৭, ৮০ ও ৮৪; সূরাহ ২৯, আয়াত ৭, 

৯ ও ৫৮; সূরাহ ৩০, আয়াত ১৫ ও ৪৫; সূরাহ ৩১, 

আয়াত ৮, ৯ ও ২২; সূরাহ ৩২, আয়াত ১৯; সূরাহ 

৩৩, আয়াত ৩১; সূরাহ ৩৪, আয়াত ৪; সূরাহ ৩৭, 

আয়াত ১৯, ৮০, ১২০, ১২১ ও ১৩০-৩২; সূরাহ ৪১, 

আয়াত ৮, ৩৩ ও ৪৬; সূরাহ ৪০, আয়াত ৪০ ও 

৫৮; সূরাহ ৪৫, আয়াত ১৫; সূরাহ ৪৭, আয়াত ১২; 

সূরাহ ৫২, আয়াত ২১; সূরাহ ৮৪, আয়াত ২৪; 

সূরাহ ৮৫, আয়াত ১১; সূরাহ ৯৮ আয়াত ৭ ও ৮।

এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হচ্ছে  সৎকর্মশীল 

ব্যক্তিকে জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে এবং কাজে সৎ 

হতে হবে বা সততার পরিচয় দিতে হবে। 

সৎকর্মশীলতার প্রতিযোগিতা সারাজীবন করে 

যেতে হবে। দিনের কিছু সময় সৎ থেকে অন্য সময় 

অসৎ থাকলে সৎকর্মশীল হিসেবে পরিচয় দেয়ার 

সুযোগ একেবারেই নেই। দিনরাত ২৪ ঘণ্টাই সৎ 

হতে হবে। দিনের কিছু কাজে সৎ আর বাকিটায় 

অসৎ এই প্রতারণার সুযোগ একেবারেই নেই। 

সৎকর্মশীল মানুষ সারাজীবন সৎকর্মের ওপর 

অবিচল থাকবে। শেষ বিচারের দিন সব ফাঁস হয়ে 

পড়বে। মসজিদের দেশ যার প্রতিটি জায়গায় 

আজানের ধ্বনি শোনা যায়, সে দেশ যদি দুর্নীতিতে 

শিরোপা লাভের সৌভাগ্য অর্জন করতে পারে, 

তার অর্থ দাঁড়ায় বিশ্বের সব দেশ থেকে বেশি 

অসৎকর্মশীল মানুষ এ দেশে বাস করে। 

দুর্নীতিবাজদের আখড়া। জান্নাতে যাওয়ার 

অন্যতম শর্ত হচ্ছে সৎকর্ম। আর সব গুণ থাকলেও 

অসৎকর্মশীল ব্যক্তি জান্নাতের ধারেকাছেও যেতে 

পারবে না। নামাজি, দ্বীনদার হওয়ার মূল কথা 

হচ্ছে সৎকর্মশীলতা। বাহ্যিকভাবে যত বড় বুজর্গ, 

পীর, দ্বীনদার হোক না কেন একমাত্র  ঈমানদার ও 

সৎকর্মশীলরাই জান্নাতে যাবে। জান্নাতে যাওয়ার 

শর্ত হচ্ছে সারাজীবন পার্টটাইম নয় ফুলটাইমই 

সৎকর্মশীল হতেই হবে। কারণ প্রতিটি কাজের, 

মুহূর্তের এবং নিয়তের ওপরই নির্ভর করবে সে 

কোন ধরনের সৎকর্মশীল। সুবিধাবাদী সৎকর্মশীল 

না মন-মানসিকতা ও কাজে প্রকৃত অর্থে জীবনে 

সার্বক্ষণিক ভাবে সৎকর্মশীল।

প্রায় এক যুগ আগে উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশ 

কমিউনিটির একটি সমাবেশের শুরুতে আমি এ 

বিষয়ের ওপর 

সংক্ষিপ্ত র্দস দিয়েছিলাম। মনে পড়ে পরবর্তী 

বক্তারা 

সবাই এ বিষয়ের 

ওপর পজিটিভ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন।

লেখক : সাবেক শিক্ষক, জাহাঙ্গীরনগর 

বিশ্ববিদ্যালয়

Friday, October 13, 2017

স্রষ্টাকে জানার একমাত্র উপায়

       আল্লাহকে জানার কোন পথ তার বান্দার জন্য খোলা রাখেননি। একটি মাত্র পথ খোলা আছে-তাকে জানা সম্ভব নয়।এটাই জানার পথ।- হযরত আবু বকরের (রাঃ) এই কথাটি লেখাছিল আমার ছোটো বেলার নোট বইতে। বড় হলে আমি লিখব, লেখা ছাপা হবে সে চিন্তা তখন একদম ছিলনা। তাই রেফারেন্স লিখে রাখিনি। বেশ আগে নয়া দিগন্তে  আমার  লেখায় এটি জুড়ে দেই। ছাপা ও হয়। এক ফেসবুক বন্ধু প্রশ্ন করেন - এ কেমন ক্থা; পরস্পর বিরোধী কথা নয় কি? বললামঃ অসীম এর ধারনা কারো জানা নেই। মহাবিশ্ব অসীম কিন্ত আমরা জানিনা অসীম কি? অসীম সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি সেই সৃষ্টিকে আমরা জানিনা বা জানার কোন পথ আমাদের কাছে একদম নেই। যেখানে একটা নগণ্য সৃষ্টি কেই আমরা জানিনা সেখানে এরই স্রষ্টাকে জানার সুযোগ আমাদের কোথায়!    'তাঁর সৃষ্টিকে অনুভব করা যায়, কিন্তু তাকে কল্পনা করা যায় না।’........আইনস্টাইনের  ভাষায়ঃ

