Thursday, October 31, 2019

আজকের বিজ্ঞান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি কী?

আজকের বিজ্ঞান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি কী?
                                   মুহাম্মাদ আলীরেজা। নয়া দিগন্তঃ রবিবার,২১ মে ২০১৭
আরবিতে‘জুমলাহ’অর্থবাক্যহলেও দুনিয়ার সব মুসলমান কুরআন পাকের বাক্যকে বাক্য (জুমলাহ) না বলে আয়াত বলে থাকে। আসলে আয়াত অর্থ নিদর্শন।যুক্তরাষ্ট্রের একটি সর্বাধিক বিক্রীত বই হচ্ছে,ক্যারেন আর্মস্ট্রংয়ের ‘অ্যা হিস্ট্রি অব গড’। এতে বর্ণিত হয়েছে,‘কুরআন পাকে সব সময়ই বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে আল্লাহ পাকের নিদর্শন বা বাণীর (আয়াত) রহস্য উদঘাটনের বিষয়কে আর এ কারণেই ইসলামের অনুসারীরা যুক্তি ও কারণকে এড়িয়ে না গিয়ে গভীর মনোযোগ এবং বিশেষকৌতূহলের সাথে পৃথিবীর সব কিছুকে পর্যবেক্ষণ করছে।এই মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গির ফলে পরে দেখা যায় প্রাকৃতিক বিজ্ঞানে (ন্যাচারাল সায়েন্স) মুসলমানদের এক উৎকৃষ্ট ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে, যা কখনো বিজ্ঞানের সাথে ধর্মের বিরোধ বা সংঘর্ষ ঘটায়নি।অথচ খ্রিষ্টান ধর্মে সেটা দেখা গেছে।’
           ‘মুহাম্মাদ দ্য প্রফেট অব ইসলাম’গ্রন্থে প্রফেসর রাও লিখেছেন, "কুরআন পাকে যতগুলো আয়াত মৌলিক ইবাদত সম্পর্কিত তার চেয়ে অনেক বেশি সেই সম্পর্কিত আয়াত যেখানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে প্রকৃতি বা সৃষ্টিরহস্য নিয়ে গভীরভাবে চিন্তাভাবনা, পর্যবেক্ষণ ও অনুসন্ধানের। আরবীয় মুসলমানেরা এইপ্রেরণায় প্রকৃতির রহস্য নিয়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ শুরু করে দিয়েছিলেন, যেটা বর্তমান সময়ের বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষা ও গবেষণার মূলনীতির ভিত্তি নির্মাণ করে, যা অজ্ঞাত ছিল গ্রিকদের কাছে।'' এটা কি ভাবে সম্ভব হয়েছে-পবিত্র কোরআন সরাসরিভাবেই বলছেঃ "যারা দাঁড়িয়ে, বসে ও শুয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং আসমান ও জমিনের সৃষ্টি নিয়ে‏ গবেষণা করে, (তাঁরা বলে) হেআমাদের প্রভু, আপনি এসব কিছুই অনর্থক সৃষ্টি করেননি। সকল পবিত্রতা আপনার-ই। আমাদেরকে আপনি দোযখের আগুন থেকে রক্ষা করুন"।[সূরাআলেইমরান,১৯১]
  আসল কথা হচ্ছেঃবাস্তবে কিন্ত প্রকৃতির সব কিছুই আল্লাহর নিদর্শন; যেমন বায়ু, পানি, গাছপালা, মাটি, প্রাণী, সমুদ্র, পাহাড় এবং আরো কত অগণিত জিনিস। এসবই আল্লাহ পাকের বিশেষ উপহার। এগুলোর কোনো কিছুই মানুষ বানাতে পারে না, তেমনি কিন্ত কুরআন পাকের কোনো বাক্যের সমতুল্য কোনো বাক্যও মানুষের পক্ষে বানানো সম্ভব হয়নি বা নয়। জগতের সব মুসলমান কুরআনের বাক্যকে শুধু ‘বাক্য’ না বলে এ কারণে ‘আয়াত’(আল্লাহ পাকের নিদর্শন) বলে অভিহিত করেন বলে উল্লেখ করেছেন ক্যারেন আর্মস্ট্রং তার বই ‘অ্যা হিস্ট্রি অব গড’এ; বইটি আমেরিকায় সর্বাধিক পঠিত বইয়ের মধ্যে তালিকাভুক্ত। আজকের বিজ্ঞানের উদ্ভাবক একটি ধর্ম, এই ঐতিহাসিক রেকর্ডটি সংরক্ষিত রয়েছে ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বিশ্বের সবচেয়ে বড় পাঠাগার ‘লাইব্রেরি অব কংগ্রেস’-এ।আসলে ঐতিহাসিকভাবে আদিতে বিজ্ঞান বলতে শুধু পদার্থবিজ্ঞানকে বোঝানো হতো। বর্তমানেও পদার্থবিজ্ঞানের সূত্র, তত্ত্ব এবং আবিষ্কৃত কলকব্জা ও যন্ত্রপাতি ব্যতিরেকে বিজ্ঞানের অপরাপর শাখাগুলো হয় ‘ভোঁতা’, না হয় নিষ্প্রাণ হয়ে পড়বে। বিদ্যুৎ, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, কম্পিউটার, রোবট, ইন্টারনেট অর্থাৎ দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত সব কিছু প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে পদার্থবিজ্ঞানেরই ফসল বা অবদান।                        
 প্রাণ পদার্থবিজ্ঞান, ভূপদার্থবিজ্ঞান, মহাকাশ পদার্থবিজ্ঞান ইত্যাদি হরেকরকম নামকরণ থেকে সহজেই ধারণা করা যায়, মূল বিজ্ঞান পরিবারে পদার্থবিজ্ঞানের অবস্থান তার কেন্দ্র বিন্দুতে। চট্টগ্রাম ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষকতা করেছি, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় মেডিক্যাল রিসার্চ বিশ্ববিদ্যালয় জন্স হপকিন্সে প্রাণ পদার্থবিজ্ঞানে গবেষণা করেছি কিন্তু কোথাও শুনিনি, দেখিনি, পাইনি পদার্থবিজ্ঞানের উদ্ভাবক একটি ধর্ম! বিশ্বের সচেতন এবং অভিজ্ঞ মহল অবগত যে, রসায়ন, গণিত এবং জ্যোতিষশাস্ত্রে ইসলামের অনুসারীরা অভূতপূর্ব যুগান্তকারী অবদান রেখেছেন, কিন্তু একই সাথে পদার্থবিজ্ঞানের ও উদ্ভাবক ইসলাম ধর্ম এ রেকর্ডটি কোথায় লিপিবদ্ধ রয়েছে তা দেখার জন্য লাইব্রেরি অব কংগ্রেসে ঘুরে আসা যেতে পারে। ২০০ বছরেরও বেশি পুরনো বিশ্বের সবচেয়ে সমৃদ্ধ এই পাঠাগারের সব বই ওয়াশিংটন ডিসির তিনটি ভবনে সংরক্ষিত। ১৮৯৭ সালের জেফারসন ম্যাগনিফিসেন্ট ভবনটি শুধু দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। লাইব্রেরি অব কংগ্রেসের বিশাল সংগ্রহশালার মধ্য থেকে ২০০টি ঐতিহাসিক পুস্তক ভবনটির দ্বিতীয় তলার ট্রেজারি গ্যালারিতে সংরক্ষিত রয়েছে।এই তলার মাঝখানে একটি বড় গম্বুজ। গম্বুজের মধ্যে একেকটি চিত্রের নিচে একেকটি দেশের নাম। ব্যতিক্রম চোখে পড়ল, এত দেশের মধ্যে এক স্থানে শুধু একটি ধর্মের নাম। কোন দেশ কী উদ্ভাবন করেছে, সেটি গাইড আমাদের বুঝিয়ে দিলেন। দেশের নামের বদলে যে চিত্রের নিচে ‘ইসলাম’ লেখা ছিল, সেটি দেখিয়ে গাইড আমাদের বললেন, এটার মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে, পদার্থবিজ্ঞানের উদ্ভাবন করেছে ইসলাম ধর্ম।ওই সময়ে বাল্টিমোরে ইসলামিক সার্কেল অব নর্থ আমেরিকার বার্ষিক সম্মেলন চলছিল।প্রফেসর রাওয়ের লেখা ‘মুহাম্মাদ দ্য প্রফেট অব ইসলাম’ বইটি হাতে পাই।লেখকের বর্ণনা মতে, রবার্ট ব্রিফল্ট তার বিখ্যাত গ্রন্থ দ্য মেকিং অব হিউম্যানিটিতে অনেক উদাহরণ পরিবেশন করে সমাপ্তি টেনেছেন এভাবে- ‘আমাদের বিজ্ঞান আরব মুসলমানদের কাছেঋণী শুধু এটুকুর জন্য নয় যে,বিজ্ঞানকে তারা কেবল চমকপ্রদ আবিষ্কার অথবা বৈপ্লবিকবৈজ্ঞানিক তত্ত্ব উপহার দিয়েছে বিজ্ঞান আরবীয় সংস্কৃতির কাছে আরো অনেক বেশি ঋণী বিজ্ঞান তার নিজের অস্তিত্বের জন্য ঋণী।’ একই লেখক কথাটির ব্যাখ্যায় বলেছেন, গ্রিকরা নিয়মাবদ্ধ ও সর্বজনীন করা এবং তত্ত্ব সম্বন্ধে সিদ্ধান্ত নেয়ার পথ বাতলে দিয়েছিল,কিন্ত ধৈর্য ধরে গবেষণার পদ্ধতি, সন্দেহাতীত জ্ঞানকে পুঞ্জীভূতকরণ, বিজ্ঞানের প্রতিটি ক্ষুদ্রব্যাপারেও বিশদ পরীক্ষণ পদ্ধতি, বিস্তারিত ও দীর্ঘ প্রসারিত নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষামূলক অনুসন্ধানএসবই গ্রিক মানসিক ধাত বা মেজাজে ছিল বহিরাগত। আমরা যেটাকে আজ বিজ্ঞান বলি, তার উত্থান ইউরোপে হয়েছিল নতুন পদ্ধতি গবেষণার ফলে এবং পরীক্ষা, পর্যবেক্ষণ, পরিমাপন ও গণিতশাস্ত্রের উন্নয়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যে পদ্ধতিগুলো গ্রিকদের কাছে অজানা ছিল... ইউরোপকে আরবীয় মুসলমানেরা এসব মূলনীতি ও পদ্ধতিগুলো পরিচয় করিয়ে দেয়। রবার্ট ব্রিফল্ট যেসব উদাহরণ থেকে এই মন্তব্যে পৌঁছেছেন সেসবের মধ্যে রয়েছে : মুসলিম উদ্ভিদবিজ্ঞানী ইবনে বতুতা বিশ্বের সব অঞ্চল থেকে উদ্ভিদ সংগ্রহ করে যে গ্রন্থ লিখেছেন সেটিকে World famous : The Giant Bible & The Giant Bible of Maing-তে অধ্যবসায়ের এক উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অপর দিকে আল বিরুনি ৪০ বছর ভ্রমণ করেছিলেন মানিকবিদ্যা সম্পর্কিত (মিনারোলজি) নমুনা সংগ্রহের জন্য এবং মুসলিম জ্যোতির্বেত্তারা এমন সব পর্যবেক্ষণ পর্যন্ত চালিয়েছেন, যেসব পর্যবেক্ষণ ১২ বছর দীর্ঘায়িত হয়েছিল। পক্ষান্তরে অ্যারিস্টটল পদার্থবিজ্ঞানের ওপর একটি বই লিখেছেন, এমনকি কোনো পরীক্ষা না চালিয়েই এবং প্রকৃতির ইতিহাসের ওপর গ্রন্থ রচনা করেছেন একেবারেই নিশ্চিত না হয়ে, অসতর্কতার সাথে বলেছেন প্রাণীদের চেয়ে মানুষের অর্ধেক দাঁত রয়েছে এ তথ্য অতি সহজেই অনুসন্ধান করা যেত। গ্যালেন, যিনি ক্লাসিক্যাল অ্যানাটমির নির্ভরযোগ্য বিশেষজ্ঞ, জানিয়েছিলেন যে নিচের চোয়াল দু’টি হাড় দিয়ে গঠিত। এ প্রতিবেদনটি শতাব্দী ধরে গ্রহণ করে নেয়া হয়েছিল একেবারে কোনো আপত্তি ছাড়াই, যখন পর্যন্ত না আবদুল লতিফ কষ্ট স্বীকার করে মানুষের কঙ্কাল পরীক্ষা করে এর সত্যমিথ্যা যাচাই করলেন। নিচের তালিকা বলে দিচ্ছে বিজ্ঞান জগতে মুসলিম বিজ্ঞানীদের অবদানঃ
* রসায়নের জনক— জাবির ইবনে হাইয়ান
* বিশ্বের সেরা ভূগোলবিদ— আল-বিরুনি
* আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের জনক— ইবনে সিনা
* হৃদযন্ত্রে রক্ত চলাচল আবিষ্কারক—ইবনুল নাফিস
* বীজগণিতের জনক— আল-খাওয়ারিজমি
* পদার্থ বিজ্ঞানে শূন্যের অবস্থান নির্ণয়কারী— আল-ফারাবি
* আলোক বিজ্ঞানের জনক— ইবনে আল-হাইসাম
* এনালিটিক্যাল জ্যামিতির জনক— ওমর খৈয়াম
* সাংকেতিক বার্তার পাঠোদ্ধারকারী— আল-কিন্দি
* গুটিবসন্ত আবিষ্কারক— আল-রাযী
* টলেমির মতবাদ ভ্রান্ত প্রমাণকারী —আল-বাত্তানি
* ত্রিকোণমিতির জনক — আবুল ওয়াফা
* স্টাটিক্সের প্রতিষ্ঠাতা — ছাবেত ইবনে কোরা
* পৃথিবীর আকার ও আয়তন নির্ধারণকারী—বানু মুসা
* মিল্কিওয়ের গঠন শনাক্তকারী — নাসিরুদ্দিন তুসি
* এলজাব্রায় প্রথম উচ্চতর পাওয়ার ব্যবহারকারী — আবু কামিল
* ল’ অব মোশনের পথ প্রদর্শক— ইবনে বাজ্জাহ
* ঘড়ির পেন্ডুলাম আবিষ্কারক — ইবনে ইউনূস
* পৃথিবীর ব্যাস নির্ণয়কারী— আল-ফরগানি
* পৃথিবীর প্রথম নির্ভুল মানচিত্র অঙ্কনকারী— আল-ইদ্রিসী
* বিশ্বের প্রথম স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের আবিষ্কারক —আল-জাজারি
* সূর্যের সর্বোচ্চ উচ্চতার গতি প্রমাণকারী—আল-জারকালি
* বীজগণিতের প্রতীক উদ্ভাবক — আল-কালাসাদি
   স্পষ্টত ঐতিহাসিক বাস্তবতা বলছে, ধর্ম বিজ্ঞানবিরোধী এবং এ দুয়ে সহাবস্থান সাংঘর্ষিক, অন্যান্য ধর্মের সাথে এ ধরনের বক্তব্যের মিল খুঁজে পাওয়া সম্ভব হলেও ইসলামের ব্যাপারে এটা ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত যে, সত্যিকার বিজ্ঞান বলতে আজ আমরা যেটাকে বলে থাকি এবং বুঝে থাকি, ঐতিহাসিক রেকর্ড প্রমান করছে, প্রকৃতপক্ষে ইসলামের অনুসারীরাই সেই আদি বিজ্ঞানের উদ্ভাবক।
    আবার ইতিহাস বলছে, বিশ্বের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ৮৫৯সালে একটি মসজিদের অংশ হিসেবে।মরক্কোর এই কারওয়াইন বিশ্ববিদ্যালয়টি হচ্ছে ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্বেরপ্রথমবিশ্ববিদ্যলয়। গিনেস বুকের রেকর্ড অনুসারেও মরক্কোর ফেজ নগরীর কারওয়াইন বিশ্ববিদ্যালয় পৃথিবীর সর্বপ্রথম বিশ্ববিদ্যালয়।ফাতেমা নামে এক মহীয়সী নারী পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত সব অর্থ ব্যয় করেছিলেন তার সমাজের লেখকদের জন্য একটি মসজিদ তৈরির পেছনে এই মসজিদ হয়ে ওঠে ধর্মীয় নির্দেশনা এবং জ্ঞানবিজ্ঞানের আলোচনার স্থান।মসজিদটি পুরোপুরি নির্মাণে লেগে যায় ২৭৮ বছর। পৃথিবীর সর্বপ্রথম কারওয়াইন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠারও দুইশত বছরের অনেক পরে ইতালির বোনায় ১০৮৮ সালে প্রথম ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।তারও আগে কারওয়াইন হয়ে ওঠে এক বিশ্ববিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়। ফেজকে তখন বলা হতো ‘বাগদাদ অব দ্য ওয়েস্ট’। ইন্টারনেটের বক্তব্যঃ The oldest existing, and continually operating educational institution in the world is the University of Karueein, founded in 859 AD in Fez, Morocco. The University of Bologna, Italy, was founded in 1088 and is the oldest one in Europe.
  বৃটিশ গোয়েন্দা ও লেখক উইলিয়াম হান্টার তার দি ইন্ডিয়ান মুসলমান্স বইতে লিখেছেন, মুর্শিদাবাদের মতো এমন সুন্দর নগরী সেকালে ইউরোপে ছিল না। তিনি আরো লিখেছেন, দিল্লীর এক মাদ্রাসা শিক্ষকের সাথে আলাপ হলো। অত্যন্ত বিচক্ষণ ব্যক্তি তিনি। বিজ্ঞান, দর্শনসহ সব বিষয়ে এমন পন্ডিত ব্যক্তি আমি খুব কম দেখতে পেয়েছি। বর্তমানে মুসলিম বিশ্বে স্বনামধন্য আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় মূলত আদিতে ছিল একটি মসজিদ। একটি মসজিদ হিসেবে এটির ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। যেহেতু মসজিদ জ্ঞানচর্চার মূলকেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হতো এটি ধীরে ধীরে সম্প্রসারিত হয়ে শেষে একটি বিরাট বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ নেয়।‘ইসলামের এক গৌরবময় কীর্তি হচ্ছে কুরআন, হাদিস ও মুসলিম বিধানশাস্ত্র ফিকাহর অধ্যয়ন অনুশীলনের অনুরূপ অন্যসব জ্ঞান-বিজ্ঞানের সাধনাকেও সমান আসন ও মর্যাদা দিয়েছে এবং মসজিদের মধ্যেই তাকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।’ পাশ্চাত্য চিন্তাবিদের এই মন্তব্য থেকে স্পষ্টত উপলব্ধি করা যায় দুনিয়ার সুখ, কল্যাণেরজন্য মুসলমানেরা কাজ করছে আর তার বিনিময়ে আখেরাতের কল্যাণ লাভে তারা সফল হবে। ‘তোমরা স্ত্রীদের সাথে মেকিং লাভের জন্য পুরস্কৃত হবে’ রাসূলুুল্লাহ সা:-এর কাছ থেকে এ কথা শোনার পর সাহাবিরা জানতে চাইলেন, ‘যে কাজে আমরা সবচেয়ে বেশি তৃপ্তি এবং মজা পাই তাতেও আমরা প্রতিদান পাবো?’ উত্তরে রাসূলুল্লাহ সা: বললেন, ‘তোমরা যদি এটা অনির্ধারিত পন্থায় নিতে তাহলে কি সে জন্য শাস্তি পেতে না?’ জবাবে উপস্থিত সাহাবিরা যখন বললেন ‘অবশ্যই পেতাম’, শুনে রাসূলুল্লাহ সা: বললেন, ‘তোমরা যে নির্ধারিত পন্থায় এটা উপভোগ করছো, সে জন্য তোমাদের পুরস্কৃত করা হবে।’ ইসলামে এমনকি জ্ঞানীদের ঘুমকেও ইবাদত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। লেখক:সাবেক শিক্ষক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

Tuesday, September 10, 2019

বুশের নাইন ইলেভেন মঞ্চস্থের আসল কারন জেনে সত্যিই অবাক হবেন!

