Thursday, March 28, 2024

সুদৃঢ় পাকা মজবুত ইমান গঠনের জন্য আবশ্যক আর একটা বিষয় ।

 রমজানের উপহার-

প্রকৃত আসল ইমানের খোঁজে:  সবচেয় সুদৃঢ় মজবুত ইমানের কাঠামো/ভিত্তি গঠনে   যা না জানলে একেবারেই কিন্ত নয়- কথাটা কি সত্যি....যথার্থতা পড়ে যাচাই করেই দেখা যাক?  পর্ব 2

কঠিন বিস্ময়কর সুদৃঢ়  ইমানের ভাবনা: একজন মুমিন ইমানদারের জন্যে 

নিম্ন তম জান্নাত পৃথিবীর১০গুন, বড়টি ?

                                                                                                                           

 লেখাটি  মুনা (Muslim Ummah of North America)  বুলেটিনে    প্রকাশিত।                                                                                                                                                                                                                                                                             মহাবিশ্ব প্রসারমাণ এ আবিষ্কারটি বিংশ শতাব্দীর বৃহত্তম বৌদ্ধিক বিপ্লবগুলোর অন্যতম। রাতের আকাশের দিকে তাকিয়ে আমরা কি কখনো কোন ভাবে  কল্পনারও  সুযোগ পাই; ছায়াপথগুলো প্রতি সেকেন্ডে ৭০ কিলোমিটারের  চেয়ে বেশি গতিতে দূরাপসরণ করছে?প্রত্যাশিত হিসাবের চেয়েও দ্রুতগতিতে সম্প্রসারিত হচ্ছে মহাবিশ্ব। নাসা ও ইউরোপিয়ান স্পেস অ্যাজেন্সির দেয়া তথ্য অনুযায়ী,ধারণার চেয়ে ৫থেকে ৯ শতাংশ দ্রুতগতিতে মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ ঘটে চলেছে।           ১৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন বছর আগে  ঘটা  বিগব্যাঙ থেকে পাওয়া বিকিরণ পরিমাপ করে যে হিসাব বের করা হয়েছিল, তার সাথে মিলছে না বর্তমানে মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের হার। প্রসারণশীল মহাবিশ্বের এই অভিক্রিয়া আমাদের দৈনন্দিন জীবনের ঘটনার উপমার মাধ্যমে সহজেই উপলব্ধি করা যাবে। রাস্তায় চলন্ত একটি গাড়ি যখন কাছে এগিয়ে আসে তখন এর ইঞ্জিনের শব্দের তীক্ষ্ণতা তীব্রতর হয় এবং গাড়িটি যখন কাছে এসে দূরে অপসারণ করে, তখন শব্দের তীক্ষ্ণতা নিম্নতর হয়ে থাকে। আলোকের তরঙ্গের আচরণও একই রকম। আলোকের স্পন্দাঙ্ক খুব বেশি সেকেন্ডে চার থেকে সাত লাখ মিলিয়ন। এর রয়েছে বিভিন্ন ধরনের স্পন্দাঙ্ক। আমাদের দৃষ্টিতে যা বিভিন্ন বর্ণ হিসেবে প্রতিভাত হয় সেগুলো হলো আলোকের বিভিন্ন স্পন্দাঙ্ক। সর্বনিম্ন স্পন্দাঙ্ক দেখা যায় বর্ণালীর লালের দিকে। তারকা যদি আমাদের দিকে আসে তাহলে প্রতি সেকেন্ডে আমরা যে স্পন্দাঙ্ক পাব তা বেড়ে যাবে, যেমনটি শব্দ শ্রোতার দিকে এগিয়ে আসার সময় ঘটে থাকে। অনুরূপভাবে তারকা যদি আমাদের কাছ থেকে দূরে অপসারমাণ হয়, সে ক্ষেত্রে আমাদের কাছে যে তরঙ্গগুলো পৌঁছাচ্ছে তার স্পন্দাঙ্ক হবে ক্ষুদ্রতর। তারকার আলোর স্পন্দাঙ্ক মেপে এর লাল বিচ্যুতি হলে স্পষ্টত বোঝা যাবে, তারকাগুলো আমাদের কাছ থেকে দূরাপসরণ করছে।সূরা আযজারিয়ার ৪৭ আয়াতে নভোমণ্ডল প্রসারিত হচ্ছে উল্লেখিত হয়েছে :                                                                                               ‘নভোমণ্ডল নির্মাণ করেছি আমার ক্ষমতাবলে  এবং  আমি  অবশ্যই  মহাসম্প্রসারণকারী।’

এডউইন হাবল ১৯২৯ সালে প্রকাশ করেন যে, মহাবিশ্ব স্থিতাবস্থায় নেই। যে ছায়াপথটি যত দূরে অবস্থিত তার দূরাপসারণের গতিও তত বেশি। দেখা যায়এক মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরের ছায়াপথ প্রতি সেকেন্ডে ২২`৪কিলোমিটার বেগে এবং দুই মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরের ছায়াপথ প্রতি সেকেন্ডে ৪৪`৮কিলোমিটার বেগে দূরাপসরণ করছে। অবাক বিস্ময়ের সাথে ভাবার বিষয়,বাস্তবে প্রতিনিয়ত মহাবিশ্ব আমাদের থেকে কত দূরে বিস্তৃতি লাভ করছে!আমরা ক’জন গুরুত্বসহকারে ভেবে দেখেছি, *"প্রকৃত ঈমানের স্বাদ"* সম্পর্কে  

স্পষ্ট ধারণা পেতে হলে সর্বশেষ বিজ্ঞানের নভোমণ্ডল ও মহাবিশ্ব সম্পর্কে ন্যূনতম একটি ধারণা একেবারে না থাকলেই কিন্ত নয়? প্রশ্ন আসা একেবারেই কিন্ত স্বাভাবিক ঈমানের  সত্যিকার স্বাদ পাওয়ার জন্য এসব তথ্য জেনে কী আর হবে? মুজাদ্দেদ ইমাম গাজ্জালি রহ:সেই মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠইসলামি চিন্তাবিদ।বর্তমানে মহাকাশবিজ্ঞানের যে বিকাশ হয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটে মধ্যযুগে এই বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা কোন পর্যায়ে ছিল, তা সহজেই অনুমেয়। সেই যুগে তার একটি উপমা এখানে তুলে ধরলে আমরা একেবারে চমকে উঠব! তিনি তার সময়ের এবং পরে সব কালের ঈমানদারদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন একটি উপমার মাধ্যমে, আল্লাহ পাকের প্রতি ঈমান সুদৃঢ় করার অতি সহজ একটি পথ। এটি হচ্ছেঈমানদারদের দৌড় শুধু মসজিদ নয়, বরং মহাকাশ বা মহাবিশ্ব সম্পর্কে যে ব্যক্তির কোনো ধারণাই নেই, তার ঈমানের স্বাদ বা স্তর  হচ্ছে একজন  Impotent (নপুংসক)-এর মতো, যার কোনো অনুভূতিই নেই নর-নারীর দৈহিক সম্পর্কের আসল মজা সম্পর্কে। বাস্তব দুনিয়ায় সবচেয়ে মজাদার,  অপার ফুর্তির  কোনো  কিছু থেকে থাকলে তা হচ্ছে একমাত্র এটি। তেমনি গাজ্জালি রহ:এর মতে, প্রকৃত ঈমানের আসল স্বাদ বা তৃপ্তি পেতে প্রয়োজন এবং পাওয়ার সহজ পথ হচ্ছে আল্লাহ পাকের অপার রহস্য মহাবিশ্ব সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হওয়া। ঈমানদারদের তাচ্ছিল্য করে প্রচলিত কথায় বলে- ‘মোল্লার দৌড় মসজিদ’! কিন্তু আমরা ক’জন  ওয়াকিবহাল,  সে সময়ে সমরকন্দ, দামেস্ক, কায়রো আর  করডোভায় প্রথম বড় বড়  মানমন্দির গড়ে তুলে আরব মুসলমানেরা।মুসলিম জ্যোতিবেত্তারা এমন সব  পর্যবেক্ষণ  চালিয়েছেন,যে সব১২বছরের ওপরে দীর্ঘায়িত হয়েছিল।সে সময়ের মুসলিম বিশ্বের জ্যোতির্বিজ্ঞান কোন অবস্থানে পৌঁছেছিল তার বর্ণনা একটি ঘটনায় ফুটে ওঠে।সন্যাসী গারভাট (দ্বিতীয় সিলভেস্ট নামে তিনি ৯৯৯ সালে পোপ হন)  যখন  করডোভার মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে  লেখাপড়া শেষ করে খ্রিষ্ট ধর্মাচরণে পুনরায় ফিরে  এলেন  তখন লোকে বলে  , তিনি নাকি সেখানে শয়তানের সাথে দহরম  পর্যন্ত করে এসেছেন। পৃথিবীর চার ভাগের তিন ভাগ পানি আর এক ভাগ স্থল।  এ স্থলভাগে  সাত শ’ কোটি মানুষ ছাড়াও রয়েছে কোটি কোটি জীবজন্তু,  পশুপাখি,ক্ষেতখামার, রাস্তাঘাট, পাহাড়পর্বত,বিশাল বিশাল মরুদ্যান, বনজঙ্গল ও আরো কত কী।  আর এত সবকিছু নিয়েই আমাদের আবাসভূমি পৃথিবী,যার বিশালত্ব কল্পনা করাও অনেক দুরূহ নয় কি? তাহলে রাতের আকাশের অগণিত তারকারাজিওছায়াপথ?                                                                    মহাকাশ ও মহাবিশ্ব সম্পর্কিত বিজ্ঞানের সর্বশেষ খবর

আমাদের সূর্য একটি অতি সাধারণ তারকা। এর আকার তারকাগুলোর গড় আকারের মতোই।আমাদের বাসভূমির তারকা সূর্যের ব্যাস ১দশমিক ৪মিলিয়ন কিলোমিটা। এর অর্থ হলো ১০৯টি পৃথিবী সূর্যের পৃষ্ঠে সাজিয়ে রাখা যায়। এটি এত বড় যে, ১ দশমিক ৩ মিলিয়ন পৃথিবীএর মধ্যে ভরে রাখা যায়। আমাদের সৌরগ্রহগুলো সূর্যের  চতুর্দিকে চাকতির মতো জায়গা জুড়ে আছে, যার দূরত্ব সূর্য থেকে সাড়ে চার বিলিয়ন কিলোমিটার। একটি তারকার বর্ণনা যদি এমন হয়, সে ক্ষেত্রে মহাবিশ্বে তারকার সংখ্যা কত? বাস্তবে বিশাল সংখ্যার তারকা নিয়ে একটি ছায়াপথ। তাহলে মহাবিশ্বে তারকা ও ছায়াপথ আসলে কয়টি?  Kornreich মহাবিশ্বে ১০ ট্রিলিয়ন ছায়াপথ ধরে একটি রাফ হিসাব বের করেছেন- ছায়াপথের ১০০ বিলিয়ন তারকার সাথে  এই সংখ্যা গুণ   করলে হয় ১০০  অকটিলিয়ন (octillion) তারকা। তার মানে দাড়ায়, ১ এর সাথে ২৯টা শূন্ঃ১০০০০০০ ০০০০০ ০০০০০০০০০০০০০০০০০০।    Kornreich  জোর দিয়ে বলেন, এটা সাধারণ হিসাব,  তবে গভীর পর্যবেক্ষণে দেখা যায়,  মহাবিশ্বে ছায়াপথের সংখ্যা আরও বেশি। 13 October 2016 , NASA থেকে পাওয়া তথ্য হচ্ছে,দুই ট্রিলিয়ণ  বা ২০ লাখ কোটি ছায়াপথ আছে মাত্র ১০শতাংশ মহাবিশ্বের মধ্যে। কিন্ত ছায়াপথগুলোর ৯০ শতাংশর   খোজ এখনও বাকি। ছায়াপথ হচ্ছে এমন একটি সিসটেম যেখানে মিলিয়ন থেকে বিলিয়ন সংখ্যক তারা মাধ্যাকষনের টানে এক সাথে আটকে থাকে। গানিতিক মডেল  ব্যবহার করে জ্যোতিবিজ্ঞানীরা ‘অদৃশ্যমান’ ছায়াপথগুলোকে শনাক্ত করার চেষটা করছেন । কেননা এই সব ছায়াপথ টেলিস্কোপের আওতায় আসে না।সেখান থেকে ই ধারনা করা হচ্ছে, মানুষের ধারনারও বাইরে রয়ে গেছে আরও লাখ লাখ ছায়াপথ। সূত্রঃ গার্ডিয়ান।তার মাণে দাড়ায় মহাবিশ্বে ২০ ট্রিলিয়ণ ছায়াপথও ছাড়িয়ে  যেতে পারে!   আবার দেখা যায়  সবচেয়ে বড় তারকাগুলো সূর্যের চেয়ে পাঁচশ’ গুণ শুধু বড় নয়,  সেই সাথে  এক লাখ গুণ  বেশি উজ্জ্বল।   ছায়াপথের কেন্দ্রে  অবস্থিত যে কৃষ্ণগহ্বর বা ব্ল্যাকহোল  তার ভর তিন মিলিয়ন সূর্যের সমান হয়ে থাকে।  আপনি যদি প্রতি সেকেন্ডে একটি করে  তারকা  গণনা করেন,  সে ক্ষেত্রে এই হারে সব তারকা গুনতে পাঁচ হাজার বছর লাগবে। ছায়াপথগুলো মহাকাশে এলোমেলোভাবে ছড়িয়েছিটিয়ে  না থেকে সঙ্ঘবদ্ধভাবে  একে  অপর থেকে  বহু দূরত্ব বজায় রেখে অবস্থান করে। সব ছায়াপথ এক করলে তারা মহাশূন্যের এক মিলিয়ন ভাগের এক ভাগ স্থান দখল করবে, যার অর্থ দাঁড়ায় বাস্তবে মহাশূন্য এত  বিশাল যে, বিজ্ঞানের সুপার কল্পকাহিনী পর্যন্ত   এর আওতার আনেক বাইরে।                                    

         ছায়াপথ কত বড়?