‘নিশ্চয়ই এর পেছনে রয়েছে এক অকল্পনীয় মহাজ্ঞানী সত্তার এক রহস্যময় অভিপ্রেত। বিজ্ঞানীর দূরভিসারী জিজ্ঞাসা সেখানে বিমূঢ় হয়ে যায়। বিজ্ঞানের চূড়ান্ত অগ্রগতিও সেখান থেকে স্তব্ধ হয়ে ফিরে আসবে। কিন্তু সেই অনন্ত মহাজাগতিক রহস্যের প্রতিভাস বিজ্ঞানীর মনকে এই নিশ্চিত প্রত্যয়ে উদ্বেল করে তোলে যে, এই মহাবিশ্বের একজন নিয়ন্তা রয়েছেন। তিনি অলৌকিক জ্ঞানময়, তাঁর সৃষ্টিকে অনুভব করা যায়, কিন্তু তাকে কল্পনা করা যায় না।’
রাসুলুল্লাহ স্রষ্টাকে নিয়ে নয় বরং তার সৃষ্টি নিয়ে আমাদের গবেষনা, চিন্তা ভাবনা করতে নির্দেশ দিয়েছেন। আসলে আল্লাহকে জানার একমাত্র পথ / উপায় হচ্ছে তার সৃষ্টিকে অনুধাবনের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে এটা হৃদয়ঙ্গম করা ~যিনি এর স্রষ্টা তিনি আরও কত বড়, মহান -আর সব প্রশংসা কেবলমাত্র তারই জন্য। 
 কেবলমাত্র চোখের দিকে তাকান। বিজ্ঞানীদের হিসাব মতে, মানুষের একটি চোখ ৭০০ টি সুপার ডিজিটাল ক্যামেরার সমান। এই চোখ কে দিয়েছে আমাদের?
আমাদের ব্রেইন সম্পর্কে জানেন? গবেষণা মতে, একজন মানুষের ব্রেইনের ক্ষমতা কয়েক শ সুপার কম্পিউটারের চাইতেও বেশি।
আমাদের শরীরের DNA সম্পর্কে কতটুকু জানি? এমনকি  নাস্তিক বিজ্ঞানী রিচার্ড ডকিন্স DNA সম্পর্কে বলেছেন,-
‘There is enough information capacity in a single human cell to store the Encyclopaedia Britannica, all 30 volumes of it , three or four Edittimes over’.
অর্থাৎ, একটি DNA তে এতো পরিমাণ স্পেস আছে যেখানে চাইলেই আপনি ৩০ ভলিউমের ৩-৪ টি এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা লিখে রাখতে পারবেন। একটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র DNA সেলের মধ্যে এই ক্ষমতা কে দিয়েছে? কোন মানুষ? কোন বিজ্ঞানী? নাহ! কে তিনি?
এই প্রশ্নের উত্তর পেতে আমরা এমন একজন দার্শনিকের শরণাপন্ন হতে পারি যাকে বিংশ শতাব্দীর নাস্তিকদের 'Spiritual Leader' বলা হতো। কিন্তু তিনি পরে নাস্তিকতা ছেড়ে আস্তিক হয়ে যান। তাঁর নাম Antony Flew..
DNA' র এই বিস্ময়কর কাজ দেখে তিনি বলেছেন,- ‘almost entirely because of the DNA investigations . What I think the DNA material has done is that it has shown, by the almost unbelievable complexity of the arrangements which are needed to produce( life ), that intelligence must have been involved in getting these extraordinarily diverse elements to work together'