বুশের নাইন ইলেভেন মঞ্চস্থের আসল কারন জেনে সত্যিই অবাক হবেন!
{ লেখাটির সমা্প্তিতে আছেঃ ট্রাম্পকে কেন বলা যায় ‘মডার্ন ডে Nostrodomas ' US Presidential hopeful Donald Trump "warned" of the horrific September 11 attack on the World Trade Center in a book published less than two years before the world's worst terror strikes happened, it is being claimed. By JON AUSTIN PUBLISHED: 03:42, Tue, Feb 23, 2016 | }
নয়-এগারোর ঘটনার ১৫ তম বার্ষিকী উপলক্ষে ইএসআই বা ইউরোপিয়ান সায়েন্টিফিক ইন্সটিটিউটের প্রকাশনা 'ইউরোপিয়ান সায়েন্টিফিক জার্নাল' বলছে: অব্যাহত নানা অনুসন্ধানের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে যে মার্কিন বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের টুইন টাওয়ার্স ধ্বংস করা হয়েছিল নিয়ন্ত্রিত ধ্বংস-প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
ঘটনা প্রবাহ বিশ্লেষণে সামগ্রিকভাবে গত বছ্রগুলোতে  যে জিনিষ গুলো বাস্তবে একেবারেই পরিষ্কারঃ
১) BLDG. # 7, সম্পুর্ণ controlled demolition, এটা এখন বিতর্কের উর্ধে।
২) কোন বিমান Pentagon কে আঘাত করেনি, ওটা ছিল missile, যা সবসময় আমেরিকার Air Force অথবা Navy এর নিয়ন্ত্রণে। তাছাড়া Pentagon এর কোন অংশে Renovation চলছে এটা বাইরের কারও জানার কথা না।
৯/১১ অজুহাত দিয়ে আমেরিকার সরকার জনমত সৃষ্টকরে ইরাকে আর আফগানিস্তানে এক মিলিয়নের বেশী মানব নিধন করে আর ৯/১১ এর পর আইন পাশ করে মানুষের মুখ চেপে ধরে রাখলেও তিনটা ঘটনা ৯/১১ কে বিতর্কিত করেছে। Building #7- ৪৭ তালা ভবন, কোন বিমান আঘাত করেনি অথচ পরিষ্কার ওটা ছিল controlled demolition, Free Fall, তারপর পেন্টাগনে যাত্রীবাহী বিমান ধংসের যাত্রীদের মালামাল আর মৃতদেহের কোন প্রমান সরকার দেখাতে পারেনি। আর Shanksville, Pennsylvania-তেও কোন যাত্রীবাহী বিমান ধ্বংসের নমুনা CNN, ABC, FOXNEWS তুলে ধরতে পারেনি।আসলে কিন্ত টুইন টাওয়ার ঘটনার আসল কারন/রহস্য ফাঁস হবে/ বেরিয়ে আসবে যদি বুশ- আল্ গোরের মধ্যকার জাতীয় টেলিভিশন বিতর্কে্র বিষয়ের দিকে অনুসন্ধানী দৃষ্টি নিবন্ধ করা হয়।।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বুশ আর তার প্রতিদ্বন্দ্বী আলগোরের মধ্যকার টেলিভিশন বিতর্ক প্রতিযোগিতাটি ছিল খুবই ইউনিক ও রোমাঞ্চকর। বিতর্কের একটি বিষয় থেকে এটা স্পষ্ট যে পরবর্তীকালে কেন বুশ সেই বিতর্কিত   ক্রশেডের ঘোষক এবং নাইন-ইলেভেনের পরিকল্পক হয়েছিলেন? ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আল গোর ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে বেছে নিলেন গোঁড়া ইহুদি লিবারম্যানকে। বুশে্র কাছে দিন রাতের মতোই পরিষ্কার হলো, ইহুদি সব ভোট আল গোরের পাল্লায় যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদি লবি খুবই সক্রিয় ও সুসংগঠিত আবার সাধারণত খ্রিষ্টান ভোট দুই ভাগে প্রায় সমানভাবে বিভক্ত হয়ে ভোটের ভারসাম্য মোটামুটি বজায় রাখে দুই দলের মধ্যে। এতদিন ধরে দেখা যায় , ইহুদি ভোট যে দিকে মোড় নেয় তারাই বিজয়ের হাসি দিতে নির্বাচনে সুবিধাজনক অবস্থায় থাকে।
ক্লিনটন তখন মসনদে। আমি মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোরে একদিন ঘুম থেকে উঠে এক অবিশ্বাস্য নাটকীয় সংবাদ জানতে পারি। হোয়াইট হাউজে ইসলামের চাঁদতারা পতাকা উড়ছে। ভয়ের কিছু ছিল না। কারণ আলকায়দার জন্ম তখনো হয়নি এবং বিন লাদেনেরও পাত্তা ছিল না, যিনি হোয়াইট হাউজে এসে এ ধরনের অঘটন ঘটানোর হিম্মত রাখেন। তবে সে সময় এখানকার মিডিয়ায় প্রচণ্ড ঝড় বয়ে যাচ্ছিল- যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুত সম্প্রসারণশীল ধর্ম হচ্ছে ইসলাম। এ সময়টিতে আমি বাল্টিমোর জনস হপকিন্সে গবেষণা করছি। এই বিশ্ববিদ্যালয়টি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় মেডিক্যাল রিসার্চ ইউনিভার্সিটি। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের হোমউড ক্যাম্পাসের লাইব্রেরির বেসমেন্টের দেয়ালে একটি তথ্য/লেখা আমার চোখে পড়ে- প্রতি বছর মুস্যলমানের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রে একশত হাজার(১০০,০০০)করে বাড়ছে। উল্লেখ্যঃ স্বাধীনতার পর থেকে দু’টি ধর্মের পতাকা হোয়াইট হাউজে উঠানো হতো যেহেতু এই দু' ধর্মের লোক অন্য সব ধর্মের চেয়ে সংখ্যায় অনেক বেশি ছিল। দেখতে দেখতে মুসলমানদের সংখ্যা ইহুদিদের টপকিয়ে যায়। মুসলমানদের সংখ্যা ইহুদিদের চেয়ে আর কম না হওয়ায় সরকারি ভাবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, এখন থেকে তিন ধর্মের পতাকা হোয়াইট হাউজে স্থান পাবে/উড়বে। ।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচন:
ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো ইহুদি (অখ্রিষ্টান) হোয়াইট হাউজের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন।স্পষ্টতঃ বাস্তবতা হচ্ছে আল্ গোরের প্যানেল সব ইহুদী ভোট পাচ্ছে কেননা এই প্যানেলে ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী একজন ইহুদী। পরিশেষে বুশ জয়ের বিকল্প পথ খোলা না দেখে দিশেহারা হয়ে মুসলমানদের দ্বারস্থ হন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এই প্রথম একজন প্রার্থী জাতীয় বিতর্কের সময়ে মুসলমানদের কাছে ভোট ভিক্ষা চান। সেই সময়ে মুসলমানদের প্রাণের একমাত্র দাবি ছিল, জননিরাপত্তা আইনে সংযুক্ত ‘সিক্রেট এভিডেন্স’ রহিত করা। আইনটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে সংযুক্ত হয়েছিল মুসলমানদেরকে সামাজিকভাবে চেপে রাখা ও কোণঠাসা করারই মানসে। এই সিক্রেট এভিডেন্সের দোহাই দিয়ে বা এর ফাঁকফোকড় তৈরি করে শুধু মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকদের জেলে পাঠানো হতো। বুশ দেখলেন, এ বিষয়ে কথা বললে সব মুসলমান ভোটারের ভোট অতি সহজে অনায়াসেই পাওয়া যাবে। প্রেসিডেন্ট বিতর্কের সময় তিনি সরাসরি বলেন : ‘নিরাপত্তা আইনে সিক্রেট এভিডেন্সকে discriminatory(বৈষম্যমূলক) মনে করি। ক্ষমতায় গেলে এটি বাতিল করব। জবাবে আল গোর বলেন : ‘আমি এটাকে বৈষম্যমূলক মনে করি না।’ [ লেখক  তখন যুক্তরাষ্ট্রে টিভিতে লাইভ বিতর্ক দর্শক।]
মুসলমান ভোটারদের মনে হলো, বুশ তাদের পক্ষ নিয়েছেন। এই প্রথম মুসলমানরা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে জোটবদ্ধভাবে একদিকে ভোট প্রয়োগ করেন।
আগে বিতর্ক ছিল, এদেশে ভোট প্রয়োগ জায়েজ কিনা? পরিস্থিতি এবং বুশের আশ্বাস সবকিছু পাল্টে দিলো।এমনকি বুশের পক্ষে সক্রিয়ভাবে নির্বাচনী প্রচারে জড়িয়েও পড়েন তারা। শেষে ইহুদি লবির সাথে প্রতিযোগিতায় বিজয় ছিনিয়ে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেন, মুসললমানরা ও মার্কিন মাটিতে রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনে এখন সক্ষম। মুসলিম ভোট ব্যাংকের শক্তির মহড়া কে বরং দেখা হলো যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে। প্রচারমাধ্যম এটা লুফে নিলো। ইনভেস্টরস বিজিনেস ডেইলি এক নিবন্ধে লিখে ‘আমেরিকান মুসলমানদের জন্য এটা ছিল বিজয়ের চেয়ে অনেক বেশি।’ [যেন বুশের নয় বিজয়টা মুসলমানদের!] । ক্ষমতায় যেয়ে বুশ অবশ্য তার কথা আদৌ রক্ষা করেননি বরং কার্যত নাইন ইলেভেনেরই রুপকার হলেন যাতে আমেরিকার রাজনীতিতে মুসলমানদের ভুমিকা অদূর ভবিষ্যতে চিরতরে নির্মূল করা যায়।
নাইন-ইলেভেনে মাত্র ১৫ মিনিটের ব্যবধানে দু’টি যাত্রীবাহী বিমান আছড়ে পড়েছিল নিউ ইয়র্কের বিশ্ববাণিজ্য কেন্দ্রে। অতঃপর আগুন, ধোঁয়া; তাসের ঘরের মতো দু’টি টাওয়ার ভেঙে পড়ে। ‘নয়-এগারো’র ভয়াল সন্ত্রাসী হামলার দশক পূর্তির পরেও বিবিসি, রয়টার, এএফপি পরিবেশিত সংবাদে প্রশ্ন করা হলো : আসলে কী ঘটেছিল ২০০১-এর এই দিনে? সত্যিই কি আলকায়েদা মার্কিন শৌর্যে আঘাত হেনেছিল, নাকি সবই পাতানো?
যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক স্টিভেন জোন্সের নেতৃত্বে ৭৫ জন শীর্ষস্থানীয় বুদ্ধিজীবীর অভিযোগ নিউইয়র্ক ও পেন্টাগনে সে হামলা যাত্রীবাহী বিমানের নয়, এটা ছিল ভেতর থেকেই সংঘটিত। নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকাকে অধ্যাপক স্টিভেন বলেন, ভেঙে পড়া টুইন টাওয়ারে ধ্বংসস্তূপ পরীক্ষার পর নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া গেছে সেখানে ভবন ধসানোর বিস্ফোরক ব্যবহারের। জোন্স বলেন, আফগান গুহায় বসে কিছু লোক এবং ১৯ জন বিমান ছিনতাইকারী এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বলে আমরা মনে করি না। সরকারের এই তত্ত্বের বিরুদ্ধে আমরা চ্যালেঞ্জ করছি।কানাডার দি গেজেট পত্রিকায় ডেভিড গোল্ডস্টেইন টুইন টাওয়ার ধ্বংসের জন্য খোদ বুশকে দায়ী করে একাধিক বাস্তবসম্মত যুক্তি দিয়ে বলেছেন এ কাজ কোনোভাবেই বিন লাদেনকে দিয়ে সম্ভব নয়। ওদিকে আবার
টুইন টাওয়ার হামলার প্রায় দুবছর আগে ভাগে ট্রাম্প তার বইতে (‘The America We Deserve’প্রকাশিত জানুয়ারি ২০০০) Nostrodomas এর মত ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেনঃ ওসামা বিন লাদেন টুইন টাওয়ারে হামলা চালাবেন। US Presidential hopeful Donald Trump "warned" of the horrific September 11 attack on the World Trade Center in a book published less than two years before the world's worst terror strikes happened, it is being claimed. By JON AUSTIN PUBLISHED: 03:42, Tue, Feb 23, 2016 |
ট্রাম্পকে সেজন্যে বলা হয় ‘মডার্ন ডে Nostrodomas.’
Alex Jenes Radio Show সাক্ষাতকারে ট্রাম্প বলেন, “আমি ওই বইতে বলেছি, আমাদের সতর্ক থাকতে হবে এই ব্যাক্তি ওসামা বিন লাদেন সম্পর্কে।’’ ঘটনা প্রবাহ বিশ্লেষণে সামগ্রিকভাবে দেখা যায় আসলে টুইন টাওয়ারে হামলা ছিল আভ্যন্তরীণ বিষয় (পরিকল্পনা) মাত্র।