এত বড় যে, বড় ধরনের ছায়াপথের আড়াআড়ি দূরত্ব এক মিলিয়ন আলোকবর্ষেরও বেশি হবে [এক বছরে প্রতি সেকেন্ডে এক লাখ ৮৬ হাজার মাইল বেগে যে দূরত্ব অতিক্রম করা যায়, সেটি হলো এক আলোকবর্ষ (৯দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন কিলোমিটার।)] আমরা এমন  একটি ছায়াপথে থাকি, যেটা আড়াআড়ি মাপে  প্রায় এক লাখ  আলোকবর্ষ। আমাদের ছায়াপথটি ধীর গতিতে ঘূর্ণায়মান। এর সর্পিল বাহুগুলোতে অবস্থিত তারকাগুলো প্রায় কয়েক শ’ মিলিয়ন  বছরে একবার করে কেন্দ্রকে  প্রদক্ষিণ  করে। সবচেয়ে ছোট ছায়াপথের নাম ডর্ফ, যার প্রশস্ত  কয়েক হাজার আলোকবর্ষের দূরত্বের। অ্যান্ড্রোমেডার ছায়াপথটির এক প্রান্ত থেকে অপর  প্রান্তের দূরত্ব হবে দুই লাখ ৫০ হাজার আলোকবর্ষ। মজার বিষয় হচ্ছে, এই মুহূর্তে মহাবিশ্বের দিকে তাকালে দূর অতীতের মহাবিশ্বকে আমরা আসলে কিন্তু দেখতে পাবো, কেননা এই সময়ে দূর তারকা ছায়াপথ থেকে আলো এসে কেবল আমাদের কাছে পৌঁছেছে। যে কোয়সারগুলো এখন আমরা দেখছি, সেই আলো আমাদের কাছে পৌঁছতে শত শত কোটি বছর লেগে গেছে। আমাদের নিকটতম তারকা Proxima Centauri থেকে আলো আসতে লাগবে  ৪ দশমিক ৩ বর্ষ।     যুক্তরাষ্ট্রের একটি সর্বাধিক বিক্রীত ক্যারেন আর্মস্ট্রংয়ের বই ‘অ্যা হিস্ট্রি অব গড’ পুস্তকে বর্ণিত হয়েছে‘কুরআন পাকে সব সময়ই বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে  আল্লাহ পাকের নিদর্শন বা বাণীর (আয়াত) রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য। আর এ কারণে ইসলামের অনুসারীরা যুক্তি ও কারণকে এড়িয়ে না গিয়ে গভীর মনোযোগ এবং বিশেষ কৌতূহলের সাথে পৃথিবীর সব কিছুকে পর্যবেক্ষণ করছে। এই মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গির ফলে পরে দেখা যায় প্রাকৃতিক বিজ্ঞানে(ন্যাচারাল সায়েন্স)মুসলমানদের এক উৎকৃষ্ট ঐতিহ্য গড়ে তোলার, যা কখনো বিজ্ঞানের সাথে ধর্মের বিরোধ বা সংঘর্ষ ঘটায়নি,খ্রিষ্টান ধর্মের ক্ষেত্রে যেটা দেখা গেছ।কাজেই মহাবিশ্বের সব কিছুকে পর্যবেক্ষণ ও রহস্য উদ্ঘাটনের মাধ্যমেই কেবল আল্লাহকে খুঁজে পাওয়া ও তার নৈকট্য লাভ করা যেতে পারে।  ঈমান বাড়ানোর পথ বা উপায় হলো  সৃষ্টি রহস্য নিয়ে গভীরভাবে  চিন্তাভাবনা করা।হাদিসশরিফেআছেঃ  সৃষ্টিরহস্য নিয়ে কিছু সময় চিন্তাভাবনা করা, সারা রাত নফল এবাদত থেকেও উত্তম। মহাবিজ্ঞানী আইনস্টাইনের ভাষায়: ‘নিশ্চয়ইএর পেছনে রয়েছে এক অকল্পনীয় মহাজ্ঞানী সত্তার এক রহস্যময় অভিপ্রেত।বিজ্ঞানীর দুরভিসারি জিজ্ঞাসা সেখানে বিমূঢ়  হয়ে যায় বিজ্ঞানের সমাগত  চূড়ান্ত অগ্রগতিও সেখান থেকে স্তব্ধ হয়ে ফিরে আসবে; কিন্তু সেই অনন্ত মহাজাগতিক রহস্যের প্রতিভাস বিজ্ঞানীর  মনকে এই নিশ্চিত  প্রত্যয়ে উদ্বেল  করে তোলে,  এই মহাবিশ্বের একজন নিয়ন্ত্রা রয়েছেন। তিনি অলৌকিক জ্ঞানময়, তাঁর সৃষ্টিকে অনুভব করা যায় কিন্তু তাকে কল্পনা করা যায় না।’ যে ছায়াপথটি যত দূরে অবস্থিত তার দূরাপসারণের গতিও তত বেশি। প্রতিনিয়ত মহাবিশ্ব কত বিস্তৃতি লাভ করছে! আবার যেহেতু সব ছায়াপথ মহাকাশের  দশ লাখ ভাগের মাত্র এক ভাগ জায়গা দখল করে আছে, সে ক্ষেত্রে ১০ পৃথিবীর সমান নিম্নস্তরের জান্নাত হওয়াটা একেবারে সাধারণ ঘটনা। ‘নিশ্চয়ই এর পেছনে রয়েছে এক অকল্পনীয় মহাজ্ঞানী সত্তার এক রহস্যময় অভিপ্রেত।’ আবু হোরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (দঃ) বলেছেন, "আল্লাহ্‌ পাক বলেন - জান্নাতে এমন নেয়ামত তৈরী করে রেখেছি যা কোন চোখ দেখেনি, কোন কান যার কথা শোনেনি, এবং কোন মানুষের কল্পনায়েও যা আসেনি।" জান্নাতে অসুস্থ্যতা ও বার্ধক্যতা নেই, চির যৌবন লাভ করবে জান্নাতবাসীরা, রাসুলুল্লাহ (দঃ) একদিন বলেন, "বৃদ্ধদের জান্নাতে দেখা যাবে না।" নিকটে অবস্থানরত এক বৃদ্ধা এ কথা শুনে কেঁদে ফেললেন। যখন তাঁকে কান্নার কারণ জিজ্ঞাসা করা হলো, তিনি বললেন, "আমি বৃদ্ধা হয়ে গেছি। আগে যদি মারা যেতাম, জান্নাত লাভের সৌভাগ্য হত।" তাঁকে আশ্বস্ত করে রাসুল (সাঃ) বললেন, "জান্নাতবাসী সকলেই চির যৌবন লাভ করবে, সুতরাং  ভয়ের কিছুই নেই।"    সবচেয়ে নিম্ন স্তরের জান্নাতের আয়তন হবে দশ পৃথিবির সমান। আর বড়টি কত বড় হবে তা মহাবিশ্ব নিয়ে  একটু চিন্তা  করলে  সবার কাছে একেবারে  পরিষ্কার হবারই  কথা ।   

 [ লেখাটি  মুনা (Muslim Ummah of North America)  বুলেটিনে    প্রকাশিত  ] 

নিচে  ক্লিক করলেই জানা যাবে মহা বিশ্বের সর্বশেষ হালহকিকত ।  

           https://www.facebook.com/share/v/QYeCpdTQJXsUইu5av/?mibextid=oFDknk                                                                               লেখক : সাবেক  পদার্থবিজ্ঞান শিক্ষক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

Sunday, March 24, 2024

জান্নাত বড়টা কত বৃহত?র

 প্রকৃত আসল ইমানের খোঁজে  সবচেয় সহজ ইবাদত:-পর্ব 2

কঠিন বিস্ময়কর ইমানের  ভাবনা: একজন মুমিন ইমানদারের জন্যে 

নিম্ন তম জান্নাত পৃথিবীর১০গুন, বড়টি ?

                                                                                                                         মুহামমাদ আলীরেজা   

 লেখাটি  মুনা (Muslim Ummah of North America)  বুলেটিনে    প্রকাশিত।                                                                                                                                                                                                                                                                             মহাবিশ্ব প্রসারমাণ এ আবিষ্কারটি বিংশ শতাব্দীর বৃহত্তম বৌদ্ধিক বিপ্লবগুলোর অন্যতম। রাতের আকাশের দিকে তাকিয়ে আমরা কি কখনো কোন ভাবে  কল্পনার ও কখনও  সুযোগ পাই; ছায়াপথগুলো প্রতি সেকেন্ডে৭০ কিলোমিটারের  চেয়ে বেশি গতিতে দূরাপসরণ করছে?প্রত্যাশিত হিসাবের চেয়েও দ্রুতগতিতে সম্প্রসারিত হচ্ছে মহাবিশ্ব। নাসা ও ইউরোপিয়ান স্পেস অ্যাজেন্সির দেয়া তথ্য অনুযায়ী,ধারণার চেয়ে ৫থেকে ৯ শতাংশ দ্রুতগতিতে মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ ঘটে চলেছে।  ১৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন বছর আগে  ঘটা  বিগব্যাঙ থেকে পাওয়া বিকিরণ পরিমাপ করে যে হিসাব বের করা হয়েছিল, তার সাথে মিলছে না বর্তমানে মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের হার। প্রসারণশীল মহাবিশ্বের এই অভিক্রিয়া আমাদের দৈনন্দিন জীবনের ঘটনার উপমার মাধ্যমে সহজেই উপলব্ধি করা যাবে। রাস্তায় চলন্ত একটি গাড়ি যখন কাছে এগিয়ে আসে তখন এর ইঞ্জিনের শব্দের তীক্ষ্ণতা তীব্রতর হয় এবং গাড়িটি যখন কাছে এসে দূরে অপসারণ করে, তখন শব্দের তীক্ষ্ণতা নিম্নতর হয়ে থাকে। আলোকের তরঙ্গের আচরণও একই রকম। আলোকের স্পন্দাঙ্ক খুব বেশি সেকেন্ডে চার থেকে সাত লাখ মিলিয়ন। এর রয়েছে বিভিন্ন ধরনের স্পন্দাঙ্ক। আমাদের দৃষ্টিতে যা বিভিন্ন বর্ণ হিসেবে প্রতিভাত হয় সেগুলো হলো আলোকের বিভিন্ন স্পন্দাঙ্ক। সর্বনিম্ন স্পন্দাঙ্ক দেখা যায় বর্ণালীর লালের দিকে। তারকা যদি আমাদের দিকে আসে তাহলে প্রতি সেকেন্ডে আমরা যে স্পন্দাঙ্ক পাব তা বেড়ে যাবে, যেমনটি শব্দ শ্রোতার দিকে এগিয়ে আসার সময় ঘটে থাকে। অনুরূপভাবে তারকা যদি আমাদের কাছ থেকে দূরে অপসারমাণ হয়, সে ক্ষেত্রে আমাদের কাছে যে তরঙ্গগুলো পৌঁছাচ্ছে তার স্পন্দাঙ্ক হবে ক্ষুদ্রতর। তারকার আলোর স্পন্দাঙ্ক মেপে এর লাল বিচ্যুতি হলে স্পষ্টত বোঝা যাবে, তারকাগুলো আমাদের কাছ থেকে দূরাপসরণ করছে।সূরা আযজারিয়ার ৪৭ আয়াতে নভোমণ্ডল প্রসারিত হচ্ছে উল্লেখিত হয়েছে :                                                                                               ‘নভোমণ্ডল নির্মাণ করেছি আমার ক্ষমতাবলে  এবং  আমি  অবশ্যই  মহাসম্প্রসারণকারী।’

এডউইন হাবল ১৯২৯ সালে প্রকাশ করেন যে, মহাবিশ্ব স্থিতাবস্থায় নেই। যে ছায়াপথটি যত দূরে অবস্থিত তার দূরাপসারণের গতিও তত বেশি। দেখা যায়এক মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরের ছায়াপথ প্রতি সেকেন্ডে ২২`৪কিলোমিটার বেগে এবং দুই মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরের ছায়াপথ প্রতি সেকেন্ডে ৪৪`৮কিলোমিটার বেগে দূরাপসরণ করছে। অবাক বিস্ময়ের সাথে ভাবার বিষয়,বাস্তবে প্রতিনিয়ত মহাবিশ্ব আমাদের থেকে কত দূরে বিস্তৃতি লাভ করছে!আমরা ক’জন গুরুত্বসহকারে ভেবে দেখেছি, "প্রকৃত ঈমানের স্বাদ" সম্পর্কে

=====*************======= 

স্পষ্ট ধারণা পেতে হলে সর্বশেষ বিজ্ঞানের নভোমণ্ডল ও মহাবিশ্ব সম্পর্কে ন্যূনতম একটি ধারণা একেবারে না থাকলেই কিন্ত নয়? প্রশ্ন আসা একেবারেই কিন্ত স্বাভাবিক ঈমানের  সত্যিকার স্বাদ পাওয়ার জন্য এসব তথ্য জেনে কী আর হবে? মুজাদ্দেদ ইমাম গাজ্জালি রহ:সেই মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠইসলামি চিন্তাবিদ।বর্তমানে মহাকাশবিজ্ঞানের যে বিকাশ হয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটে মধ্যযুগে এই বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা কোন পর্যায়ে ছিল, তা সহজেই অনুমেয়। সেই যুগে তার একটি উপমা এখানে তুলে ধরলে আমরা একেবারে চমকে উঠব! তিনি তার সময়ের এবং পরে সব কালের ঈমানদারদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন একটি উপমার মাধ্যমে, আল্লাহ পাকের প্রতি ঈমান সুদৃঢ় করার অতি সহজ একটি পথ। এটি হচ্ছেঈমানদারদের দৌড় শুধু মসজিদ নয়, বরং মহাকাশ বা মহাবিশ্ব সম্পর্কে যে ব্যক্তির কোনো ধারণাই নেই, তার ঈমানের স্বাদ বা স্তর  হচ্ছে একজন  Impotent (নপুংসক)-এর মতো, যার কোনো অনুভূতিই নেই নর-নারীর দৈহিক সম্পর্কের আসল মজা সম্পর্কে। বাস্তব দুনিয়ায় সবচেয়ে মজাদার,  অপার ফুর্তির  কোনো  কিছু থেকে থাকলে তা হচ্ছে একমাত্র এটি। তেমনি গাজ্জালি রহ:এর মতে, প্রকৃত ঈমানের আসল স্বাদ বা তৃপ্তি পেতে প্রয়োজন এবং পাওয়ার সহজ পথ হচ্ছে আল্লাহ পাকের অপার রহস্য মহাবিশ্ব সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হওয়া। ঈমানদারদের তাচ্ছিল্য করে প্রচলিত কথায় বলে- ‘মোল্লার দৌড় মসজিদ’! কিন্তু আমরা ক’জন  ওয়াকিবহাল,  সে সময়ে সমরকন্দ, দামেস্ক, কায়রো আর  করডোভায় প্রথম বড় বড়  মানমন্দির গড়ে তুলে আরব মুসলমানেরা।মুসলিম জ্যোতিবেত্তারা এমন সব  পর্যবেক্ষণ  চালিয়েছেন,যে সব১২বছরের ওপরে দীর্ঘায়িত হয়েছিল।সে সময়ের মুসলিম বিশ্বের জ্যোতির্বিজ্ঞান কোন অবস্থানে পৌঁছেছিল তার বর্ণনা একটি ঘটনায় ফুটে ওঠে।সন্যাসী গারভাট (দ্বিতীয় সিলভেস্ট নামে তিনি ৯৯৯ সালে পোপ হন)  যখন  করডোভার মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে  লেখাপড়া শেষ করে খ্রিষ্ট ধর্মাচরণে পুনরায় ফিরে  এলেন  তখন লোকে বলে  , তিনি নাকি সেখানে শয়তানের সাথে দহরম  পর্যন্ত করে এসেছেন। পৃথিবীর চার ভাগের তিন ভাগ পানি আর এক ভাগ স্থল।  এ স্থলভাগে  সাত শ’ কোটি মানুষ ছাড়াও রয়েছে কোটি কোটি জীবজন্তু,  পশুপাখি,ক্ষেতখামার, রাস্তাঘাট, পাহাড়পর্বত,বিশাল বিশাল মরুদ্যান, বনজঙ্গল ও আরো কত কী।  আর এত সবকিছু নিয়েই আমাদের আবাসভূমি পৃথিবী,যার বিশালত্ব কল্পনা করাও অনেক দুরূহ নয় কি? তাহলে রাতের আকাশের অগণিত তারকারাজিওছায়াপথ?                                                                    মহাকাশ ও মহাবিশ্ব সম্পর্কিত বিজ্ঞানের সর্বশেষ খবর