অর্থাৎ, DNA ইনভেস্টিগেশন থেকে তিনি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, প্রাণ (Life) সৃষ্টিতে অবশ্য  অবশ্যই Intelligence তথা বুদ্ধিমান সত্ত্বার উপস্থিতি আবশ্যক। সেই বুদ্ধিমান সত্ত্বা কে?
পৃথিবীর কোন বিজ্ঞানী?  তিনি হলেন স্রষ্টা।
এরকম মহাকাশের  গ্রহ, নক্ষত্র, গ্যালাক্সিগুলোর দিকে তাকাই। 
ওপেন স্ট্রীটম্যাপের মতো ফ্রিম্যাপ ব্যবহার করে কম্পিউটার ডাটার মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে বরফাচ্ছন্ন এলাকাসহ সব সমুদ্রের উপকূলীয় এলাকার দৈর্ঘ্য ১১ লাখ কিলোমিটারের মতো।
যার মধ্যে তিন লাখ কিলোমিটার এলাকা বালুময় সৈকত।
এখন যদি তারার সংখ্যার সঙ্গে তুলনা করতে হয়, তাহলে দেখা যাবে, মহাবিশ্বে তারার সংখ্যা ১০ সেক্সটিলিয়ন, যেখানে বালুকণার সংখ্যা হবে চার সেক্সটিলিয়ন। তাহলে এটি ঠিকই যে মহাবিশ্বে বালুকণার চেয়ে তারার সংখ্যা বেশি। সূত্র : বিবিসি।
 
NASA (13 October 2016 ) থেকে পাওয়া তথ্য,দুই ট্রিলিয়ণ ছায়াপথআছে মাত্র ১০শতাংশ মহাবিশ্বের  মধ্যে।  কিন্ত ছায়াপথগুলোর৯০শতাংশর খোজ এখনও বাকি।ছায়াপথ হচ্ছে  এমন একটি সিস্টেম যেখানে মিলিয়ন থেকে বিলিয়ন সংখ্যক তারা মাধ্যাকর্ষনের টানে  এক সাথে আটকে থাকে। গানিতিক মডেল ব্যবহার করে জ্যোতি বিজ্ঞানীরা ‘অদৃশ্যমান’ ছায়াপথ গুলোকে 
 শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন । কেননা এই সব ছায়াপথ টেলিস্কোপের 
 আওতায় আসে না।সেখান থেকে ই ধারনা করা হচ্ছে,মানুষের  
ধারনারওবাইরে রয়ে গেছে আরওলাখ লাখ ছায়াপথ।সূত্রঃগার্ডিয়ান।   তার মাণে দাড়ায় মহাবিশ্বে ২০ ট্রিলিয়ণ ছায়াপথ ছাড়িয়ে    যেতে পারে!              
         Kornreich (কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের 'Ask an Astronomer'  এর  ফাউনডার) মহাবিশ্বে ১০ ট্রিলিয়ন ছায়াপথ ধরে একটি রাফ হিসাব বের করেছেন- ছায়াপথের ১০০ বিলিয়ন তারকার সাথে এই সংখ্যা গুণ করলে হয় ১০০ অকটিলিয়ন (octillion) তারকা। তার মানে ১ এর সাথে ২৯টা শূন্য। Kornreich জোর দিয়ে বলেন, এটা সাধারণ হিসাব, তবে গভীর পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, মহাবিশ্বে ছায়াপথের সংখ্যা আরো বেশি।