Friday, September 6, 2019

বিশ্ব সভ্যতার মূল কাঠামো গঠণে ইবাদতের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ?

     বিশ্ব সভ্যতার  মূল কাঠামো গঠণে ইবাদতের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ?
  প্রচলিত বিশ্বাস ও ধারনা হচ্ছে উপাসনা বা ইবাদত করা হয় একমাত্র পরকালে স্বর্গ বা বেহেশত লাভের জন্য। তাই উপাসনা/ ইবাদত একমাত্র পরকাল কে কেন্দ্র করে আবর্তিত।ইহকালের জীবনে মানবসভ্যতা ইবাদত থেকে কি পাচ্ছে সে বিষয়টা গৌণ বা উপেক্ষিত। মূলত শিক্ষা ও বিজ্ঞান এই দুই কাঠামোর উপরে আজকের বিশ্বসভ্যতা তিলে তিলে গড়ে উঠেছে এবং ইতিহাস বলছে ইসলামে আল্লাহ্‌র প্রতি ইবাদতের প্রক্রিয়া/পদ্ধতি বিশ্বে শিক্ষা, জ্ঞান ও বিজ্ঞানে উৎকর্ষতা বাড়িয়ে মানব জাতিকে আজকের সভ্যতা উপহার দিয়েছে। তবে যে প্রশ্নটা আসা একেবারেই স্বাভাবিকঃ উপাসনা বা ইবাদতে তো কেবলমাত্র স্রষ্টার প্রশস্তি, প্রশংসা আর গুণকীর্তনই করা হয়ে থাকে। আর সে পদ্ধতি/প্রক্রিয়া কিভাবে বিশ্বকে বিজ্ঞানে ও শিক্ষায় সভ্য করে আজকের বিশ্ব সভ্যতা নির্মাণের পথ দেখিয়েছে?আসলে ইসলামে ইবাদতের ধারনাটাই গতনাগতিক প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাস/ধারনা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। শুরুতে মসজিদে জ্ঞান চর্চা ছিল অন্যতম বড় ইবাদত।সে কারনে
১)বর্তমান মুসলিম বিশ্বে স্বনামধন্য আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় মূলত আদিতে ছিল একটি মসজিদ। মসজিদ হিসেবে এটির ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। যেহেতু মসজিদ জ্ঞানচর্চার মূলকেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হতো এটি ধীরে ধীরে সম্প্রসারিত হয়ে শেষে একটি বিরাট বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ নেয়।
    বিশ্বের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ৮৫৯ সালে একটি মসজিদের অংশহিসেবে। মরক্কোর এই কারওয়াইন বিশ্ববিদ্যালয়টি হচ্ছে ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্বের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়।গিনেস বুকের রেকর্ড অনুসারেও মরক্কোর ফেজ নগরীর কারওয়াইন বিশ্ববিদ্যালয় পৃথিবীর সর্বপ্রথম বিশ্ববিদ্যালয়। ফাতেমা নামে এক মহীয়সী নারী পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত সব অর্থ ব্যয় করেছিলেন তার সমাজের লেখকদের জন্য একটি মসজিদ তৈরির পেছনে। এই মসজিদ হয়ে ওঠে ধর্মীয় নির্দেশনা এবং জ্ঞানবিজ্ঞানের আলোচনার স্থান। মসজিদটি পুরোপুরি নির্মাণে লেগে যায় ২৭৮ বছর। ইতালির বোনায় ১০৮৮ সালে প্রথম ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। তারও আগে কারওয়াইন হয়ে ওঠে এক বিশ্ববিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়।ফেজকে তখন বলা হতো ‘বাগদাদ অব দ্য ওয়েস্ট’।
The oldest existing, and continually operating educational institution in the world is the University of Karueein, founded in 859 AD in Fez, Morocco. The University of Bologna, Italy, was founded in 1088 and is the oldest one in Europe.
'পৃথিবীর মধ্যে অনেক নিদর্শন রয়েছে বিশ্বাসীদের জন্য এবং তোমাদের নিজেদের মধ্যেও'- এ ধরনের আয়াতের প্রেরণায় মুসলামানেরা তাদের ইবাদতখানা পবিত্র মসজিদকেও বিজ্ঞান চর্চা ও অনুশীলনের জন্য ব্যবহার করেছেন।
 মুজাদ্দেদ ইমাম গাজ্জালি রহ: লিখেছেন ‘কোনো মুসলমান যদি প্রয়োজনীয় ধর্মীয় শিাক্ষা শেষে মানুষের কল্যাণ চিন্তা করে ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন করে, সে ধর্মীয় শিক্ষারই সওয়াব লাভ করবে।' 
      ‘ইসলামের এক গৌরবময় কীর্তি হচ্ছে কুরআন, হাদিস ও মুসলিম বিধান শাস্ত্র ফিকাহর অধ্যয়ন অনুশীলনের অনুরূপ অন্যসব জ্ঞান-বিজ্ঞানের সাধনাকেও সমান আসন ও মর্যাদা দিয়েছে এবং মসজিদের মধ্যেই তাকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।’ 
২)ইবাদতের নির্যাস হচ্ছে জিকির (স্রষ্টাকে স্মরন)।ইবাদতের মানসে কেবলমাত্র এই কাজটি করতে যেয়ে ইসলামের অনুসারীরা আজকের বিজ্ঞানের জন্ম দেয় যে রেকর্ডটি লাইব্রেরী অব কংগ্রেসে সংরক্ষিত আছে। আসলে ইবাদতের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে আল্লাহ্‌র জিকির(স্মরণ)। নামাজে/প্রার্থনায় স্রষ্টার যে সব প্রশস্তি, গুণকীর্তন হয় এর সবই কিন্ত তাকে স্মরণের জন্যই। আবার আল্লাহ্‌কে স্মরণ করার সবচেয়ে উত্তম পন্থা / মাধ্যম হচ্ছে তার সৃষ্টিকে পর্যবেক্ষণ, সৃষ্টি কৌশলের উপরে চিন্তা ও গবেষণা করে এই বিশ্বাস/ সিদ্বান্তে উপনীত হওয়া যে যিনি এর স্রষ্টা তিনি কত বড় মাপের ক্ষমতাবান হলেই কেবল মাত্র তাঁর পক্ষেই এরকম অলৌকিক কিছু করা সম্ভবপর। কার্যত দেখা যাচ্ছে বিশ্বের বা প্রকৃতির সব কিছু নিয়েই গভীরভাবে চিন্তা ভাবনা ও গবেষণা বড় ধরনের ইবাদত যার মাধ্যমে আল্লাহ পাককেই স্মরণ করা যাচ্ছে এবং মুল ইবাদতের দাবি পূরণ করছে। আবার এ প্রক্রিয়ায় এক ঢিলে দু’ পাখি ধরা হচ্ছে- একদিকে বিশ্ব জগতের সৃষ্টি রহস্য উন্মোচনে স্রষ্টার অপার ক্ষমতা হৃদয়ঙ্গম করে তাকে স্মরণ/জিকিরের মাধ্যমে সামগ্রিক ইবাদতের আসল শর্ত পুরন করা হচ্ছে সেই সাথে আবার সৃষ্টি রহস্য জেনে/উন্মোচন করে বিজ্ঞানের জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে মানব জাতিকে সেবা দেওয়ার সক্ষমতা অর্জিত হচ্ছে। 'পৃথিবীর মধ্যে অনেক নিদর্শন রয়েছে বিশ্বাসীদের জন্য এবং তোমাদের নিজেদের মধ্যেও'- এধরনের আয়াতের প্রেরণায় মুসলামানেরা তাদের ইবাদতখানা পবিত্র মসজিদকেও বিজ্ঞানচর্চা ও অনুশীলনের জন্য ব্যবহার করেছেন। একমাত্র এ কারনে ইসলাম মানবজাতিকেউপহার দিতে সক্ষম হয়েছে আজকের প্রচলিত বিজ্ঞানকে।
যুক্তরাষ্ট্রের একটি সর্বাধিক বিক্রীত বই হচ্ছে, ক্যারেন আর্মস্ট্রংয়ের ‘অ্যা হিস্ট্রি অব গড’। এতে বর্ণিত হয়েছে,‘কুরআন পাকে সব সময়ই বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করা হয়েছেআল্লাহ পাকের নিদর্শন বা বাণীর (আয়াত) রহস্য উদঘাটনের বিষয়কে। আর এ কারণে ইসলামের অনুসারীরা যুক্তি ও কারণকে এড়িয়ে না গিয়ে গভীর মনোযোগ এবং বিশেষ কৌতূহলের সাথে পৃথিবীর সব কিছুকে পর্যবেক্ষণ করছে। এই মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গির ফলে পরে দেখা যায় প্রাকৃতিক বিজ্ঞানে (ন্যাচারালসায়েন্স) মুসলমানদের মধ্যে এক উৎকৃষ্ট ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে, যা কখনো বিজ্ঞানের সাথে ধর্মের বিরোধ বা সংঘর্ষ ঘটায়নি। অথচ খ্রিষ্টান ধর্মে সেটা দেখা গেছে।’ ‘মুহাম্মাদ দ্য প্রফেট অব ইসলাম’ গ্রন্থে প্রফেসর রাও লিখেছেন,‘কুরআন পাকে যতগুলো আয়াত মৌলিক(ফরজ)ইবাদত সম্পর্কিত তার চেয়ে অনেক বেশি সেই সম্পর্কিত আয়াত যেখানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে প্রকৃতিবা সৃষ্টিরহস্য নিয়ে গভীরভাবে চিন্তাভাবনা,পর্যবেক্ষণ ও অনুসন্ধানের। আরবীয় মুসলমানেরা এই প্রেরণায় প্রকৃতির রহস্য নিয়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ শুরু করে দিয়েছিলেন, যেটা বর্তমান সময়ের বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষা ও গবেষণার মূলনীতির ভিত্তি নির্মাণ করে, যা অজ্ঞাত ছিল গ্রিকদের কাছে।’
"যারা দাঁড়িয়ে, বসে ও শুয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং আসমান ও জমিনের সৃষ্টি নিয়ে‏ গবেষণা করে, (তাঁরা বলে) হে আমাদের প্রভু, আপনি এসব কিছুই অনর্থক সৃষ্টি করেন নি। সকল পবিত্রতা আপনার-ই। আমাদেরকে আপনি দোযখের আগুন থেকে রক্ষা করুন"। [সূরা আলে ইমরান - ১৯১]