আমাদের সূর্য একটি অতি সাধারণ তারকা। এর আকার তারকাগুলোর গড় আকারের মতোই।আমাদের বাসভূমির তারকা সূর্যের ব্যাস ১দশমিক ৪মিলিয়ন কিলোমিটা। এর অর্থ হলো ১০৯টি পৃথিবী সূর্যের পৃষ্ঠে সাজিয়ে রাখা যায়। এটি এত বড় যে, ১ দশমিক ৩ মিলিয়ন পৃথিবীএর মধ্যে ভরে রাখা যায়। আমাদের সৌরগ্রহগুলো সূর্যের  চতুর্দিকে চাকতির মতো জায়গা জুড়ে আছে, যার দূরত্ব সূর্য থেকে সাড়ে চার বিলিয়ন কিলোমিটার। একটি তারকার বর্ণনা যদি এমন হয়, সে ক্ষেত্রে মহাবিশ্বে তারকার সংখ্যা কত? বাস্তবে বিশাল সংখ্যার তারকা নিয়ে একটি ছায়াপথ। তাহলে মহাবিশ্বে তারকা ও ছায়াপথ আসলে কয়টি?  Kornreich মহাবিশ্বে ১০ ট্রিলিয়ন ছায়াপথ ধরে একটি রাফ হিসাব বের করেছেন- ছায়াপথের ১০০ বিলিয়ন তারকার সাথে  এই সংখ্যা গুণ   করলে হয় ১০০  অকটিলিয়ন (octillion) তারকা। তার মানে দাড়ায়, ১ এর সাথে ২৯টা শূন্ঃ১০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০।    Kornreich  জোর দিয়ে বলেন, এটা সাধারণ হিসাব,  তবে গভীর পর্যবেক্ষণে দেখা যায়,  মহাবিশ্বে ছায়াপথের সংখ্যা আরও বেশি। 13 October 2016 , NASA থেকে পাওয়া তথ্য হচ্ছে,দুই ট্রিলিয়ণ  বা ২০ লাখ কোটি ছায়াপথ আছে মাত্র ১০শতাংশ মহাবিশ্বের মধ্যে। কিন্ত ছায়াপথগুলোর ৯০ শতাংশর   খোজ এখনও বাকি। ছায়াপথ হচ্ছে এমন একটি সিসটেম যেখানে মিলিয়ন থেকে বিলিয়ন সংখ্যক তারা মাধ্যাকষনের টানে এক সাথে আটকে থাকে। গানিতিক মডেল  ব্যবহার করে জ্যোতিবিজ্ঞানীরা ‘অদৃশ্যমান’ ছায়াপথগুলোকে শনাক্ত করার চেষটা করছেন । কেননা এই সব ছায়াপথ টেলিস্কোপের আওতায় আসে না।সেখান থেকে ই ধারনা করা হচ্ছে, মানুষের ধারনারও বাইরে রয়ে গেছে আরও লাখ লাখ ছায়াপথ। সূত্রঃ গার্ডিয়ান।তার মাণে দাড়ায় মহাবিশ্বে ২০ ট্রিলিয়ণ ছায়াপথও ছাড়িয়ে  যেতে পারে!   আবার দেখা যায়  সবচেয়ে বড় তারকাগুলো সূর্যের চেয়ে পাঁচশ’ গুণ শুধু বড় নয়,  সেই সাথে  এক লাখ গুণ  বেশি উজ্জ্বল।   ছায়াপথের কেন্দ্রে  অবস্থিত যে কৃষ্ণগহ্বর বা ব্ল্যাকহোল  তার ভর তিন মিলিয়ন সূর্যের সমান হয়ে থাকে।  আপনি যদি প্রতি সেকেন্ডে একটি করে  তারকা  গণনা করেন,  সে ক্ষেত্রে এই হারে সব তারকা গুনতে পাঁচ হাজার বছর লাগবে। ছায়াপথগুলো মহাকাশে এলোমেলোভাবে ছড়িয়েছিটিয়ে  না থেকে সঙ্ঘবদ্ধভাবে  একে  অপর থেকে  বহু দূরত্ব বজায় রেখে অবস্থান করে। সব ছায়াপথ এক করলে তারা মহাশূন্যের এক মিলিয়ন ভাগের এক ভাগ স্থান দখল করবে, যার অর্থ দাঁড়ায় বাস্তবে মহাশূন্য এত  বিশাল যে, বিজ্ঞানের সুপার কল্পকাহিনী পর্যন্ত   এর আওতার আনেক বাইরে।                                    

         ছায়াপথ কত বড়?

এত বড় যে, বড় ধরনের ছায়াপথের আড়াআড়ি দূরত্ব এক মিলিয়ন আলোকবর্ষেরও বেশি হবে [এক বছরে প্রতি সেকেন্ডে এক লাখ ৮৬ হাজার মাইল বেগে যে দূরত্ব অতিক্রম করা যায়, সেটি হলো এক আলোকবর্ষ (৯দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন কিলোমিটার।)] আমরা এমন  একটি ছায়াপথে থাকি, যেটা আড়াআড়ি মাপে  প্রায় এক লাখ  আলোকবর্ষ। আমাদের ছায়াপথটি ধীর গতিতে ঘূর্ণায়মান। এর সর্পিল বাহুগুলোতে অবস্থিত তারকাগুলো প্রায় কয়েক শ’ মিলিয়ন  বছরে একবার করে কেন্দ্রকে  প্রদক্ষিণ  করে। সবচেয়ে ছোট ছায়াপথের নাম ডর্ফ, যার প্রশস্ত  কয়েক হাজার আলোকবর্ষের দূরত্বের। অ্যান্ড্রোমেডার ছায়াপথটির এক প্রান্ত থেকে অপর  প্রান্তের দূরত্ব হবে দুই লাখ ৫০ হাজার আলোকবর্ষ। মজার বিষয় হচ্ছে, এই মুহূর্তে মহাবিশ্বের দিকে তাকালে দূর অতীতের মহাবিশ্বকে আমরা আসলে কিন্তু দেখতে পাবো, কেননা এই সময়ে দূর তারকা ছায়াপথ থেকে আলো এসে কেবল আমাদের কাছে পৌঁছেছে। যে কোয়সারগুলো এখন আমরা দেখছি, সেই আলো আমাদের কাছে পৌঁছতে শত শত কোটি বছর লেগে গেছে। আমাদের নিকটতম তারকা Proxima Centauri থেকে আলো আসতে লাগবে  ৪ দশমিক ৩ বর্ষ।     যুক্তরাষ্ট্রের একটি সর্বাধিক বিক্রীত ক্যারেন আর্মস্ট্রংয়ের বই ‘অ্যা হিস্ট্রি অব গড’ পুস্তকে বর্ণিত হয়েছে‘কুরআন পাকে সব সময়ই বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে  আল্লাহ পাকের নিদর্শন বা বাণীর (আয়াত) রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য। আর এ কারণে ইসলামের অনুসারীরা যুক্তি ও কারণকে এড়িয়ে না গিয়ে গভীর মনোযোগ এবং বিশেষ কৌতূহলের সাথে পৃথিবীর সব কিছুকে পর্যবেক্ষণ করছে। এই মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গির ফলে পরে দেখা যায় প্রাকৃতিক বিজ্ঞানে(ন্যাচারাল সায়েন্স)মুসলমানদের এক উৎকৃষ্ট ঐতিহ্য গড়ে তোলার, যা কখনো বিজ্ঞানের সাথে ধর্মের বিরোধ বা সংঘর্ষ ঘটায়নি,খ্রিষ্টান ধর্মের ক্ষেত্রে যেটা দেখা গেছ।কাজেই মহাবিশ্বের সব কিছুকে পর্যবেক্ষণ ও রহস্য উদ্ঘাটনের মাধ্যমেই কেবল আল্লাহকে খুঁজে পাওয়া ও তার নৈকট্য লাভ করা যেতে পারে।  ঈমান বাড়ানোর পথ বা উপায় হলো  সৃষ্টি রহস্য নিয়ে গভীরভাবে  চিন্তাভাবনা করা।হাদিসশরিফেআছেঃ  সৃষ্টিরহস্য নিয়ে কিছু সময় চিন্তাভাবনা করা, সারা রাত নফল এবাদত থেকেও উত্তম। মহাবিজ্ঞানী আইনস্টাইনের ভাষায়: ‘নিশ্চয়ইএর পেছনে রয়েছে এক অকল্পনীয় মহাজ্ঞানী সত্তার এক রহস্যময় অভিপ্রেত।বিজ্ঞানীর দুরভিসারি জিজ্ঞাসা সেখানে বিমূঢ়  হয়ে যায় বিজ্ঞানের সমাগত  চূড়ান্ত অগ্রগতিও সেখান থেকে স্তব্ধ হয়ে ফিরে আসবে; কিন্তু সেই অনন্ত মহাজাগতিক রহস্যের প্রতিভাস বিজ্ঞানীর  মনকে এই নিশ্চিত  প্রত্যয়ে উদ্বেল  করে তোলে,  এই মহাবিশ্বের একজন নিয়ন্ত্রা রয়েছেন। তিনি অলৌকিক জ্ঞানময়, তাঁর সৃষ্টিকে অনুভব করা যায় কিন্তু তাকে কল্পনা করা যায় না।’ যে ছায়াপথটি যত দূরে অবস্থিত তার দূরাপসারণের গতিও তত বেশি। প্রতিনিয়ত মহাবিশ্ব কত বিস্তৃতি লাভ করছে! আবার যেহেতু সব ছায়াপথ মহাকাশের  দশ লাখ ভাগের মাত্র এক ভাগ জায়গা দখল করে আছে, সে ক্ষেত্রে ১০ পৃথিবীর সমান নিম্নস্তরের জান্নাত হওয়াটা একেবারে সাধারণ ঘটনা। ‘নিশ্চয়ই এর পেছনে রয়েছে এক অকল্পনীয় মহাজ্ঞানী সত্তার এক রহস্যময় অভিপ্রেত।’ আবু হোরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (দঃ) বলেছেন, "আল্লাহ্‌ পাক বলেন - জান্নাতে এমন নেয়ামত তৈরী করে রেখেছি যা কোন চোখ দেখেনি, কোন কান যার কথা শোনেনি, এবং কোন মানুষের কল্পনায়েও যা আসেনি।" জান্নাতে অসুস্থ্যতা ও বার্ধক্যতা নেই, চির যৌবন লাভ করবে জান্নাতবাসীরা, রাসুলুল্লাহ (দঃ) একদিন বলেন, "বৃদ্ধদের জান্নাতে দেখা যাবে না।" নিকটে অবস্থানরত এক বৃদ্ধা এ কথা শুনে কেঁদে ফেললেন। যখন তাঁকে কান্নার কারণ জিজ্ঞাসা করা হলো, তিনি বললেন, "আমি বৃদ্ধা হয়ে গেছি। আগে যদি মারা যেতাম, জান্নাত লাভের সৌভাগ্য হত।" তাঁকে আশ্বস্ত করে রাসুল (সাঃ) বললেন, "জান্নাতবাসী সকলেই চির যৌবন লাভ করবে, অতঃএব ভয়ের কিছু নেই।"    সবচেয়ে নিম্ন স্তরের জান্নাতের আয়তন হবে দশ পৃথিবির সমান। আর বড়টি কত বড় হবে তা মহাবিশ্ব নিয়ে  একটু চিন্তা  করলে  সবার কাছে একেবারে  পরিষ্কার হবারই  কথা ।   

 [ লেখাটি  মুনা (Muslim Ummah of North America)  বুলেটিনে    প্রকাশিত  ]                                                                                            লেখক : সাবেক  পদার্থবিজ্ঞান শিক্ষক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

Thursday, March 21, 2024

সবচেয়ে সহজ প্রকান্ড ভারী ইবাদতের খোঁজে।

 সবচেয়ে সহজ প্রকান্ড ভারী   ইবাদতের খোঁজে।

 খুব সহজ কিন্ত সবচেয়ে কার্যকর একটি ইবাদত যা একেবারে অতি সহজে অনায়াসেই করা সম্ভব  হলেও সঠিকভাবে না জানার কারনে প্রায় সবাই সাধারণত উপেক্ষা করে থাকে আর যার গুরুত্ব সম্পর্কে আমরা বেশীরভাগই বিশেষভাবে অসচেতন। এই অতি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতটি জিকরুল্লাহ (আল্লাহকে স্মরণ)। সবচেয়ে সুবিধাজনক ইবাদত হচ্ছে এটি, কারন এ জন্য অজু, গোসল বা পবিত্রতার জন্য নেই কোনো বাধ্যবাধকতা। বসে, দাড়িয়ে, শুয়ে, ভ্রমণে যে কোনো পরিস্থিতিতে, সময়ে বা যে কোনো যায়গায় অনায়াসে এই জিকরুল্লাহ পালন সম্ভব কার্যত প্রকৃতিতে আল্লাহ পাকের অগণিত সৃষ্টি রহস্য দেখে। শুধু শর্ত একটিঃ সকল পরিস্থিতিতে প্রকৃতির সবকিছুতে সৃষ্টিকর্তার আয়াত (নিদর্শন) খুজতে গভীর মনোযোগ সহকারে জ্ঞান ও চিন্তা শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। 'যারা দাড়িয়ে, বসে ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহর জিকির  করে এবং চিন্তা -গবেষণা করে আসমান ও জমিন সৃষ্টির বিষয়ে; তারা বলে হে আমাদের প্রতিপালক! এসব তুমি অনর্থক সৃষ্টি করনি। সব পবিত্রতা তোমারই, আমাদিগকে তুমি আগুনের শাস্তি থেকে বাচাও' [ইমরান -১৯১] এখানে আল্লাহ তায়ালার জিকির করার অর্থ হলো পৃথিবী ও পৃথিবীর বাইরের জগত সম্পর্কে চিন্তাভাবনা ও গবেষণা করা।

=================

 শুরুতে আমরা আমাদের  নিজের  সাড়ে তিন হাত দেহটা  পরখ করে  আরম্ভ করি।

--------------------------------

**এক~~ মানব ব্যাকটেরিয়া না

  ব্যাকটেরিয়া মানব!