 আবার সবচেয়ে বড় তারকাগুলো সূর্যের চেয়ে পাঁচ শ’ গুণ শুধু বড় নয়, সেই সাথে এক লাখ গুণ বেশি উজ্জ্বল। ছায়াপথের কেন্দ্রে অবস্থিত যে কৃষ্ণগহ্বর বা ব্ল্যাকহোল তার ভর তিন মিলিয়ন সূর্যের সমান হয়ে থাকে। আপনি যদি প্রতি সেকেন্ডে একটি করে তারকা গণনা করেন, সে ক্ষেত্রে এই হারে সব তারকা গুনতে পাঁচ হাজার বছর লাগবে। ছায়াপথগুলো মহাকাশে এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে না থেকে সঙ্ঘবদ্ধভাবে একে অপর থেকে বহু দূরত্ব বজায় রেখে অবস্থান করে। সব ছায়াপথ এক করলে তারা মহাশূন্যের এক মিলিয়ন ভাগের এক ভাগ স্থান দখল করবে, যার অর্থ দাঁড়ায় বাস্তবে মহাশূন্য এত বিশাল যে, বিজ্ঞানের সুপার কল্পকাহিনী পর্যন্ত এর কাছে হার মানবে।
 যে ছায়াপথটি যত দূরে অবস্থিত  তার দূরাপসারণের গতিও তত বেশি। দেখা যায়এক মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরের ছায়াপথ প্রতি সেকেন্ডে২২.৪ কিলোমিটার বেগে এবং দুই মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরের ছায়াপথ প্রতি সেকেন্ডে ৪৪.৮কিলোমিটার বেগে দূরাপসরণ করছে। অবাক বিস্ময়ের সাথে   ভাবার বিষয়,বাস্তবে প্রতিনিয়ত মহাবিশ্ব আমাদের থেকে কত দূরে বিস্তৃতি লাভ করছে!

প্রত্যেক জায়গায় আমরা  দেখতে পাব তার অপার সৃষ্টি রহস্য।

Wednesday, September 20, 2017

Conversation: It is impossible to create something out of nothing.

M Ali Reza ·

বিজ্ঞান বলছেঃ
It is impossible to create something out of nothing.
তাই জদি হয় তখন বিবর্তন নাথিং থেকে কি ভাবে হলো?
বিবর্তনের নিয়ম নাথিং কিভাবে আরম্ভ করলো ?
নাথিং থেকে কেব্ ল মত্র নাথিংই সম্ভব , অবশ্যই বিবর্তন নয়।
বিজ্ঞান এইই বলে । সব নাথিং / ফেইক। বিবর্তন ?

Plabon Dutta ·
I don't know which science you are talking about. Science never told that it was impossible to create something out of nothing, Sir. Paul Dirac proved this years ago. You should study a bit about something called: "Dirac's Equation" and "Quantum Mechanics"!! 
লাইকজবাব দিন521 জুলাই 2016 05:30 PMসম্পাদিত
M Ali Reza ·
Plabon Dutta Only if you assume, "A vacuum is a balanced combination of matter and antimatter, or particles and antiparticles. " then you can . But from where you could get matter and antimatter.Nothing is absolutely nothing, no trace of anything.Then Nothing will give only Nothing.
লাইকজবাব দিন421 জুলাই 2016 06:32 PM
M Ali Reza ·
Nothing (empty space without energy) is only a logical state!

The General Relativity Vacuum is a space-time model region without matter.

and Luboš Motl says: "By definition, the space without energy is the space whose total value of energy is equal to 0."

But this is only mathematical Euclidean space + time so this is only a mathematics and not physics! With other words: this is only a method of mathematical mapping. But, in real (not theoretic) physics we can't mapping empty things. Empty is only a logical state!