মূলত প্রকৃতির সব কিছুই আল্লাহ তায়ালার নিদর্শন; যেমন বায়ু, পানি, গাছপালা, মাটি, প্রাণী, সমুদ্র, পাহাড় পর্বত এবং আরো কত কি? এসবই আল্লাহ পাকের বিশেষ উপহার। এগুলোর কোনো কিছু মানুষ বানাতে পারে না। আজকের বিজ্ঞানের উদ্ভাবক একটি ধর্ম, এই ঐতিহাসিক রেকর্ডটি সংরক্ষিত রয়েছে ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বিশ্বের সবচেয়ে বড় পাঠাগার লাইব্রেরী অব কংগ্রেসে। ঐতিহাসিকভাবে আদিতে বিজ্ঞান বলতে শুধু পদার্থবিজ্ঞানকে বোঝানো হতো। বর্তমানেও পদার্থবিজ্ঞানের সূত্র, তত্ত্ব এবং আবিষ্কৃত কলকব্জা ও যন্ত্রপাতি ব্যতিরেকে বিজ্ঞানের অপরাপর শাখাগুলো হয় ‘ভোঁতা’, না হয় নিষ্প্রাণ হয়ে পড়বে। বিদ্যুৎ, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, কম্পিউটার, রোবট, ইন্টারনেট অর্থাৎ দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত সব কিছু কিন্ত প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে পদার্থবিজ্ঞানেরই ফসল বা অবদান। প্রাণ পদার্থবিজ্ঞান, ভূপদার্থবিজ্ঞান,মহাকাশ পদার্থবিজ্ঞান ইত্যাদি হরেকরকম নামকরণ থেকে সহজেই ধারণা করা যায়, মূল বিজ্ঞান পরিবারে পদার্থবিজ্ঞানের অবস্থান তার কেন্দ্রে। চট্টগ্রাম ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞানে শিক্ষকতা করেছি, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় মেডিক্যাল রিসার্চ বিশ্ববিদ্যালয় জন্স হপকিন্সে প্রাণ পদার্থবিজ্ঞানে গবেষণা করেছি কিন্তু কোথাও শুনিনি, দেখিনি, পাইনি পদার্থবিজ্ঞানের উদ্ভাবক একটি ধর্ম।! বিশ্বের সচেতন এবং অভিজ্ঞ মহল অবগত যে, রসায়ন, গণিত এবং জ্যোতিষশাস্ত্রে ইসলামের অনুসারীরা অভূতপূর্ব যুগান্তকারী অবদান রেখেছেন, কিন্তু পদার্থবিজ্ঞানের উদ্ভাবক ইসলাম ধর্ম এ রেকর্ডটি কোথায় লিপিবদ্ধ রয়েছে তা দেখার জন্য লাইব্রেরী অব কংগ্রেসে ঘুরে আসা যেতে পারে।২০০ বছরেরও বেশি পুরনো বিশ্বের সবচেয়ে সমৃদ্ধ এই পাঠাগারের সব বই ওয়াশিংটন ডিসির তিনটি ভবনে সংরক্ষিত। ১৮৯৭ সালের জেফারসন ম্যাগনিফিসেন্ট ভবনটি শুধু দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখাহয়েছে। লাইব্রেরি অব কংগ্রেসের বিশাল সংগ্রহশালার মধ্য থেকে ২০০টি ঐতিহাসিক পুস্তক ভবনটির দ্বিতীয় তলার ট্রেজারি গ্যালারিতে সংরক্ষিত রয়েছে। এই তলার মাঝখানেএকটি বড় গম্বুজ। গম্বুজের মধ্যে একেকটি চিত্রের নিচে একেকটি দেশের নাম। ব্যতিক্রম চোখে পড়ল, এতদেশের মধ্যে এক স্থানে শুধু একটি ধর্মের নাম। কোন দেশ কী উদ্ভাবন বাআবিস্কার করেছে, সেটি গাইড আমাদের বুঝিয়ে দিলেন। দেশের নামের বদলে যে চিত্রের নিচে ‘ইসলাম’ লেখা ছিল, সেটি দেখিয়ে গাইড আমাদের বলেন, এটার মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে, পদার্থবিজ্ঞানের উদ্ভাবন করেছে ইসলাম ধর্ম। ওই সময়েবাল্টিমোরে ICNA (ইসলামিক সার্কেল অব নর্থ আমেরিকা) বার্ষিক সম্মেলন চলছিল। প্রফেসর রাওয়ের লেখা ‘মুহাম্মাদ দ্য প্রফেট অব ইসলাম’ বইটি হাতে পাই। লেখকের বর্ণনা মতে, রবার্ট ব্রিফল্ট তার বিখ্যাত বই দ্য মেকিং অব হিউম্যানিটিতে অনেক উদাহরণ পরিবেশন করে সমাপ্তি টেনেছেন এভাবে‘আমাদের বিজ্ঞান আরব মুসলমানদের কাছে ঋণী শুধু এটুকুর জন্য নয় যে, বিজ্ঞানকে তারা কেবল চমকপ্রদ আবিষ্কার অথবা বৈপ্লবিক বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব উপহার দিয়েছে। বিজ্ঞান আরবীয় সংস্কৃতির কাছে আরো অনেক বেশি ঋণী। বিজ্ঞান তার নিজের অস্তিত্বের জন্য ঋণী।’ একই লেখক কথাটির ব্যাখ্যায়বলেছেন, গ্রিকরা নিয়মাবদ্ধ ও সর্বজনীন করা এবং তত্ত্ব সম্বন্ধে সিদ্ধান্ত নেয়ার পথ বাতলে দিয়েছিল, কিন্ত ধৈর্য ধরে গবেষণার পদ্ধতি, সন্দেহাতীত জ্ঞানকে পুঞ্জীভূতকরণ, বিজ্ঞানের প্রতিটি ক্ষুদ্র ব্যাপারেও বিশদ পরীক্ষণ পদ্ধতি, বিস্তারিত ও দীর্ঘ প্রসারিত নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষামূলক অনুসন্ধান এসবই গ্রিকমানসিক ধাত বা মেজাজে ছিল বহিরাগত। আমরা যেটাকে আজ বিজ্ঞান বলি, তার উত্থান ইউরোপে হয়েছিল নতুন পদ্ধতি গবেষণার ফলে এবং পরীক্ষা, পর্যবেক্ষণ, পরিমাপন ও গণিতশাস্ত্রের উন্নয়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যে পদ্ধতিগুলো গ্রিকদের কাছে অজানা ছিল... ইউরোপকে আরবীয় মুসলমানেরা এসব মূলনীতি ওপদ্ধতিগুলো পরিচয় করিয়ে দেয়। রবার্ট ব্রিফল্ট যেসব উদাহরণ থেকে এই মন্তব্যে পৌঁছেছেন সেসবের মধ্যে রয়েছে : মুসলিম উদ্ভিদবিজ্ঞানী ইবনে বতুতা বিশ্বের সব অঞ্চল থেকে উদ্ভিদ সংগ্রহ করে যে গ্রন্থ লিখেছেন সেটিকে World famous : The Giant Bible & The Giant Bible of Maing তে অধ্যবসায়ের এক উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অপর দিকে আল বিরুনি ৪০ বছর ভ্রমণ করেছিলেন খনিজবিদ্যা সম্পর্কিত (মিনারোলজি) নমুনা সংগ্রহের জন্য এবং মুসলিম জ্যোতির্বেত্তারা এমনসব পর্যবেক্ষণ পর্যন্ত চালিয়েছেন, যেসব পর্যবেক্ষণ ১২ বছর দীর্ঘায়িত হয়েছিল। পক্ষান্তরে অ্যারিস্টটল পদার্থবিজ্ঞানের ওপর একটি বই লিখেছেন, এমনকি কোনো পরীক্ষা না চালিয়েই এবং প্রকৃতির ইতিহাসেরওপর গ্রন্থ রচনা করেছেন একেবারেই নিশ্চিত না হয়ে, অসতর্কতার সাথে বলেছেন প্রাণীদের চেয়ে মানুষেরঅর্ধেক দাঁত রয়েছে এ তথ্য অতি সহজেই অনুসন্ধান করা যেত। গ্যালেন, যিনি ক্লাসিক্যাল অ্যানাটমির নির্ভরযোগ্য বিশেষজ্ঞ, জানিয়েছিলেন যে নিচের চোয়াল দু’টি হাড় দিয়ে গঠিত। এ প্রতিবেদনটি শতাব্দীধরে গ্রহণ করে নেয়া হয়েছিল একেবারে কোনো আপত্তি ছাড়াই, যখন পর্যন্ত না আবদুল লতিফ কষ্ট স্বীকারকরে মানুষের কঙ্কাল পরীক্ষা করে এর সত্য-মিথ্যা যাচাই করলেন।