**************************

*আমাদের কেবল মুখের  ভিতরে ব্যাকটেরিয়ার   সংখ্যা হচ্ছে বর্তমানে এই দুনিয়ায় যত মানুষ তার সমান!


*প্রাপ্ত বয়স্কদের দেহে গড়ে ৩০ ট্রিলিয়ন কোষ রয়েছে।


আর ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা হবে ৪০ ট্রিলিয়ন। অর্থাৎ মানব দেহ কোষের চেয়ে ব্যাকটেরিয়া বেশী- {১:১.৩}


* আমাদের প্রতি পায়ের পদতলে ১  ট্রিলিয়ন ব্যাকটেরিয়া   থাকে ।


*দেহের স্কিনের প্রতিইঞ্চি যায়গায় ৩২মিলিয়ন ব্যাকটেরিয়া থাকে।


*মানব দেহের ৩ থেকে ৫ পাউনড  ব্যাকটেরিয়া দিয়ে গঠিত।


*প্রতিদিন ১০০ মিলিয়ন থেকে ১ বিলিয়ন ব্যাকটেরিয়া  দেহে জন্মা নিতে পারে । তবে তাদের বেশির ভাগ ক্ষতি করেনা বরং অংশবিশেষ   উপকারী।


** দুই~ ~পরিপাকতন্ত্রঃ

*********************


* আমাদের পরিপাকতন্ত্রের এসিড রেজর ব্লেডকে গলিয়ে ফেলে।


* তার পরেও একেবারে গলে না যেয়ে   অবিকৃত থেকে কাজ চালিয়ে যায় পাকস্থলি !


* পাকস্থলির কোষ সাথে সাথে নতুন ভাবে তৈরিহয়।


* যেটা এত স্বল্প ব্যাবধানে ঘন ঘন ঘটে যে


 * প্রতি তিন চার/দিনের মধ্যে আমরা  আর একটা নতুন পাকস্থলী  ব্যবহার করতে পারি।

*প্রতি ২৪ ঘণ্টায় পাকস্থলী ২ লিটার  এসিড তৈরি করে।


 ** তিন~~ব্রেইন :

****************

* ব্রেইনে প্রতি সেকেন্ডে ১০০,০০০ রাসায়নিক ক্রিয়া ঘটে।


* ব্রেইন দেহের ২ ভাগ মাত্র।


* কিন্ত দেহের  সব অক্সিজেন ও ক্যালরির ২০ ভাগ সে একাই কাজে লাগায়।


* দেহের ৭৫% পানি দিয়ে হলেও ব্রেইনের ৮০ % কিন্ত পানি দিয়ে  গঠিত।


*ব্রেইনের ১০০ বিলিয়ন স্নায়ুকোষ রয়েছে যারা দেহের মধ্যে  সংবাদ আদান প্রদান করে ।


*ব্রেইনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভাজ গুলো ছাড়িয়ে দেয়া হলেএকটা বালিশের আকার পাবে।


*ব্রেইন থেকে সংকেত স্নায়ুর মাধ্যমে ঘণ্টায় ১৭০মাইল  বেগে ভ্রমণ করে।


একজন মানুষের ব্রেইনের ক্ষমতা কয়েক শ  সুপার কম্পিউটারের চাইতেওবেশি।

* মানব ব্রেইন ৩ থেকে১০০০ টেরাবাইট তথ্য ধারন করতে সক্ষম। 


*যেখানে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল আর্চিবের পরিমাণ হচ্ছে৭০ টেরাবাইট তথ্য (যুক্তরাজ্যের ৯০০বছরেরইতিহাস  সংরক্ষিত  রয়েছে যে স্থানে )।


** চার~~ ফুসফুসঃ

******************

শ্বাস প্রশ্বাস চালানোর জন্য দেহের   অনেক যায়গা দরকার  হয়।  


*ফুসফুসে২৪০০কিমিঃ(১৫০০মাইল)  বায়ুপথ থাকে এবং   ৩০০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন গর্ত থাকে।তার মানে 


*যদি ফুসফুসের সব শিরা ও গর্ত   ভাজমুক্ত করে একের সাথে অপরের জোড়া লাগিয়ে সাজানো হয় তবে এটা ৯৯২ কিমি লম্বা হবে।


*আমাদের ফুসফুসের মধ্যে ৩০০ মিলিয়ন কৈশিকনালী আছে যা আমেরিকাকে আড়াআড়িভাবে বেষ্টন করবে।


*ফুসফুসের  ভিতরে  যে যায়গা  রয়েছে সেটিএকটি টেনিস কোর্টের এক দিকের প্রায় সমান হবে।


*প্রতি ২৪ ঘণ্টায় ফুসফুস ২৩,০০০ বার নিশ্বাসনেয়।


**পাঁচ~~ হার্ট ও ডিএনএঃ 

***********************

*হাতের মুষ্টির মত দেখতে হার্ট  যেটা ৬০হজার মাইল রক্তনালীর মধ্য দিয়ে রক্ত সরবরাহ করে থাকে।


* দৈনিক আমাদের হার্ট১০০বার করে আমাদের দেহে রক্ত  ঘুরিয়ে   ফিরিয়ে প্রবাহিতকরে।


*এক দিনে রক্ত ১৯,৩১২ কিঃমিঃ দূরত্ব অতিক্রমকরে।


* দিনে হার্ট স্পন্দিত হয় ১00,000 বার ,বছরে ৩৫মিলিয়ন বার।


* হার্ট  মিনিটে ৫.৫ লিটার রক্ত পাম্পিং করে। দিনে ২হাজার গ্যালন।


 শরীরের সব DNA পেচমুক্ত করলে    লম্বা হবে প্রায় বিলিয়ন  মাইল-


*যে দূরত্বটা  হচ্ছে পৃথিবী থেকে প্লুটো  যেয়ে ফিরে আসার সমান।. 


*   রিচার্ড ডকিন্স DNA সম্পর্কে বলেছেন, 

[‘There is enough information capacity in a single human cell to store the Encyclopaedia Britannica, all 30 volumes of it , three or four times over’ 


একটি DNA তে এতো পরিমাণ স্পেস আছে যেখানে চাইলে৩০ ভলিউমের ৩-৪ টি এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা লিখে রাখা  সম্ভব।]


** ছয়~~আমাদের দেহ  প্রতিনিয়ত কি হারাচ্ছে?

*********************

প্রাপ্ত বয়স্করা প্রতি মিনিটে সেল হারাচ্ছে ৪ কোটিরও বেশি (৪১৬৬৬৬৬৬)।


*প্রাপ্ত বয়স্কদের প্রতিদিন ৫০ থেকে ৭০ বিলিয়ন দেহ কোষ নষ্ট হয়।      *যে সবের বেশির  ভাগ হচ্ছে  রক্ত ও স্কিন কোষ যারা প্রতিনিয়ত আবার  তৈরী  হচ্ছে। 


*প্রতিদিন ১লক্ষ ৯০ হাজার ব্রেইন সেল নষ্ট হয়।


*তার ভিতর নিউরন হচ্ছে৯হাজার।


** সাত~আমাদের দেহ প্রতিনিয়ত কি কি তৈরি করছে?

**************************

*সারা জীবন আমরা যে থুথু তৈরি করি যা দিয়ে


 ২টি সুইমিংপুল ভরাট হয়।


*আমাদের পায়ে অর্ধমিলিয়ন ঘর্ম নির্গত গ্রন্থি রয়েছেযেটা               


দিনে ১০ আউন্স তরল নির্গত করে।


*গড়ে সাধারণত একজন মানুষ৩০মিনিটে যে তাপ 


তৈরী করতে পারে যা  দিয়ে  *অর্ধগ্যালন পানি ফুটানো যায়।


*আমাদের নাক ৪০হাজার ভিন্ন ধরনের ঘ্রান চিন্থিত করতেসক্ষম।


 * দেহে প্রতিদিন ৩০০ বিলিয়ন নতুন কোষ তৈরি হয়।


*একজন পুরুষ প্রত্যেক দিনে ১০ মিলিয়নের মত শুক্র তৈরী করে।


 *একজন মহিলা অর্ধ মিলিয়ন এগ  তৈরী করে।


 **প্রতি মিনিটে ১৮০ মিলিয়ন লাল রক্ত কনিকা (RBC)দেহে তৈরী  হচ্ছে।  


*প্রতি বছর ৩ মিলিয়ন লিটার রক্ত দেহ যুক্ত করে।

*যকৃত প্রতি ২৪ ঘণ্টায় ১,৫০০ লিটার রক্ত শোধনকরে।


*  আমাদের দেহের স্কিন প্রতি ২৭ দিনে পুনর্গঠিত হয়।


** আট~দেহের কয়েকটি বিশেষ চাঞ্চল্যকর ঘটনাঃ 

***********************

** বিকেলের চেয়ে সকালে আমরা ১ সেন্টিমিটার বেশিলম্বা হই


*কারন দিনে কাজ কর্মের সময় আমাদের হাঁটুর তরুণাস্থিএবং অন্যান্য যায়গা ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়।


** মুখ দিয়ে কোন খাদ্যের স্বাদ উপলব্ধির   জন্য   সর্বপ্রথম   দরকার এটা গলিয়ে ফেলা। জিহ্বা শুষ্ক থাকলে ক্যান্ডির স্বাদ কিন্ত বোঝা যাবেনা ।


*মাত্র .০০১ সেঃ এর ভিতরেই দেহ স্বাদের ধরন নির্ণয় করতে পারে যেটা চোখের পলকের চেয়েও দ্রততর যদিও চোখ প্রতি ২৪ ঘণ্টায় ২৩ হাজার বার পলক ফেলে। ** মানুষের আঙ্গুল এত ক্ষুদ্র জিনিষের অনুভূতি পেতেপারে যেটা


*চুলের ব্যাসের ৭৫০০ গুনের চেয়েও ছোট হবে (১৩ন্যানোমিটার )


** আমরা যখন হাসি তখন আমাদের দেহে


*ক্লান্তি সৃষ্টিকারী হরমোন গুলো  কাজ করতে  পারে না !


*সে কারনে আমাদের তখন আরও বেশি সজীব এবং সতেজ দেখায়।


**একই মাপের ষ্টীল বারের চেয়ে  মানুষের  হাড় ৫গুন বেশি   শক্ত তবে এটা আঘাতে ভঙ্গুর হতে পারে।


**  স্বপ্ন দেখে বেশি IQসম্পন্ন লোকজন ।


** পায়ে ৫২ হাড় থাকে যা সমগ্র দেহের হাড়ের চার ভাগের একভাগ।


**বেশিরভাগ শিশু নীল চোখ নিয়ে জন্ম গ্রহণ করলেও সূর্যের অতি বেগুনী রশ্মি ও মেলানিন পরবর্তীতে চোখের আসল রঙ নির্ধারণ করে।


**বয়স বাড়ার সাথে সাথে চোখের রঙ হালকা হয়ে যায়।


** আমাদের হাতের নখ যা দিয়ে তৈরি ঠিক সেই পদার্থ দ্বারা চুল তৈরি।


**হাতের নখ এবং চুল উভয় একই পদার্থের তবে দুটির ঘনত্ব আলাদা।


মানুষের একটি চোখ ৭০০ টি সুপার ডিজিটাল ক্যামেরার সমান।

Friday, March 15, 2024

ইসলাম:বিজ্ঞান চর্চা ও সময়ের challenge.

 ইসলাম: বিজ্ঞান চর্চা ও সময়ের  challenge. 

***1001 Inventions করেছে মুসলিম সভ্য তা।

***প্রচলিত আজকের বিজ্ঞানের Invention করেছে মুসলিম জাতি যে রেকর্ডটি ওয়াসিংটন ডিসি লাইব্রেরি অব কংগ্রেসে রয়েছ ।

#@&#@&#@&#@&#@&#@#

যুগ যুগ ধরে মুসলিম বিশ্বে এই প্রচলিত ধারণা এবং বিশ্বাস দানা বেঁধে আছে যে, ইসলামে ইলম  তথা জ্ঞান অর্জনে যে ছওয়াব লাভের সুযোগ রয়েছে তা কেবলমাত্র কোরআন, হাদীস এবং ধর্মগ্রন্থ  পাঠের মধ্যে সীমাবদ্ধ। যদিও একজন ধার্মিক মুসলমানকে তার নিজের এবং সমাজের মানুষের দৈনন্দিন জীবনের মৌলিক প্রয়োজনে চিকিৎসা প্রকৌশল, কৃষি, জীব, রসায়ন ইত্যাদি বিজ্ঞানের সকল শাখার যে কোনটির উপরে ব্যাপক অধ্যয়ন, অনুশীলন ও গবেষণা চালাতে হতে পারে অথবা হতে বাধ্য হতে হয় কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সাধারণত দেখা যায় হয়ত তিনি জানেন না/খোঁজ রাখেন না বা তার কাছে ব্যাখ্যা করে গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরা হয় না যে, নিজ জীবনে ধর্মের প্রয়োজনীয় জ্ঞানলাভের পর ব্যবহারিক জীবনের প্রয়োজনের স্বার্থে এই জ্ঞান অর্জনেও কোরআন-হাদীস পড়ার মত একই রকম হওয়াবের অধিকারী হওয়া যেতে পারে। একজন সুফি সাধক মুজাদ্দেদ ইমাম গাজ্জালী (রহঃ) 'খুলুকে মুসলিম' গ্রন্থে তাঁর সেই মধ্য যুগে বসে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়ে গেছেন, 'অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, কতিপয় লোক ইলম অর্জনকে শুধু কোরআন-হাদীসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চান। অথচ যে বিদ্যা মুখের জীবন ধারণ হয় এবং জীবনের উপাদান গৃহীত হয় তা কোন অংশেই কম মূল্যবান নয়। কোন মুসলমান যদি প্রয়োজনীয় ধর্মীয় শিক্ষা শেষে মানুষের মঙ্গল চিন্তা করে ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন করে, তবে সে ধর্মীয় শিক্ষারই ছওয়াব লাভ করবে।' হাদীস শরীফে আছে, 'জ্ঞানীর কলমের কালি শহীদের রক্তের চেয়েও পবিত্র।' আধুনিককালে জীবনযাত্রায় মুসলিম বিশ্ব যখন জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় বাদবাকি বিশ্বের সাথে দারুণভাবে মার খেয়ে জীবন বাঁচানোর জন্য অগত্যা অনন্যোপায় হয়ে আত্মঘাতী শহীদের রক্তকে মনে করে নিতে বাধ্য হচ্ছে বেশী পবিত্র, মুসলিম জাতির সেই ক্রান্তিলগ্নে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মুহাম্মদের অতিসম্প্রতিক বক্তব্য ইমাম গাজ্জালীর কথার কেবলই প্রতিধ্বনি যদিও রয়েছে, যুগের বিস্তর ব্যবধান। । 