নিচের তালিকা বলে দিচ্ছে বিজ্ঞান জগতে মুসলিম বিজ্ঞানীদের অবদানঃ

* রসায়নের জনক— জাবির ইবনে হাইয়ান
* বিশ্বের সেরা ভূগোলবিদ— আল-বিরুনি

* আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের জনক— ইবনে সিনা

* হৃদযন্ত্রে রক্ত চলাচল আবিষ্কারক—ইবনুল নাফিস

* বীজগণিতের জনক— আল-খাওয়ারিজমি

* পদার্থ বিজ্ঞানে শূন্যের অবস্থান নির্ণয়কারী— আল-ফারাবি

*আলোক বিজ্ঞানের জনক— ইবনে আল-হাইসাম

* এনালিটিক্যাল জ্যামিতির জনক— ওমর খৈয়াম

*সাংকেতিক বার্তার পাঠোদ্ধারকারী— আল-কিন্দি

* গুটিবসন্ত আবিষ্কারক— আল-রাযী

* টলেমির মতবাদ ভ্রান্ত প্রমাণকারী —আল-বাত্তানি
*ত্রিকোণমিতির জনক — আবুল ওয়াফা
*স্টাটিক্সের প্রতিষ্ঠাতা — ছাবেত ইবনে কোরা
* পৃথিবীর আকার ও আয়তন নির্ধারণকারী—বানু মুসা
* মিল্কিওয়ের গঠন শনাক্তকারী — নাসিরুদ্দিন তুসি
*এলজাব্রায় প্রথম উচ্চতর পাওয়ার ব্যবহারকারী — আবু কামিল
* ল’ অব মোশনের পথ প্রদর্শক— ইবনে বাজ্জাহ
*ঘড়ির পেন্ডুলাম আবিষ্কারক — ইবনে ইউনূস
* পৃথিবীর ব্যাস নির্ণয়কারী— আল-ফরগানি
* পৃথিবীর প্রথম নির্ভুল মানচিত্র অঙ্কনকারী— আল-ইদ্রিসী
* বিশ্বের প্রথম স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের আবিষ্কারক —আল-জাজারি
* সূর্যের সর্বোচ্চ উচ্চতার গতি প্রমাণকারী—আল-জারকালি

*বীজগণিতের প্রতীক উদ্ভাবক — আল-কালাসাদি
স্পষ্টত ঐতিহাসিক বাস্তবতা বলছে, ধর্ম বিজ্ঞানবিরোধী এবং এ দুয়ে সহাবস্থান সাংঘর্ষিক, অন্যান্য ধর্মের সাথে এ ধরনের বক্তব্যের মিল খুঁজে পাওয়া সম্ভব হলেও ইসলামের ব্যাপারে এটা ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত যে, সত্যিকার বিজ্ঞান বলতে আজ আমরা যেটাকে বলে থাকি এবং বুঝে থাকি, ইসলামের অনুসারীরা তাদের ধর্মের ইবাদতের প্রয়োজনে এই আদি বিজ্ঞানের উদ্ভাবক।
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
একমাত্র ইসলামই তার ইবাদতখানাকে জ্ঞান বিজ্ঞানের অনুশীলন কেন্দ্র বানিয়ে বিশ্বকে প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় উপহার দিয়েছে সেই সাথে ইবাদতের ফলস্বরূপ আদি বিজ্ঞান [পদার্থ বিজ্ঞান] উদ্ভাবন করে আজকের বিশ্বকে বৈজ্ঞানিক সভ্যতা অর্জনের পথ বাতলিয়ে দিয়ে সভ্য করেছে।
মুসলিমগণ তাদের প্রতিবেশীকে যতো তাড়াতাড়ি জয় করেছে,ততো তাড়াতাড়ি জয় করেছে বিজ্ঞান জগতকে। (১) প্রাচীন মিসর, চীন কিংবা ভারতে আমরা সুশৃঙ্খল বৈজ্ঞানিক রীতি-পদ্ধতি দেখতে পাই না। প্রাচীন গ্রীসে মাত্র এর সামান্য উপস্থিতি দেখা যায়। পুনর্বার এর অনুপস্থিতি চোখে পড়ে। কিন্তু আরবদের এই বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান-স্পৃহা প্রবল ছিলো। তাদেরকেই আধুনিক বিজ্ঞানের জনক হিসেবে বিবেচনা করা যায়
(২) মধ্যযুগের প্রথম অংশে আরব ছাড়া আর কোন জাতিই মানবসভ্যতার অগ্রগতিতে এতোখানি অবদান রাখতে পারেনি। এর জন্য আরব উপদ্বীপের সকল আরব কৃতিত্বের দাবিদার। কয়েক শতাব্দী ধরে আরবি ছিল জ্ঞান ও সংস্কৃতিচর্চার ভাষা ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রগতির হাতিয়ার। কেবল দূরপ্রাচ্য ছাড়া গোটা বিশ্ব সভ্যতা দ্বারা উপকৃত হয়েছে। নবম থেকে দ্বাদশ শতক অবধি আরবি ভাষায় দর্শন, চিকিৎসা, ধর্ম, ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান, রসায়ন, পদার্থ বিজ্ঞান, গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান ও ভূগোলের উপর যত রচনা হয়েছে মানবজাতির কোন ভাষায় তা হয়নি। (৩) যখন রোম, গ্রিক ,কার্তেজ বা ফরাসি জগতে বিদ্যার কোনো বালাই ছিল না, তখন ইউরোপের উপকণ্ঠে মুসলমানরা বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করে যাচ্ছিলেন। যেগুলো শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ইউরোপের শ্রেষ্ঠতম বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। মূলত এরই মাধ্যমে ইউরোপ সভ্যতার আলো দেখতে পায়। এটাই অত্যন্ত স্পষ্ট যে, স্পেনের আরবরাই পশ্চিম ইউরোপে আধুনিক শিক্ষার মৌলিক উৎস।
(৪) তথ্যসূত্রঃ
(১) জন উইলিয়াম ড্রেপার, দি ইন্টেলেকচুয়াল ডেভেলপমেন্ট অফ ইউরোপ, খন্ড ১, পৃ. ৩৩৫।
(২) জওহরলাল নেহেরু, গ্লিম্পসেস অফ ওয়াল্ড হিস্ট্রি, পৃ. ১৫৫।
(৩) ফিলিপ কে হিট্টি, দি হিস্ট্রি অফ এ্যারাবস, পৃ. ৫৮৮।
(৪) স্টাডিজ ইন দ্য হিস্ট্রি অফ মেডিয়েভেল সাইন্স, সি এইচ হাসকিন, পৃ. ৩।

Monday, June 10, 2019

মসজিদে জামাতে নারী ও আগামী গ্রজন্ম: '..the religion(Islam) was later hijacked by the men...?


মসজিদে জামাতে নারী ও আগামী গ্রজন্ম

★★★নামাজ পড়ার সময় যদি পেছনের সারি থেকে বাচ্চাদের হাসির আওয়াজ না আসে তাহলে পরবর্তী প্রজন্মের ব্যাপারে ভয় করুনএই কোটেশন তুর্কীর মসজিদে দেয়ালে লেখা থাকে।★★★
মায়ের কোলে একটা জাতি গড়ে ওঠে।-হযরত আলী(রা:) 
রাসুলুল্লাহ (সঃ) প্রথম খলিফার সময়ে মহিলারা  ঈদ,জুমাহ সহ মসজিদে জামাতে অংশ নিতেন            এমনকি মাসিক(পিরিয়ড)চলাকালীন সময়েও মহিলাদের ঈদগাহ সমাবেশে যোগদানের জন্য রাসুলুল্লাহ(দঃ) উৎসাহিত করেছেন।‘আমাদের সকলের হিজাব/জেলবাব নেই’সে কথা জানানো হলে রাসুলুল্লাহ্র(দঃ) পরামর্শ ছিল, যাদের একাধিক বা বেশি আছে তাদের থেকে নিয়ে হলেও সকলে ঈদগাহে যাবে।

নারীরা মসজিদে নামাজ পড়াটা রাসূলের যুগে কতটা স্বাভাবিক ঘটনা ছিলো, তা এ হাদীস থেকে বুঝা যায়।

#অডিও_হাদীস
#Audio_Hadith

https://www.youtube.com/watch?v=JvG85KOWEY0&feature=youtu.be&fbclid=IwAR1ml_Y3OSuYt4OdMONl1i4-GwoTl2623fcCxIApX_qSezHVWpuKJlwQWwY

নারীরা ঈদের মাঠে উপস্থিত হওয়া সম্পর্কে বুখারী মুসলিম গ্রন্থে কমপক্ষে ২০টি সহীহ হাদিস রয়েছে। অথচ, এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সহীহ সুন্নাহকে অনেক মুসলিম অবহেলা করেন। সুন্নাহ নিয়ে আমাদের আলেমদের ও তেমন কোনো  ভুমিকা  নেই
রাসূল (স)-এর সবচেয়ে প্রিয় কাজ ছিলো নামাজ। কিন্তু নামাজ পড়ার সময়ে যখন বাচ্চারা কান্না শুরু করতো, তখন বাচ্চাদের মায়ের কথা চিন্তা করে রাসূল (স) তাঁর প্রিয় কাজটি সংক্ষিপ্ত করে ফেলতেন। [সূত্র - বুখারী, ১/১৪৩]তার অর্থ দাড়ায় মহিলারা জামাতে শরীক হতেন। 
নারীদেরকে ঈদগাহে নিয়ে যাবার জন্যে রাসূল (সঃ) নির্দেশ দিয়েছেন যদি কোনো নারী অসুস্থ হয়, তবুও তাঁকে ঈদগাহে যেতে বলা হয়েছে যদি কোনো নারীর পরার মতো ওড়না বা জামা না থাকে, তাহলে অন্য বান্ধবী থেকে একটা ওড়না নিয়ে হলেও ঈদের মাঠে নারীদেরকে উপস্থিত থাকার জন্যে রাসূল () আদেশ করেছেন
রাসূল () বলেন -উম্মুআতিয়্যাহ (রা:) থেকে বর্ণিত,
"ঈদের দিন আমাদের বের হবার আদেশ দেয়া হত। এমন কি আমরা কুমারী মেয়েদেরকেও অন্দর মহল হতে বের করতাম এবং ঋতুবতী মেয়েদেরকেও। তারা পুরুষদের পিছনে থাকতো এবং তাদের তাকবীরের সাথে তাকবীর বলতো এবং তাদের দুআর সাথে দু করত- সে দিনের বরকত এবং পবিত্রতা তারা আশা করত।"
সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৯৭১
হাফসা বিন্ সীরীন (রহঃ) থেকে বর্ণিত,
তিনি বলেন, আমরাঈদের দিন আমাদের যুবতীদের বের হতে নিষেধ করতাম। একদা জনৈকা মহিলা এলেন এবং বনু খালাফের প্রাসাদে অবস্থান করলেন। আমি তাঁর নিকট গেলে তিনি বললেন, তাঁর ভগ্নীপতি নবী (সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর সাথে বারটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন, এর মধ্যে ছয়টি যুদ্ধে স্বয়ং তাঁর বোনও স্বামীর সাথে অংশগ্রহণ করেছেন, (মহিলা বলেন) আমার বোন বলেছেন, আমরা রুগ্নদের সেবা করতাম, আহতদের শুশ্রূষা করতাম। একবার তিনি প্রশ্ন করেছিলেন, হে আল্লাহর রসূল ! যদি আমাদের কারো ওড়না না থাকে, তখন কি সে বের হবে না? নবী (সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: অবস্থায় তার বান্ধবী যেন তাকে নিজ ওড়না পরিধান করতে দেয় এবং এভাবে মহিলাগণ যেন কল্যাণকর কাজে মুমিনদের দুআয় অংশগ্রহণ করেন। হাফসা (রহঃ) বলেন, যখন উম্মু আতিয়্যাহ (রা:) এলেন, তখন আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম যে, আপনি কি এসব ব্যাপারে কিছু শুনেছেন? তিনি বললেন, হাঁ, হাফসা (রহঃ) বলেন, আমরা পিতা আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর জন্য উৎসর্গিত হোক এবং তিনি যখনই আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর নাম উল্লেখ করতেন, তখনই একথা বলতেন। তাঁবুতে অবস্থানকারিণী যুবতীরা এবং ঋতুবতী নারীরা যেন বের হন। তবে ঋতুবতী নারীরা যেন সালাতের স্থান হতে সরে থাকেন। তারা সকলেই যেন কল্যাণকর কাজে মুমিনদের দুআয় অংশগ্রহণ করেন। হাফসা (রহঃ) বলেন, আমি তাকে বললাম, ঋতুবতী নারীরাও? তিনি বললেন, হাঁ, ঋতুবতী নারী কি আরাফাত এবং অন্যান্য স্থানে উপস্থিত হয় না?

সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৯৮০

উপরোক্ত হাদিস দুটি ইমাম বুখারী "ঈদ" অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন। ছাড়াও বুখারী শরীফে আরো অন্তত ১০টি হাদিস রয়েছে, যা দ্বারা প্রমাণিত হয়, রাসূল নারীদেরকে ঈদের মাঠে উপস্থিত হতে নির্দেশ দিয়েছেন। এমনকি পরার মতো কোনো কাপড় না থাকলেও, অন্যের থেকে ধার নিয়ে ঈদের মাঠে উপস্থিত হতে বলেছেন
আসুন, নারীদেরকে ঈদের মাঠে নিয়ে যাবার ব্যবস্থা করে একটি হারানো সুন্নাতকে পুনর্জীবিত করুন
  সম্প্রতি [১৫জুন,২০১৮]ফেসবুক এক ভাইয়ের অভিজ্ঞতাঃ  রাত :০০ টায় মসজিদুল হারামে পৌঁছে গেলাম ইতেকাফে যেখানে অবস্থান করেছি ১০টি দিন তার পাশেই অবস্থানের সুযোগ হলো ভোর :১০ আজান এবং :২০ ফজরের জামা' অনুষ্ঠিত হলো এর পরপরই অনন্য অভিজ্ঞতার পালা বড়'রা চা, কফি (গাওয়া), খেজুর আর বাচ্চারা চকলেট, ক্যান্ডি ইত্যাদির ঝুড়ি নিয়ে কাতারে ঢুঁকে সবার সামনে ধরতে লাগলো সমগ্র বিশ্বের নানা বর্ণের, বয়স ভাষারঅভিন্ন বিশ্বাসের মানুষগুলো (নারী পুরুষ) কী পরম মমতা আর হৃদ্যতায় পাশাপাশি অবস্থান করছে! সূর্যোদয় :৪৮ মিনিট জামাত এশরাক সময়ে ইন শা আল্লাহ   
 এবার ক্বা'বা শরিফে মহিলাদের জামাতের জন্য পর্যাপ্ত পৃথক স্থানের স্থায়ী ব্যবস্থা লক্ষ করলাম                          

কোন পাল্লাটা ভারী?

* আল্লাহ আল্লাহর রাসুলের না খলিফার!

* আল্লাহ আল্লাহর রাসুলের সমর্থন থাকলে   তার সাথে  বিরোধিতা/বিপরীত অবস্থান প্রশ্নবোধক নয় কি?