তার বক্তব্যটি হচ্ছে- 'বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের সহজেই নির্যাতন ও যুদ্ধে পরাজয়ের কারণ ভ্রান্ত ধর্মীয় শিক্ষা যা তাদের পশ্চাৎপদ করে রেখেছে। সারা দুনিয়ার মুসলমানরা আল্লাহর কাছে ইরাকি মুসলমানদের রক্ষা করতে মোনাজাত করে। কিন্তু তাদের প্রার্থনার জবাব আসেনি। এর কারণ এই নয় যে, আল্লাহ তায়ালা মুসলমানদেরকে পরিত্যাগ করেছেন; করং এর কারণ তারা জ্ঞান এবং যোগ্যতায় উন্নত বিশ্বের সাথে প্রতিযোগিতা করতে পারেনি।       প্যালেস্টাইনের আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীরা শহীদ হিসেবে বহু মুসলমানের কাছে শ্রদ্ধার পাত্র। কিন্তু যারা বিজ্ঞান, গণিত, ইঞ্জিনিয়ারিংসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় বিষয় অধ্যয়ন করেন তাদের কাছে এর কোনই মূল্য নেই। মুসলমানরা ইসলামের সঠিক পথ বেছে না নিয়ে বর্তমানে ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা করে নিজেদের দুর্ভোগ সৃষ্টি করছে।' কিন্তু পশ্চাৎপদ কিছু গোঁড়া লোক সব যুগে বিজ্ঞান চর্চাকেও ইলম-এর অন্তর্ভুক্ত করতে প্রস্তুত না থাকলেও ইসলামের ঊষাকালে আমরা বিজ্ঞান অনুশীলন ও গবেষণার এক উজ্জ্বল চিত্র দেখতে পাচ্ছি। ইতিহাসে ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্মের অনুসারীরা তাদের পবিত্র ইবাদত গৃহকে বিজ্ঞান চর্চা র কাজে ব্যবহার  করেনি ।অনেকে রয়েছেন যারা বিজ্ঞান চর্চার কাজে নিয়োজিত থাকার পরও প্রচলিত ধারণার বশবর্তী হয়ে স্বভাবতই মনে করেন না বা একেবারে ওয়াকিবহাল ও নন যে, তারাও ধর্মীয় ইলমের মত এক অতীব গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের কাজে নিবেদিত রয়েছেন। বিষযটি আলোকপাতের পূর্বে আমরা প্রথমে দৃষ্টি নিক্ষেপ করছি: ইসলাম ধর্মের ইবাদতের এই ইউনিক কৌশল ও পন্থায় আজকের প্রচলিত  মডার্ন সাইন্স কিভাবে প্রভাবিত এবং উপকৃত হয়েছে।  'ইসলামের এক গৌরবময় কীর্তি হচ্ছে- কোরআন, হাদীস ও মুসলিম বিধান শাস্ত্র ফিকহার অধ্যয়ন-অনুশীলনের অনুরূপ অন্যসব জ্ঞান-বিজ্ঞানের সাধনাকেও সমান আসন ও মর্যাদা দান করেছে এবং মসজিদের মধ্যেই তাকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।'- পাশ্চাত্য চিন্তাবিদের ইসলামের উপর এ ধরনের স্মরণীয় ঐতিহাসিক মূল্যায়ন থাকার পরেও দুর্ভাগ্যবশত অনেক আল্লাহভীরু মুসলমান ইসলামের সামগ্রিক ইবাদতে বিজ্ঞান গবেষণার বিষয় টি একেবারেই ওয়াকেফহাল নন। ইসলাম ধর্মে এটি  এত বেশী  গুরুত্ব ও মর্যাদা পেয়েছে যে, এটি মসজিদের মত একটি পবিত্র যায়গাতেও আসন করে নিতে সক্ষম হয়েছিল।বিস্ময়কর মনে হলেও ঐতিহাসিক  বাস্তবতা হচ্ছে:  আজকের বিজ্ঞান এমনকি তার নিজ অস্তিত্বের জন্য একান্তভাবে ঋণী ইসলামের ইবাদতের এই অনন্য বৈশিষ্ট্যের কাছে। রবার্ট ব্রিফল্ট তাঁর সুবিখ্যাত গ্রন্থ, 'দি মেকিং অফ হিউম্যানিটি'-তে অনেক উদাহরণ পরিবেশন করে সমাপ্তি টেনেছেন এভাবে, 'আমাদের বিজ্ঞান আরব মুসলমানদের কাছে ঋণী শুধু এতটুকুর জন্য নয় যে, বিজ্ঞানকে তারা কেবলমাত্র চমকপ্রদ আবিষ্কার অথবা বৈপ্লবিক বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব উপহার দিয়েছে। বিজ্ঞান আরবীয় সংস্কৃতির কাছে আরও অনেক বেশী ঋণী- বিজ্ঞান তার অস্তিত্বের জন্যই ঋণী।'      এই একই লেখক তার বক্তব্যটির ব্যাখ্যা দিয়েছেন এভাবে, 'গ্রীকরা নিয়মাবদ্ধ ও সর্বজনীন করা এবং তত্ত্ব সম্বন্ধে সিদ্ধান্ত নেয়ার পথ বাতলিয়েছেন কিন্তু ধৈর্য ধরে গবেষণার পদ্ধতি, সন্দেহাতীত জ্ঞানকে পুঞ্জীভূতকরণ, বিজ্ঞানের প্রতি ক্ষুদ্র ব্যাপারেও বিশদ পরীক্ষণ পদ্ধতি, বিস্তারিত ও দীর্ঘ প্রসারিত নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষামূলক অনুসন্ধান এসব কিছুই গ্রীক মানসিক ধাত/মেজাজে ছিল বহিরাগত, আমরা যেটাকে বিজ্ঞান বলে থাকি তার উত্থান ইউরোপে হয়েছিল নতুন পদ্ধতির গবেষণার ফলশ্রুতিতে এবং পরীক্ষা, পর্যবেক্ষণ, পরিমাপন এবং গণিত শাস্ত্রের উন্নয়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যে পদ্ধতিগুলো গ্রীকদের কাছে অজানা ছিল...।

 এসব মূলনীতি ও পদ্ধতিগুলো ইউরোপকে আরবীয় মুসলমানরা পরিচয় করিয়ে দেয়।' এখানে লেখকের এই উক্তি 'আমরা যেটাকে বিজ্ঞান বলে থাকি..... যার সমর্থন মিলে বর্তমান বিশ্বের সর্ববৃহৎ লাইব্রেরী, লাইব্রেরী অফ কংগ্রেসের একটি রেকর্ড থেকেও। ওয়াশিংটনে অবস্থিত এই লাইব্রেরীর জেফারসন বিল্ডিং-এর (যেটি একমাত্র বিল্ডিং, যেটা দর্শনার্থী এবং পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত) গম্বুজের ভিতরে অংকিত শিল্পকর্মের মাধ্যমে দেখান হয়েছে, পদার্থ বিজ্ঞানের উদ্ভাবন করেছে ইসলাম। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্যঃ বিভিন্ন বস্তু বা বিষয় ইনভেনশনের সাথে সংশ্লিষ্ট দেশের নাম এক একটি শিল্পকর্মের নিচে লেখা থাকলেও একমাত্র ইসলাম ছাড়া অপর কোন ধর্মের নাম সেখানে নেই। বিজ্ঞানের বিকাশ পদার্থ বিজ্ঞানের অগ্রগতির মাধ্যমেই শুরু। হয়। তাই আদিতে মূল বিজ্ঞানকে পদার্থ বিজ্ঞান রূপে বিবেচনা করা হত। 'পদার্থ বিজ্ঞানের উদ্ভাবন করেছে ইসলাম'- লাইব্রেরী অফ কংগ্রেসের এই রেকর্ডের সাথে রবার্ট ব্রিফন্টের আমরা যেটাকে আজ বিজ্ঞান বলে থাকি... ইউরোপকে আরবীয় মুসলমানরা পরিচয় করিয়ে দেয়' প্রদত্ত তথ্যের সাথে একটা যোগসূত্র বের করা যায়। বস্তুত দেখা যাচ্ছে ইসলাম ধর্মে স্রষ্টার ইবাদতের প্রয়োজনে মুসলমানদের মধ্যে যে বিজ্ঞান গবেষণা ও অনুশীলনের আগ্রহ এবং উৎসাহ সৃষ্টি, পরিশেষে তারই বাই প্রডাক্ট হিসেবে আজকের বিজ্ঞান বিকাশ ঘটে ইউরোপে। ওদিকে মুসলিম উম্মাহ খরগোশ-কচ্ছপের দৌড় প্রতিযোগিতার  মত ঘুমিয়ে কাটিয়ে  অধুনা প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় দারুণভাবে মার খেয়ে ধরাশায়ী। প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিশ্বকে তারা এখন কিছু দিতে পারছে না এবং নতুন নতুন প্রযুক্তি যা বিকশিত হচ্ছে। তার থেকে ছিটেফোঁটা হাতড়িয়ে নিয়ে তাতেই খুশি। সম্প্রতি প্রকাশিত আমেরিকার একটি বেস্ট সেলার পুস্তক 'এ হিস্টরি অফ গড'-এ বিশিষ্ট লেখিকা ক্যারেন আর্ম স্ট্রং লিখেছেন। কুরআনে সবসময়ই বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে আল্লাহর নিদর্শন বা বাণীর (আয়াত) রহস্যোদঘাটনের জন্য। এ কারণে মুসলিম যুক্তি ও কারণকে এড়িয়ে না যেয়ে গভীর মনোযোগ এবং বিশেষ কৌতূহলের সাথে পৃথিবীর সবকিছুকে পর্যবেক্ষণ করেছে। এই মনোভাব এবং দৃষ্টিভঙ্গির ফলশ্রুতিতে পরবর্তীতে দেখা যায়, মুসলমানদেরকে সামর্থ। দিয়েছে প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের (Natural Science) এক উৎকৃষ্ট ঐতিহ্য গড়ে তোলার যেটা কখনও ধর্মের সাথে বিজ্ঞানের সংঘর্ষ বা বিরোধ ঘটায়নি। যেমনটি দেখা যায় খৃস্টান ধর্মের ক্ষেত্রে। ইমাম গাজ্জালী (রহঃ) 'খুলুকে মুসলিম' গ্রন্থে সেই সময়ে জোর দিয়ে বলে গেছেন, 'ধর্মীয় শিক্ষার সাথে যদি বিজ্ঞানের ব্যুৎপত্তি না জন্মে তাহলে অনেক ক্ষেত্রে কুরআন-হাদীসের সাথে পার্থিব জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিরোধিতা দেখা দিতে পারে।' জাতীয় গড় আয়ু বৃদ্ধিতে সফলতা, টেস্টটিউব বেবী প্রসঙ্গ, ক্লোনিং পদ্ধতিতে বিভিন্ন জাতের প্রাণীর সৃষ্টি ইত্যাদি অসংখ্য বিষয় রয়েছে যেগুলো সম্পর্কে ধর্মীয় বক্তব্য আসার আগে বিজ্ঞানে ব্যুৎপত্তি থাকা অবশ্যই জরুরী। ইমাম গাজ্জালী সমকালীন দর্শন বিজ্ঞানের ওপর ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিপন্ন করে দেখিয়েছেন, গ্রীক দর্শন বিজ্ঞানের প্রভাবে ইসলামের ভিত ধসে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে এই ধারণাটি অলীক এবং ইসলামের গতিশীল ধ্যান- ধারণার পরিপন্থী। ইসলামের উষাকাল থেকে মুসলমানরা বিজ্ঞান অনুশীলন এবং গবেষণার উপর অপরিসীম গুরুত্ব আরোপ করেছিল এ কারণে যে এর মাধ্যমে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ এই দু'ভাবেই ইবাদতের গুরুত্বপূর্ণ দু'টি দিক একই সাথে সুন্দর এবং সুষ্ঠুভাবে পালন করার সুবর্ণ সুযোগ এটা তৈরী করে দেয় যা অন্য উপায়ে এতটা সহজ এবং সুন্দরভাবে করা সম্ভব নয়। ইবাদতের দু'টি অংশের একটি হচ্ছে হককুল এবাদত আর অন্যটি হককুল্লাহ। মানব বা প্রাণীকূল উপকৃত হয় এমন কাজ দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা যায়। আর আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি লাভই ইবাদতের মুখ্য উদ্দেশ্য। ইসলামের দৃষ্টিতে যে শিক্ষার দ্বারা মানব জাতির উপকার হয় উহাই প্রয়োজনীয় এবং প্রশংসনীয়। হাদীস শরীফে আছে, সমগ্র মখলুক আল্লাহর পরিবার। সে ব্যক্তি আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় যে তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি সদয়। ইঞ্জিনিয়ারিং, চিকিৎসা, রসায়ন, মৃত্তিকা, জীব তথা বিজ্ঞানের সকল শাখাই মানবের ব্যবহারিক জীবনের প্রয়োজন পূরণ করতে কাজ করছে। আধুনিক কালের জীবনযাত্রায় প্রত্যেক মানুষের জীবনের অতি ক্ষুদ্র, ছোট-খাট বিষয় থেকে শুরু করে অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন পূরণ বিজ্ঞানের সহায়তা ছাড়া একেবারেই সম্ভব নয়। কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্যই হোক অথবা পরিবহন, চিকিৎসা সম্পর্কিত হোক, সমাজ জীবনের প্রত্যেকটি কাজে বা বিষয়ে প্রয়োজন অবশ্য বিজ্ঞানের। বর্তমানে হজের জন্য যে পরিবহন ব্যবহৃত হয়, তার পিছনেও কাজ করছে বিজ্ঞান যার কোন বিকল্প নেই আমাদের হাতে। হাদীস শরীফে আছে, যে কোন ব্যক্তির যৎসামান্য উপকার করা এমন কি মসজিদে নববীতে দশ বছর এতেকাফ করা থেকেও উত্তম। যে কোন স্থানের মসজিদে মাত্র একদিন এতেকাফ করলে তার থেকে জাহান্নাম তিন খন্দক দূরে চলে যায়। এর এক এক খন্দের দূরত্ব হচ্ছে আসমান ও জমিনের দূরত্বের চেয়েও বেশী। সুতরাং একজন ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার, রসায়নবিদ, ফার্মাসিস্ট, কৃষিবিদ হয়ে অর্থাৎ বিজ্ঞানের যে কোন শাখায় দক্ষতা অর্জন করে মানুষ ও সমাজের সার্বিক কল্যাণ সাধনে আত্মনিয়োগ করলে তার ছওয়াবের পরিমাণ এত বেশী হতে পারে যে, একজন নিবেদিত সাধকও হয়ত তার ধরা-ছোঁয়া স্পর্শের বাইরে অবস্থান করবে। মুসলিম শরীফে এই হাদীসটি বর্ণিত রয়েছে যে, মানবের মৃত্যুর পর তার সব আমল-খতম হয়ে যায় (অর্থাৎ নতুন করে আমল করার শক্তি মৃত্যুর সাথে সাথেই শেষ হয়) কেবলমাত্র তিনটি আমল ছাড়া যার ছওয়াব মৃত্যুর পরও জারি থাকবে। তিনটির অন্যতম একটি হচ্ছে জ্ঞান যদ্দারা লোকের উপকার হয়। হাশরের দিন অনেকে তার আমলনামার পাল্লা এত বেশী ভারী দেখবে যে তারা অবাক বিশ্বয়ে হতবাক হয়ে জানতে আগ্রহী হবে: আমরা তো এত বেশী প্রার্থনা করিনি কিন্তু এত অঢেল পরিমাণ ছওয়াবের অধিকারী হলাম কি ভাবে? তাদের জানানো হবে যে, পৃথিবীতে তারা এমন কিছু কাজ করে এসেছে যার ফলে মানুষ দীর্ঘকাল ধরে। বিশেষভাবে উপকৃত হয়েছে। তাদের সেই কাজের ফলশ্রুতিতে তারা আজ এত বিপুল ছওয়াবের মালিক হয়েছে। বাতি, ঘড়ি, গাড়ি, বিমান থেকে শুরু করে অগণিত জিনিস বিজ্ঞানীদের সাধনা ও গবেষণার ফসল। মানুষ কেয়ামত পর্যন্ত এগুলো ব্যবহার করবে। যে ব্যক্তি নতুন কিছু ইনভেন্ট করে তার যদি আল্লাহ ও আখেরাতের প্রতি বিশ্বাস থাকে, সে সৎ কর্মশীল হয়ে আর মানুষের কল্যাণসাধনের জন্য সে বিজ্ঞান সাধনায় নিয়োজিত হয়ে থাকে, তবে তিনি কেয়ামত পর্যন্ত অফুরন্ত গুত্তযাবের অধিকারী হবে। এ ছাড়া রাস্তাঘাট, বাসাবাড়ী, হাসপাতাল, স্কুল, টেলিফোন, মোবাইল থেকে শুরু করে মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের অপরিহার্য অজস্র বিষয় অজস্র বিষয় সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্যও প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট বিষয়ের উপর জ্ঞান ও দক্ষতা। প্রত্যেকটি ব্যবহারিক জীবনের প্রয়োজনে এই জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের জন্য একজন ছওয়াব পাবে। অপরদিকে আবার যতকাল ধরে মানুষ এগুলো থেকে উপকৃত হবে অবস্থাভেদে ততকাল পর্যন্ত তাদের আমল নামায় ছওয়াব জমা হতে থাকবে।'