খলিফা খুতবায় মহিলাদের জামাতে না আসতে বলেন।  তার স্ত্রী প্রতিবাদ করেন -আল্লাহ  আর  তার  রাসুল (দঃ)আমাদের মসজিদে জামাতে নামাজ আদায়ের সুজোগ  দিয়েছেন এটা মহিলাদের  অধিকার আমি জামাতে অংশ নিব খলিফা হেরে গেলেন কোরআন-হাদিসের দলিল ও যুক্তি্র কাছে  তার স্ত্রী মসজিদে জামাতে  ঠিকই আসলেন। (উল্লেখ্যঃ দ্বিতীয় খলীফার মেয়ে উম্মুল মুমিনিন ছিলেন)। খলিফা এশার নামাজের আঁধার সময়টা বেছে নিলেন। সে রাতে তিনি তাড়া তাড়ি নামাজ শেষ করে গৃহে যাবার পথে, এক স্থানে নিজকে এমনভাবে লুকিয়ে রাখলেন যে স্ত্রী সে পথ দিয়ে যাবার সময়  যেন কোনো ভাবেই বুঝতে না পারেন সেখনে তিনি গোপনে  অপেক্ষায় আছেন। যে মুহূর্তে স্ত্রী তাকে অতিক্রম করে যাচ্ছিলেন, খলিফা লুকিয়ে তার চাদরের নিচের অংশ  হাত দিয়ে ধরে ফেলেন। স্ত্রী স্পষ্ট বুঝলেনঃ তিনি কোনো বেগানা পুরুষ  দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন। আত্ম রক্ষার্থে সব শক্তি দিয়ে চাদর ছাড়িয়ে নিয়ে দিক বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে গৃহের পানে ছোটা শুরু করলেন।দ্বিতীয় খলিফা ধীরে সুস্থে গৃহে আসলে স্ত্রী বলেন, “মানুষ এখন আর আগের মত নেই। মহিলাদের জামাতে যাবার সামাজিক পরিবেশ বিলকুল নষ্ট হয়ে গেছে।’- এই ঘটনাটা দ্বিতীয় খলিফা নিজ থেকে ফাঁস করে দিয়েছিলেন- কি ভাবে স্ত্রীকে জামাতে যাওয়া থেকে বিরত রাখেন।
 জনৈক ফেসবুক বন্ধু লিখেছেনঃ
'নামাজ পড়ার সময় যদি পেছনের সারি থেকে বাচ্চাদের হাসির আওয়াজ না আসে তাহলে পরবর্তী প্রজন্মের ব্যাপারে ভয় করুন।' এই কোটেশন তুর্কীর মসজিদে দেয়ালে লেখা থাকে।
ওমানের মসজিদে নামাজে দেখা যায় প্রায় সবখানে  বাচ্চারা মসজিদে মোটামোটি উপস্থিত থাকে।তারা যেখানে ইচ্ছা খেয়াল খুশী মতো কাতারে দাড়ায়।বড় রা কিছু বলেনা,এমনকি অনেক সময় দেখলাম নামাজের সময় বাচ্চারা পেছনে বা সামনে কোন কাতারে হইহুল্লোড় করছে,নামাজ শেষে ইমাম,মুসল্লি কেউ কিছু বলেনা।আমি একদিন একজন কে জিজ্ঞেস করলাম এর কারন কি? তিনি বললেন -বাচ্চারা হলো ফেরেস্তার মতো ,এরা এখানে আসবে একটু দুষ্টামি করবে কিন্তু দেখতে দেখতে এটাতে অভ্যস্ত হয়ে পড়বে।দুষ্টামির ব্যপারটা বয়স বাড়ার সাথে সাথে ঠিক হয়ে যাবে সেটা কোন ব্যাপার না। কিন্তু এখন যদি ওরে মসজিদে হুমকি দামকি দেওয়া হয়,মারা হয় তাহলে সে তো আর এইখানে আসতেই চাইবেনা,একটা ভয় নিয়ে বেড়ে উঠবে এটা তো ঠিক না।
রাসুল (সঃ) এর সালাত আদায়কালে যখন সিজদায় যেতেন তখন তার দুই নাতি ইমাম হাসান এবং হোসাইন তার দুই কাধে উঠতেন। রাসুল (সঃ) এতে মোটেই বিরক্ত হতেন না বরং যতক্ষন তারা পিঠ থেকে না নামতেন ততক্ষন তিনি সিজদায় থাকতেন।
কি সুন্দর অনুকরনীয় উদাহরন। আর ঠিক উল্টো চিত্র  আমাদের  বাংলাদেশে। এমনও দেখেছি নাতী কে মসজিদে নিয়ে আসার কারনে নানার সাথে আরেকজনের মারামারি লেগে গেছেআর এলাকার সিজনাল মুরব্বিরা তো মসজিদে বড় বড় মোল্লা হয়ে যায়, সামনের কাতারে ছোটদের দাড়াতে দেই না,বাচ্চারা আওয়াজ করলে চড় থাপ্পর এসব তো আছেই। হুজুরেরাও এটাকে এড়িয়ে যায় বা বাচ্চাদের মসজিদে আনতে না বলে  এই ব্যাপারে তরুনদের সতর্ক হওয়া দরকার।মুরব্বিদের কে তাদের এইসব বুঝানো দরকার।আমাদের ইমামদের বয়ানে এইসব স্পষ্ট করা দরকার।তাহলে বাচচারা মসজিদ মুখি হতে আগ্রহী হবে।
আর যারা চান না যে, আগামী গ্রজন্ম মসজিদে যাক তারাই এর বিরোধীতা করেই যাবে।
****************************************
 তুরস্কের প্রতিটি মসজিদেই নারীদের নামাজ পড়ার জায়গা রয়েছে এবং বড় মসজিদগুলোতে নারী পুরুষ উভয়ে একই দরজা দিয়ে প্রবেশ করে পশ্চিমা বিশ্বের অধিকাংশ মসজিদে নারীদের ন্যে স্থান রয়েছে, যদিও তা তুরস্কের মতো এতো সচরাচর নয় আরব দেশগুলোতে নারীরা মসজিদে নামাজ পড়তে পারে, যদিও পুরুষ নারীদের স্থান ভিন্ন ভিন্ন চীনে অনেক নারী মসজিদ রয়েছে, এবং সেসব মসজিদের ইমাম নারী মালয়েশিয়ার নারীরা  মসজিদে এসে নামাজ পড়ে আফ্রিকার কিছু মসজিদে নারীদের জন্যে স্থান রয়েছে, আবার কিছু মসজিদে নেই

কিন্তু, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত হলো উপমহাদেশ অর্থাৎ ভারত, পাকিস্তান বাংলাদেশের নারীরা কারণ, এসব দেশে হাতেগোনা দু'একটি মসজিদ ব্যতীত অন্য মসজিদগুলোতে নারীদের জন্যে কোনো স্থান নেই,        

  কারন হয়তো, পরবর্তী প্রজন্মের ব্যাপারে  এই উপমহাদেশের লোকদের সম্ভবত  বিন্দুমাত্র  ভয়ডরও  নেই সচেতন মুসলিম হতে হলে পরবর্তী প্রজন্মের ব্যাপারে  সঠিক সিদ্ধান্ত পদক্ষেপ কি সময়ের দাবি নয়-এখনই  কি  নিতে হবে না?  আর যারা মনের অজান্তে পরোক্ষভাবে হলেও চান না যে, আগামী গ্রজন্ম মসজিদে  আসুক  তারা  আমৃত্যু  এর বিরোধীতা করেই যাবেন আর কতদিন তাদের পদাঙ্ক সমাজে যারা সচেতন তারাও অনুসরণ করবে?
  "রিক্লেইমিং দ্যা মস্ক" বইয়ের  অনুবাদ পাওয়া যাবে এই লিংকে: https://cscsbd.com/series/reclaiming-the-mosque
রিক্লেইমিং দ্যা মস্ক
CSCSBD.COM
রিক্লেইমিং দ্যা মস্ক
'..the religion(Islam) was later hijacked by the  men...?
'"Unfortunately, as in Christianity, the religion was later hijacked by the men, who interpreted texts in a way that was negative for Muslim women.

Muhammad encouraged women to play an active role in the affairs of the ummah, and they expressed their views forthrightly, confident that they would be heard. On one occasion, for example, the women of Medina had complained to the Prophet that the men were outstripping them in the study of the Quran and asked him to help them catch up. This He did. One of their most important questions was why the Quran addressed men only when women had also made their surrender to God. The result was a revelation that addressed women as well as men and emphasized the absolute moral and spiritual equality of the sexes. Thereafter the Quran quite frequently addressed women explicitly, something that rarely happens in either the Jewish or Christian scriptures.
The Quran does not prescribe the veil (Niqab) for all women but only for Muhammad's wives, as a mark of their status. Once Islam had taken its place in the civilized world, however,Muslim adopted those customs of the Oikumene which relegated women to second-class status. They adopted the customs of veiling women and secluding them in harems from Persia and Christian Byzantium, where women had long been marginalized in this way. By the time of the Abbasid caliphate (750-1258), the position of Muslim women was as bad as that of their sisters in Jewish and Christian society. Today Muslim feminists urge their menfolk to return to the original spirit of the Quran.
This reminds us that, like any other faith, Islam could be interpreted in a number of different ways; consequently it evolved its own sects and divisions:...
...During Muhammad's lifetime,this had included the equality of the sexes. Today it is common in the west to depict Islam as an inherently misogynistic religion, but, like Christianity, the religion of Allah was originally positive for women.Women had been among Muhammad's earliest converts, and their emancipation was a project that was dear to his heart.The Quran strictly forbade the killing of female children and rebuked the Arabs for their dismay when a girl was born. It also gave women legal rights of inheritance and divorce: most Western women had nothing comparable until the nineteenth century. "
Excerpt  from
The New York Times Bestseller
A HISTORY OF GOD 
by Karen Armstrong
________________________________________________   ]
{Excerpt from ,Islamic Thoughts ,Author Shamsul Alam
Islamic Foundation Bangladesh,Published 1986
Page 316: " .....Many of us who are unknowingly fanatic about a particular form and style of Parda do forget that the word Parda is not Quranic in origin. Al Quran mentions of Al Hijab i.e. household privacy and decorum, Jilbab i.e. outer garments. Al Hijab and Jilbab are not identical with Parda system. It existed among the Persian for centuries before the advent of our Prophet.
During the time of our Prophet(s) the present form of
Burqa did not exist. ... The covering of the face was uncommon.
The Persians had the custom of veiling head, face and the body of the women. .......
When the Muslims came to Persia, they could not ignore the long-standing customs of the Persians.............."