ইসলামের ইবাদতে বিজ্ঞান অনুশীলন ও গবেষণার ক্ষেত্রে যে অপরিসীম গুরুত্ব প্রদান করেছে তার আর একটি কারণ হল এর মাধ্যমে এবাদতের হককুল্লাহর দিকটিও হক্কল এবাদের মত পালন করা সহজতর। হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে যে, সামান্য সময় আল্লাহ তা'আলার সৃষ্টি রহস্য নিয়ে চিন্তা ভাবনা করা দুই শত রাকাত নফল নামাজ থেকেও উত্তম। বস্তুত বিজ্ঞান চর্চা হচ্ছে আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টি রহস্য নিয়ে গবেষণা করা। সাধারণত বিজ্ঞানীরা এই গবেষণালব্ধ জ্ঞানকেই ব্যবহার করে থাকেন। মানব কল্যাণের বহুমুখী কাজে। আধুনিক পদার্থ বিজ্ঞানের একটি সূত্র হচ্ছে। শূন্য থেকে যেমন কোন কিছু সৃষ্টি করা একেবারেই অসম্ভব তেমনি কোন কিছু (ভর অথবা শক্তি) একেবারেই বিলীন করাও কোন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্ভব নয়। আল্লাহ তা'আলার বেঁধে দেয়া নির্ধারিত নিয়মে চলছে বিশ্ব জাহান, বড়জোর আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালিয়ে এ নিয়ম সম্পর্কে একটা ধারণা অর্জন সম্ভব হতে পারে। তবে অবশ্যই এ নিয়মকে কেউ ভাঙ্গতে পারে না, বদলাতে পারে না বা নতুন করে তৈরি করতেও পারে না।

  মূলকথা, প্রকৃতির নির্ধারিত এই আইন এতটুকুই করার বা গড়ার সুযোগ করে দেয় যেটা প্রকৃতির নিয়মের মধ্যে নিহিত রয়েছে এবং প্রকৃতির পূর্ব নির্ধারিত নিয়ম এটা অনুমোদন করে। আসলেই  বিশ্ব প্রতিপালক আল্লাহ পাকের ক্ষমতা, শক্তি,কুদরত ইত্যাদি অনুধাবন ও হৃদয়ঙ্গম করার একমাত্র সহজ পথ হচ্ছে তার সৃষ্টিকে জানার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে এতটুকু উপলব্ধি করা যে, যার সৃষ্টি এতো রহস্যময়এবং মানবের চিন্তা ও কল্পনাশক্তির এত নাগালের বাইরে তিনি তাহলে হবেন কত বড় প্রজ্ঞাময়, ক্ষমতাবান, বিচক্ষণ, সুকৌশলী; আধুনিক পদার্থ বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের ভাষায়: 'নিশ্চয় এর পিছনে রয়েছে এক অকল্পনীয় মহাজ্ঞানী সত্ত্বার এক রহস্যময় অভিপ্রেত। বিজ্ঞানীর দূরভিসারী জিজ্ঞাসা সেখানে বিমূঢ় হয়ে যায়- বিজ্ঞানের সমাগত চূড়ান্ত অগ্রগতি ও সেখান থেকে স্তম্ভিত হয়ে ফিরে আসবে। কিন্তু সেই অনন্ত মহাজাগতিক রহস্যের প্রতিভাস বিজ্ঞানীর মনকে এ নিশ্চিত প্রত্যয়ে উদ্বেল করে তোলে যে, এই মহাবিশ্বের একজন নিয়ন্ত্রা আছেন। তিনি অলৌকিক জ্ঞানময়। তার সৃষ্টিকে অনুভব করা যায় কিন্তু তাকে কল্পনাই করা যায় না।

 প্রকৃত প্রস্তাবে যে যতটুকু আল্লাহর সৃষ্টি সম্পর্কে অবহিত হয়। সৃষ্টি রহস্যকে উপলব্ধি করতে পারে, সেই ততটুকু আল্লাহর ক্ষমতা এবং সৃষ্টিকর্তা হিসাবে আল্লাহ তা'আলার পরিচয় লাভে সক্ষম হয়। বস্তুত সৃষ্টির প্রতিটি অণু-পরমাণুর সৃষ্টি কৌশল মহান আল্লাহ তা'আলার অস্তিত্বের সাক্ষ্যবহন করে। কাজেই দেখা যাচ্ছে, যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার সৃষ্টি নিদর্শন জানার গবেষণায় আত্মনিয়োগ করে। তার পক্ষে আল্লাহর মারেফত (তত্ত্বজ্ঞান) অর্জন একজন সুফীর চেয়েও অনেক সহজতর হবে যদি সে দৃষ্টিভঙ্গিতা স্পষ্ট রেখে অগ্রসর হয়। মুজাদ্দেদ ইমাম গাজ্জালী (রহঃ) একজন উচু স্তরের সুফীও ছিলেন। প্রসঙ্গক্রমে এখানে তার একটি উপমা তুলে ধরা যেতে পারে। বর্তমানে জ্যোতির্বিজ্ঞানের যে বিশাল বিকাশ ঘটেছে সে তুলনায় তার সময় সেই মধ্যযুগে এই বিজ্ঞানের অবস্থান কোন পর্যায়ে ছিল তা সকলের সহজেই অনুমেয়। তার এই উপমাটি খুব গুরুত্বপূর্ণ এ জন্য যে, তিনি তার যুগের এবং পরবর্তী সব কালের মানুষদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন। আল্লাহর প্রতি ঈমান সুদৃঢ় করার প্রকৃত সহজ পথের সন্ধান উপমাটির মাধ্যমে। এটি হচ্ছে: জ্যোতির্বিজ্ঞান/মহাকাশ সম্পর্কে যে ব্যক্তির কোন রকম ধারণা নেই আল্লাহ তা'আলার উপর তার ঈমানের স্বাদ বা ওর হচ্ছে একজন Impotent ব্যক্তির মত যিনি কোনভাবেই বুঝবেন না যে নর- নারীর যৌন সহবাস আনন্দ কেমন হয়ে থাকে। যৌনানুভুতি যেমন অন্য কিছুর সাথে তুলনা করে বুঝানো সম্ভব নয় তেমনি মহাকাশ সম্পর্কে কোন রকম ধারণা না থাকলে ঈমানের প্রকৃত স্বাদ বা স্তর যে কি সেখানে পৌঁছা সম্ভব নয়। প্রকৃত সত্য হল: আল্লাহপাকের শ্রেষ্ঠত্ব, শক্তি, ক্ষমতা, কুদরত, করুণা এসব কিছুই তার র সৃষ্টির অগণিত নিদর্শন থেকে বিশেষভাবে মহাকাশ সম্পর্কে জানায় প্রচেষ্টা চালানোর মাধ্যমে কিছুটা আঁচ করা সম্ভব। আর কোন পন্থায় এত সহজে সম্ভব নয় এটা। আর এ জন্যই কোরআন পাকে বার বার মহাবিশ্ব, পৃথিবী এবং সমগ্র সৃষ্টি নিয়ে পর্যবেক্ষণ, চিন্তা ভাবনা ও গবেষণার মাধ্যমে আল্লাহ পাকের ক্ষমতা, কুদরত ও শক্তিকে অনুধাবন করতে বলা হয়েছে।

'এবং নভোমণ্ডল ও ভূ-মণ্ডল এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বিভিন্নতা সৃষ্টির ব্যাপারটি তাঁর অন্যতম নিদর্শন। নিশ্চয়ই এরমধ্যে তাদের জন্য ইঙ্গিত রয়েছে যারা জ্ঞানী।' 'দেখ নভোমণ্ডল ও ভূ-মণ্ডল প্রষ্টিতে রাত ও দিনের পরিবর্তন। মানুষের লাভ লভ্যের জন্য নৌযানের সমুদ্রাভিযানে, আসমান হতে আল্লাহ যে বৃষ্টি বর্ষণ করেন ও তদ্বারা তিনি মৃত যে প্রাণের সঞ্চার করেন তার মধ্যে বায়ু মৃত্তিকাতে প্রবাহের গতি পরিবর্তনে যা মেঘমালাকে আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যে অনুগত ভূত্যের ন্যায় টেনে নিয়ে বেড়ায়- নিশ্চয়ই জ্ঞানী লোকদের জন্য নিদর্শনাবলী রয়েছে।' 

'পৃথিবীর মধ্যে অনেক নিদর্শন রয়েছে। বিশ্ববাসীর জন্য এবং তোমাদের নিজেদের সৃষ্টির মধ্যেও। তা কি তোমাদের নজরে পড়ে না।' ' তারা কি নভোমণ্ডল ও ভূ-মণ্ডলের ব্যবস্থা গভীর দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করে না? আল্লাহ যে বন্ধু পয়দা করেছেন, তার উপরও কি তারা দৃষ্টি নিক্ষেপ করে না।'            

প্রসঙ্গক্রমে যে বড় প্রশ্নটি এখানে উত্থাপিত হতে পারে তা হচ্ছে- বিজ্ঞান অনুশীলন ও গবেষণা যদি মানুষকে মারেফাত অর্জনেও ভূমিকা রাখতে পারে তবে বর্তমান বিশ্বে যারা বিজ্ঞানের গবেষক ও বিজ্ঞান চর্চায় নিয়োজিত তারা কেন দৃঢ় ইমানী চেতনায় উদ্বুদ্ধ উদ্বুদ্ধ ও উজ্জীবিত হয না? বেশীরভাগ ক্ষেত্রে প্রচলিত এই বিজ্ঞান শিক্ষা ইসলামী আকীদা ও আমল থেকে দূরে ঠেলে দিতে প্ররোচিত করছে। দেখা যাচ্ছে, বিজ্ঞান চর্চা ক্ষেত্রবিশেষে মহান আল্লাহর প্রতি ঈমানের ভিতকে নাড়া দিচ্ছে বা নষ্ট করছে। কেউ কেউ এই শিক্ষার বদৌলতে চিন্তার দিক থেকে নাস্তিকদের দলভূক্তও হয়ে পড়ছে। বিজ্ঞান শিক্ষা-গবেষণা ও অনুশীলন যদি আল্লাহর মারেফাত অর্জন ও তার ইবাদতের সহজ রাস্তা হয় তাহলে বিজ্ঞান শিক্ষার এরূপ বিরূপ প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হয় কেন?

 বাস্তবে কিন্ত  দেখা যায়, এ সমস্যার আসল হেতু কিন্ত আদৌ বিজ্ঞান অনুশীলনের মধ্যে নিহিত নয়। এর মূল কারণ অন্যত্র লুকায়িত। বিজ্ঞানের সকল তত্ত্ব ও তথ্য খোদাদ্রোহী নাস্তিক বিজ্ঞানীরা নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে সুবিন্যস্ত ও বিশ্লেষণ করেছে বলেই এসব পাঠ কবে শিক্ষার্থীরা উল্টা জড়বাদী বা নাস্তিকতার দিকে ধাবিত হয়। একটি অতি পরিচিত পদার্থের উদাহরণের মাধ্যমে আমরা বিষয়টি সুস্পষ্ট করে তুলতে পারি। পানি: আল্লাহ প্রত্যেক জীবকে পানি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন।... (আল নূর-৪৫)

বর্তমানে জীব বিজ্ঞানে এ ধারণাটি প্রতিষ্ঠিত যে, বিশ্বের সব প্রাণীর উৎপত্তি হয়েছে পানি হতে। আমাদের দেহের ৭০ ভাগই পানি। আর কথায় বলে, জীবনের অপর নাম পানি। এই পানি জীবনের জন্য একটি অপরিহার্য উপাদান এবং পৃথিবীর তিন-চতুর্থাংশই হচ্ছে পানি। এই পানির সূত্রগত ওজন ১৮। অ্যামোনিয়ার সূত্রগত ওজন ১৭ হওয়া সত্ত্বেও বায়ুমণ্ডলের চাপে ৩৩ সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় ইহা গ্যাসে পরিণত হয়। অ্যামোনিয়ার চেয়ে পানির সূত্রগত ওজন কেবল মাত্র এক বেশি হওয়ায় যে কেউ সহজেই এ রকম সিদ্ধান্তে উপনীত হবে সামান্য তাপ ও চাপে পানিও গ্যাসে পরিণত হবে। কিন্তু বাস্তবে পানি বায়ুমণ্ডলের চাপে ১০০° সেন্টিগ্রেড তাপ গ্যাসে পরিণত। হয়। এর থেকে এ বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠে যে, পানিকে একটি বিশেষ উদ্দেশে এ রকমটি করা হয়েছে। আবার পিরিয়ডিক টেবিলে অবস্থানের দিক থেকে হাইড্রোজেন সালফাইড পানির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। ৫৯০ সেন্টিগ্রেড তাপে ইহা গ্যাসে পরিণত হয়; কিন্তু যে বিশ্বয়কর ব্যাপারটি সকলকে একদণ্ড থমকে দিয়ে ভাবিত করে তুলছে তা হচ্ছে ৫৯° সে.মে. হতে ১০০° সে.মে. পর্যন্ত পানি তরল অবস্থাতেই থাকে। একমাত্র পানি এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী বা কেন? আর একটা বিশ্বয়কর ব্যাপার হলো, এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত সকল পদার্থের মধ্যে একমাত্র পানিই একটি পদার্থ, যার ওজন ৪° সে. গ্রে.-এর নিচে নামালে আরও হালকা হয়। আর এই একটি মাত্র কারণে বরফ হ্রদ বা নদীর তলদেশে তলিয়ে না যেয়ে পানির উপর ভাসতে থাকে এবং ক্রমশ কঠিন একটা আবরণে পরিণত হয়। পানির উপর বরফের এই আবরণ-আস্তরণের (Insulator) কাজ করে। ফলে আবরণের নিচেকার পানির তাপমাত্রা সকল সময়ে ০° সে.মে.-এর উপর থাকে। মাছ বা কোটি কোটি জলজ প্রাণী এই কারণেই বরফ জমা নদী বা সমুদ্রের তলদেশে জীবন রক্ষা করতে পারে। প্রকৃতিতে আর কোন পদার্থ শীতল হয়ে হালকা হয় না বলেই একমাত্র পানি ছাড়া অপর কোন পদার্থের পক্ষে জলজ প্রাণীদের রক্ষা করা সম্ভব নয়। সকল পদার্থের মধ্যে একমাত্র পানির এই বিশ্বয়কর ব্যতিক্রমধর্মী আচরণের কি ব্যাখ্যা দেয়া যেতে পারে? যেহেতু জীবন সৃষ্টির জন্য পানির উল্লিখিত গুণগুলো অস্বাভাবিক রকম গুরুত্বপূর্ণ। তাই এটা স্পষ্ট হয়ে উঠে, নিজ সৃষ্টির প্রতি যথেষ্ট সচেতন সৃষ্টিকর্তার পক্ষেই একমাত্র এসব বিশ্বয়কর বিশেষ ধর্মের ব্যবস্থা আগে থেকে করে রাখা সম্ভব। উপরের এই বাস্তব ঘটনাটিকে একজন এভাবে বর্ণনা দিতে পারেন যে, পানি তার নিজস্ব বিশেষত্বের কারণে এ রকম গুণপ্রাপ্ত হয় এবং এটাই প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়ম। এই বিশ্লেষণী দৃষ্টিভঙ্গিতে লিখিত বিজ্ঞানের বই পুস্তক অধ্যয়ন করে বা শ্রেণীকক্ষে এরকম বিশ্লেষণ শুনলে একজন শিক্ষার্থীও এই দর্শন দ্বারা প্রভাবিত হয়ে পড়ে। আর অপর একজন এই ঘটনার বর্ণনা দিতে যেয়ে বলবেন, মহান আল্লাহ তার নিজস্ব বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা ও রবুবিয়াতের অধীনে পানির মধ্যে এই বিশেষত্ব এজন্য রেখেছেন, যাতে মানুষ এবং নদী সমুদ্রের প্রাণীকুল জীবন ধারণ করতে পারে। এই দু'ধরনের বিশ্লেষণ ভঙ্গির এক পদ্ধতিতে পাঠক মাত্রেরই মনে আল্লাহর একত্ব, তার সৃষ্টি কুশলতা এবং লালন পালনের ধারণা বিশ্বাস মনে বদ্ধমূল হয়। আর অপরটিতে মনে আল্লাহ সম্পর্কে কোনই ধারণা জন্মে না। বরং মনে এই ধারণাটাই প্রবল হয় কোন বিজ্ঞ সৃষ্টিকর্তার মহাকৌশল ও কোন মহাশক্তিমান প্রতিপালনকারীর প্রতিপালন ব্যবস্থার কার্যকারিতা ছাড়াই সবকিছু স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনা আপনি ঘটে যাচ্ছে। বাস্তবে কথা হচ্ছে, বিজ্ঞানের কোন শাখায়ই এমন নেই যা মানুষের অন্তরে ঈমানকে সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করে দেয় না। পদার্থবিদ্যা, রসায়নবিদ্যা, জীববিদ্যা, চিকিৎসাবিদ্যা, জ্যোতির্বিদ্যা- যে বিদ্যারই নাম করা হোক না কেন, তার মাধ্যমে এমন সব বাস্তব সত্য উদঘাটিত হবে যা মানুষকে খাঁটি ও প্রকৃত ঈমানদার বানাবার জন্য যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে সক্ষম। আর প্রকৃত প্রস্তাবে কোরআনের আলোকেই একথা বলা যায় যে, বৈজ্ঞানিক সূক্ষ্ম তত্ত্ব ও তথ্যের তুলনায় মানুষের হৃদয়-মনে অধিক ঈমান সৃষ্টিকারী দ্বিতীয় কোন জিনিস নেই। সুতরাং কালবিলম্ব না করে মুসলিম জাতি হিসেবে আমাদের বর্তমান অভীষ্ট লক্ষ্য কি এই হওয়া উচিত নয় যে, জ্ঞান-বিজ্ঞানের সব শাখায় বর্তমানে প্রচলিত দর্শন বিন্যাসের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন সাধন করে বিজ্ঞানের সব শাখাতেই ইসলামী দৃষ্টিকোণ ও ঈমানী চেতনার আলোকে শিক্ষা প্রদান। এটি আমাদের জন্য অবশ্য কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই সাথে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছে মুসলিম সমাজ সচেতনতার পরিবেশ সৃষ্টি করা যে, আমাদের বর্তমান দুর্ভোগ থেকে বাঁচার প্রকৃত সহজ পথ হচ্ছে একমুখী অর্ধেক ইবাদতের পথ ও শিক্ষাকে পরিহার করে দ্বিমুখী পূর্ণাঙ্গ সত্যিকার ইবাদতের পথ ও শিক্ষাকে প্রতিষ্ঠিত করে বাকি বিশ্বের চ্যালেঞ্জের মোকাবিলার জন্য ক্ষেত্র প্রস্তুত করা।


.

Wednesday, March 13, 2024

 রমজানে প্রত্যেক ইমানদারের জন্য অন্তত্য গুরুত্বপূর্ণঃ

প্রচলিত ইবাদত সংস্কৃতিতে দুর্নীতি চর্চায় কেন বিদ্যমান শুভঙ্করের ফাঁকি!
দুর্নীতির র্যাঙ্কঃ-কেন ইসরাইল-৩৫...সৌদিআরব-৫৪... ইরান-১৪৪ ...বাংলাদেশ-১৪৮?
বর্তমানে ধারাবাহিকভাবে ১৭৯ দেশের দুর্নীতির র্যাঙ্কঃ- ---------------------
সবচেয়ে কম দুর্নীতি পরায়ণ দেশ থেকে উপরে যে সব দেশঃ
নিউজিল্যান্ড-১.....ইসরাইল-৩৫...... সৌদিআরব-৫৪..... ইরান-১৪৪ ...বাংলাদেশ-১৪৮...---------------
আজকে সবচেয়ে বড় প্রশ্নঃ প্রচলিত ইবাদত সংস্কৃতিতে দুর্নীতি চর্চায় কেন বিদ্যমান শুভঙ্করের ফাঁকি!
বর্তমান বিশ্বে ক'জন মুসলিম বিষয়টির সাংঘাতিক পরিণতি সম্পর্কে সত্যি সত্যি একদম সজাগ/সচেতন?
মুসলিম সমাজে সবচেয়ে স্পর্শকাতর ধাঁধাঃ
জান্নাত লাভের শর্ত মিটাতে নামাজ,রোজার মত প্রচলিত সব ইবাদতকে কোরআন পাকে সরাসরি
একেবারে না রাখার কারন বিষয়টি মুসলিম সমাজে বলতে গেলে সম্পূর্ণই উপেক্ষিত/ অনুপস্থিত/ অবহেলিত!
কেন এমন টি হচ্ছে ? সেই সাথে কিন্ত সমাজে প্রচলিত জোরালো উন্মাদনা হচ্ছেঃ
সমগ্র জীবনভর সৎকর্মশীল হবার সাধনা প্রায় একেবারেই ছেড়ে দিয়ে অনায়াসে কত বেশি ভুরি ভুরি
পাহাড় সম উচ্চতার সওয়াব অর্জন করা যায় সে জন্যই নিরলস অর্থহীন সাধনা/ প্রতিযোগিতা।
[ উদাহ্ রনঃ না বুঝে অসংখ্যবার কোরআন খতম, কোটি কোটি সওয়াব লাভের প্রচলিত খতমে তারাবী ,
অর্থ না জেনে /বুঝে তোতা পাখির মত সব জিকির -ইবাদত ইত্যাদি,ইত্যাদি।]
ইমাম হাসান আল বসরী (৬৪২-৭২৮ খৃঃ) বলেনঃ 'কুরআনকে নাযিল করা হয়েছে
এর নির্দেশনা বলীর ভিত্তিতে কাজ করার জন্য কিন্ত তা না করে তারা এর [ আব কে}] কাজ হিসাবে ধরে নিয়েছে।
'[রমজানে প্রচলিত খতমের ফলহীন প্রতিযোগিতা।]
বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত সবচেয়ে বড় এবং মারাত্মক ভুল ধারনা যা অবশ্যই মুসলিম দেশ/ সমাজকে বিশেষভাবে প্রভাবিত এবং গভীরভাবে আলোড়িত করে চালিত করছেঃ
জান্নাত লাভের জন্য ঈমান সেই সাথে নামাজ, রোজা, হজ্ব, জাকাতই সর্বসাকুল্যে যথেষ্ট, একদম বিলকুল যেন সবই।
যদিও এই দাবির সমর্থনে একটি আয়াতও কিন্ত নেই, খুজে পাওয়া যাবেনা তথাপিও
এই প্রচলিত ভ্রান্ত বিশ্বাস নিয়ে বলতে গেলে কারও কোন মাথা ব্যাথা পর্যন্ত ময়দানে একেবারেই দেখা যায়না ! কিন্ত কেন?
সাধারন গন মানুষের মধ্যে অজান্তে সব সময় যে ভ্রান্ত ধারনা ও বিশ্বাস মনের অত্যন্ত গভীরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করে থাকেঃ-
কোন রকম ভাবে জান্নাত পাবার জন্য ইসলাম ধর্মে যেন এর বাইরে অতিরিক্ত বিশেষ কিছুর ই আর দরকার নেই/শরিয়তে আর কিছু একদম রাখাই হয়নি।
কার্যতঃ দুনিয়ার সব মুসলমানের আপাত মারাত্মক এই ভ্রান্ত দৃঢ় বিশ্বাসই তাদেরকে সামগ্রিকভাবে ভীষণভাবে
বিপথগামী করে বিশ্বে অধিকতর দুর্নীতিপরায়ণ দেশ/জাতি/ ধর্মের আসনে প্রতিষ্ঠিত করতে পারছেঃ
'কালেমা ,নামাজ, রোজা, হজ্ব, যাকাত এই পাচ কাজে ফাঁকি না দিলে জান্নাতে সে অনায়াসে হেলে দুলে যেতে পারবেই
আর জান্নাত তার জন্য যেন অবধারিত।'জান্নাত যেন হবে তার ছেলের হাতের মোয়া!
'আসলে বাস্তবে কিন্ত জান্নাত লাভের সব আয়াতেই সোজা সুজি ২ টি শর্ত পালন অপরিহার্য করা হয়েছে
যেথায় নামাজ-রোজার মত প্রচলিত এবাদতের প্রত্যক্ষভাবে একেবারে উল্লেখই কিন্ত নাই। আমরা পর্যালোচনা করবঃ কেন উল্লেখ নাই?
জান্নাতের পাশ হস্তগত করার জন্য মাত্র দুটি শর্ত রাখা হয়েছে যা অবশ্য অবশ্যই পুরন করতে হবে অন্যথায় পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ জাহান্নামঃ
১) ঈমান
২) সৎকর্মশীল জীবন।
সেক্ষেত্রে অবশ্য স্বভাবতই প্রশ্ন আসেঃ সারা দুনিয়ার মুসলিম সমাজে নামাজ, রোজা, হজ্ব, যাকাত নিয়ে তাহলে এত কঠোরতা এবং বাড়াবাড়ি কেন করা হয়
যদি এ গুলো জান্নাত লাভের শর্তের মধ্যে সরাসরি অন্তর্ভুক্ত্ নাই থাকে বা করা না হয়ে থাকে?
সারা জীবন ভর কলেমা,নামজ,রোজা, হজ্ব,জাকাত এই সব কাজ যথাযথভাবে করেও
জান্নাতের টিকিট যদি কপালে নাই জোটে তবে জান্নাত লাভের শর্ত পুরনের সবচেয়ে মৌলিক গুরুত্বপূর্ণ কাজটি
একেবারে পরিহার করে এত ঘটা করে জগতের মুসলিম জাতি এসবের অহেতুক সাধনা সারাজীবনভর কেন করে চলছে তো চলছেই?
মুলত কালেমা,নামাজ,রোজা, হজ্ব ও জাকাত কে কেবলমাত্র ইসলামের পাঁচ স্তম্ভ/খুঁটির সাথে তুলনা/কল্পনা করা হয়েছে,তাত্ত্বিকভাবে এর বেশি কিছু নয়।
খুঁটি ছাড়া যেমন ঘরের স্থায়িত্ব/অস্তিত্ব ধারনা করা সম্ভবই নয় তেমনি এই পাচ স্তম্ভ বাস্তবে প্রাত্যহিক জীবনে ইসলামকে
মজবুত করে দাড় করাতে কেবল ভুমিকা রাখে মাত্র, এর বেশি কিছু নয়।
কেবল মাত্র শুধু খাম্বা দিয়েই বা কোন খাম্বা ছাড়াই ঘর তৈরি আদৌ সম্ভব নয় সেই সাথে অবশ্যই প্রয়োজন
ছাদ,দরজা,জানালা, টয়লেট, রুম ইত্যাদি হরেক রকম অনেক কিছুরই।
তেমনি ইসলামের পাঁচ খুঁটিই মুলত কক্ষনো চূড়ান্ত/ শেষ কথা নয়
সেই সাথে আবশ্যক/ জরুরী সারাজীবন ভর ছালিহাত/ সৎচরিত্র যা অবশ্যই ব্যক্তি জীবনে ইসলামকে পূর্ণতা দিতে মূখ্য ভুমিকা পালন করে।
কিন্ত গভীর লজ্জা ও হতাশা জনক সত্যঃ দুর্ভাগ্যবশত বাস্তবতা হচ্ছে দুনিয়ার প্রায় সব মুসলিমজাতি বলতে গেলে কেবলমাত্র কার্যত
পাচ স্তম্ভকে ঘর ধরে নিয়ে / বানিয়ে সেই কল্পিত শর্ট কাট সংক্ষিপ্ত ইসলামের ঘরে বসবাস করে আত্মতুষ্টি লাভ করে চলছে।
পরোক্ষভাবে হলেও সত্য-বর্তমানে সকলের অজান্তে মুসলিমদের ব্যবহারিক জীবনে কেবলমাত্র এই পাচ স্তম্ভের অনুশীলনের না্ম
আসলে বাস্তবে কিন্ত দাঁড়িয়েছে বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী শ্রেষ্ঠ ধর্ম ইসলাম। প্রকৃতপক্ষে কিন্ত ইসলামে
নামাজ, রোজা, হজ্ব, জাকাতের প্রকৃত উদ্দেশ্য হচ্ছে এসব সঠিক/ যথারিতি / নিষ্ঠার সাথে পালন করলে
একজন ব্যক্তি সারা জীবন ধরে প্রাত্যহিক জীবনে অবশ্য অবশ্যই সৎকর্মশীল হয়ে গড়ে উঠবে এবং
সে এ সবের প্রকৃত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে অবহেলা না করলে তার জীবনে নিঃসন্দেহে
এর কোন বিচ্যুতি/ ব্যাতিক্রম হবার একেবারেই সম্ভাবনা বা সুযোগ নেই এবং কখনো হতে পারেনা।
তার পরেও দুনিয়ায় মুসলিম জাতির কপালে কেন এই করুন অশনি সঙ্কেত , কেন এমন অঘটন অবিরতই মুসলিম জগতে ঘটেই চলছে?
[এ কথা সত্য ইসলামের মত অন্য সব ধর্মেও ধর্মাচরনের আসল লক্ষ্য হচ্ছে প্রাত্যহিক জীবনে অবশ্যই সততার সাথে জীবন গঠন ও পরিচালনা করা।
লেখা পড়া তথা শিক্ষার একমাত্র উদ্দেশ্য কিন্ত জ্ঞান অর্জন্ আর সেই অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তব জীবনে কাজে লাগানো।
জ্ঞান যদি অর্জিত না হয় তা হলে সেটি কখনও শিক্ষা অর্জন হতে পারেনা।তেমনি যে কোনো ধরনের খাদ্য গ্রহণের লক্ষ্য হচ্ছে
দেহকে প্রয়োজনীয় শক্তি ও পুষ্টি সরবরাহ করা। যে সব খাদ্য শক্তি ও পুষ্টি যোগাতে পারেনা তা খাদ্যের অন্তর্ভুক্ত হতে পরেনা।
একই যুক্তিতেঃ নামাজ রোজা পালন করলো কিন্ত বাস্তবে প্রাত্যহিক জীবনে এর কোনোই সুফল দেখা গেলোনা অর্থাৎ সারা জীবন
সে 'অন্যায় ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত' থেকে সৎকর্মশীল হতে পারলোনা ,তার নামজ রোজা একেবারেই প্রশ্নবিদ্ধ এবং শুভঙ্করের ফাঁকি নয় কি? ]
কোরআন পাকে জান্নাত লাভের সব আয়াতে বিশ্বাসের সাথে সৎকর্ম শীল হওয়াটা্ অত্যাবশ্যকীয় ধরা হয়েছে।
দিনের ২৪ ঘণ্টার আংশিক কিছু সময় সৎ থেকে অন্য/বাকি সময়ে অসৎ থাকলে
সৎকর্মশীল হিসেবে বাস্তবে পরিচয় দেবার কোনো সুযোগ একেবারেই কিন্ত নেই।
আসলে দিনের ২৪ ঘণ্টার সব কাজে / সব মুহূর্তে সৎ কর্মশীল হতে হবে/ হবার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবেই।
শেষ বিচারের দিন খুটিনাটি সব কিছুই দিবালোকের মত ফাঁস হয়ে যাবে।তখন বাঁচার কিন্ত আর কোনো উপায়ই অবশিষ্ট থাকবেনা।
দৃশ্যত বাহ্যিক দৃষ্টিতে প্রচলিত অর্থে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে- দুনিয়ার বাকি সব ধর্ম, দেশ, জাতি জীবনের প্রতি ক্ষেত্রে সৎ হবার তাগিদ/ সবক দেয়,
যে কারনে তারা তুলনামুলক ভাবে মুসলিম দেশ থেকে কম দুর্নীতি পরায়ণ।
অপরদিকে অভ্যাস/প্রথাগতভাবে মুসলিম জাতি প্রচলিত অর্থে চরিত্রবান বলতে
সারা জীবনভর প্রতিটি কাজেই সততা না বুঝিয়ে কেবলমাত্র বিশেষভাবে যৌন জীবনে সৎ থাকার গুরুত্ব অত্যাধিক দিয়ে থাকে।
ফলে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ঃ
ব্যাবহারিক জীবনে দৈনন্দিন/প্রাত্যহিক প্রতিটি কাজে সততাকে সামাজিক জীবন থেকে বাদ দিয়ে
সমাজ জীবনকে অনায়াসে কলুষিত করার সুজোগ সৃষ্টি হয়েছে মুসলিম দুনিয়ায়।
সম্ভবত সে কারনে মুসলিম দেশ/জাতি অন্যদের থেকে দুর্নীতিতে বর্তমান জগতে সগৈরবে
একধাপ এগিয়ে থাকলেও জাতি হসাবে মোটেও কিন্ত একটুও অনুশোচনা করেনা,একেবারেই সচেতন নয় -
কেন বিশ্বে তাদের ধর্মের অনুসারীদের এই অধঃপতন ও পশ্চাৎপদতা অন্যদের থেকে ?
মুসলিম দুনিয়ায় বাস্তবে ধর্মীয় শিক্ষা, ওয়াজ - নসিহত,সমাবেশ, দ্বীনের কার্যক্রমে সচরাচর সার্বিকভাবে কখনও কিন্ত
অতি জোর দিয়ে ফলাও করে গুরুত্ব সহকারে বলিষ্ঠ কণ্ঠে প্রচারের সংস্কৃতি গড়ে উঠেনি কথাটি বলার-
' জান্নাতে যাওয়ার অন্যতম শর্ত হচ্ছে সৎকর্ম।
আর সব গুণ থাকলেও অসৎকর্মশীল ব্যক্তি প্রবেশ করাতো দুরের কথা জান্নাতের সীমানার ধারে্র কাছেও কিন্ত কক্ষনো ঘেষতে পারবে না।
'ছালিহাত শব্দটি কোরআনে ৬৪ বার ব্যাবহার করা হয়েছে জান্নাত পাবার অন্যতম শর্ত হিসাবে,
ঈমানের সাথে এটি না থাকলে জান্নাতে যায়গা তো দুরের কথা ঘ্রাণও কিন্ত জুটবেনা।
একমাত্র সংশ্লিষ্ট বিষয়টি জথাযত গুরুত্ব না দেওয়া ও ব্যাপক প্রচারের অভাবে মুসলিম জাতি সামগ্রিকভাবে
সৎকর্মশীল হবার ব্যাপারে আগ্রহ হারিয়ে সম্পূর্ণ উদাসিন, যার ভয়াবহ ফল সংক্রমিত হয়েছে জাতি সত্তায়।
এছাড়া সৎকর্মশীল না হলে ধর্ম কর্ম করে কোনই লাভ নেই, জান্নাত তো জুটবেনাইনা উপরন্ত জাহান্নামে যাওয়া ছাড়া আর কোন উপায়ও নাইঃ
এই সত্যের আওয়াজ বজ্রকন্ঠে চারিদিকে ধ্বনিত ও প্রচারিত হলে
এই জাতির অভ্যন্তরীণ দৈনন্দিন পরিবেশেও পরিবর্তন সংগঠিত হয়ে অপর বিজাতীয় জাতি,ধর্ম ও দেশের মতই সৎকর্মশীল মানব তৈরি হতে দেখা যেত।
আসলে কিন্ত নামাজি, ঈমানদার, দ্বীনদার হওয়ার মূল কথা হচ্ছে নির্ভেজাল সৎকর্মশীল হওয়া।
বাহ্যিকভাবে যত বড় বুজর্গ, পীর, মস্তবড় দ্বীনদার হোক না কেন একমাত্র ঈমানদার সৎকর্মশীলরাই জান্নাতে যায়গা পাবে।
জান্না্ত পেতে হলে্ অবশ্য অবশ্যই কেবল আংশিক নয় বরং সারাজীবন ফুলটাইমই সৎকর্মশীল হতে হবে, শেষ বিচারের মাঠে সে ক্ষেত্রে কোনো রকম ছাড় কিন্ত নেই।
'নিশ্চয়ই সালাত অন্যায় ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত রাখে।'-সূরা আনকাবূত (২৯:৪৫)
"রোজা হলো (পাপাচার থেকে রক্ষার) ঢাল স্বরূপ।........ " (বুখারী-১৮৯৪)"
যে ব্যক্তি মিথ্যা পরিত্যাগ করলো না, আল্লাহ তা'য়ালা তার পানাহার ত্যাগ কবুল করেন না" (বুখারী-১৯০৩)
অসৎ ব্যাক্তির ইবাদত মূল্যহীন আর জান্নাত লাভে কোনো কাজেই আসবেনা।
জান্নাতের জন্য সমগ্র জীবন ঈমানের সাথে সৎকাজ করার দৃঢ় মানসিকতা অবশ্য থাকতেই হবে যেটা কোরআন পাকে বিভিন্ন আয়াতে তাগিদ করা হয়েছে।
দৃশ্যত এ বিষয়ে কোন রকমই ছাড় কিন্ত রাখা হয়নি।
আসমান উচু পরিমাণ নেকী অর্জন করেও প্রকৃত সঠিক কথা হচ্ছে,
সারা জীবন যাদের হক নষ্ট করা হয়েছে নিজের উপার্জিত মূলধনের সব নেকী দিয়ে তাদের সাথে বিনিময় করতে হবে।
আর এভাবে পরিশোধ করতে করতে আগেই যদি নেকী সব শেষ হয়ে যায় সেক্ষত্রে প্রাপকের গুনাহ
নিজের কাঁধে নিয়ে জাহান্নামের ভয়াবহ আগুনে জ্বলতে হবে।হাদিসে এসেছেঃ
বিড়ালের সাথে সঠিক আচরণ না করার জন্য জনৈক দ্বীনদার মহিলাকে পর্যন্ত জাহান্নামে যেতে হয়।
আর সৃষ্টির সেরা যে কোন বনি আদমের সাথে দুর্নীতির ঘোমটার আড়ালে অযাচিত ব্যাবহার বা আচরণ করা হলে
তার পরিণাম কি হতে পারে সহজে অনুমেয়, সে বিষয়টি দুনিয়ার মুসলিমগন সবিশেষ গুরুত্ব সহকারে কখন ও একটিবারও ভেবে দেখেছে/ প্রচার করেছে কি?
তাহলে কি আজকে দুর্নীতিপরায়ণ দেশ/ জাতির তকমা পেত?
রাসুলুল্লাহ(দঃ)কে তার সাহাবিরা জিজ্ঞেস করেছিলেন, হে আল্লাহর রাসুল- গীবত কি জিনার চেয়েও মারাত্মক?
জবাবে তিনি বললেন, হ্যাঁ, কারণ কোনো ব্যক্তি জিনার পর (বিশুদ্ধ) তওবা করলে আল্লাহ ক্ষমা করেন।
কিন্তু গীবতকারীকে যার গীবত করা হয়েছে, তিনি মাফ না করলে আল্লাহ মাফ করবেন না। (মুসলিম)
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত , হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা কি জান গীবত কাকে বলে?
সাহাবিরা বললেন, আল্লাহ ও তার রাসুল (সঃ) ভালো জানেন।
তিনি বলেন, তোমার কোনো ভাই সম্পর্কে এমন কথা বলা, যা সে অপছন্দ করে, তাই গীবত।
সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল, আমি যে দোষের কথা বলি সেটা যদি আমার ভাইয়ের মধ্যে থাকে তাহলেও কি গীবত হবে?
উত্তরে রাসুল সাল্লাল্লাহ (সঃ) বলেন, তুমি যে দোষের কথা বল, তা যদি তোমার ভাইয়ের মধ্যে থাকে তবে তুমি অবশ্যই গীবত করলে
আর তুমি যা বলছো তা যদি তার মধ্যে না থাকে তবে তুমি তার ওপর মিথ্যা অপবাদ দিয়েছো।(মুসলিম)
ইসলামে অপবাদ কারীর শাস্তি কিন্ত অত্যন্ত ভয়াবহ কঠোর।
আবার সার্বিকভাবে দেখলে কিন্ত গীবতকে বলা যায় অনেক দুরথেকে পরোক্ষ ভাবে গুনাহ করা।
আর তার থেকেই যদি কোন পরিত্রাণ না জোটে তবে ভেবে দেখা জরুরী, মানুষের সাথে প্রত্যক্ষভাবে ঘটে যাওয়া দুর্নীতির সাজা কত কঠিন/ ভয়াবহ হবে?
আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃরসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তোমরা কি বলতে পার অভাবী লোক কে?
তাঁরা বললেন, আমাদের মাঝে যার দিরহাম (টাকা কড়ি) ও ধন-সম্পদ নেই সে তো অভাবী লোক।
তখন তিনি বললেন, আমার উম্মতের মধ্যে সে প্রকৃত অভাবী লোক,
যে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন সলাত, সাওম ও যাকাত নিয়ে আসবে;
অথচ সে এ অবস্থায় আসবে যে, সে কাউকে গালি দিয়েছে, কাউকে অপবাদ দিয়েছে,
অমুকের সম্পদ ভোগ করেছে, অমুককে হত্যা করেছে ও আরেকজনকে প্রহার করেছে।
এরপর সে ব্যক্তিকে তার নেক ‘আমাল থেকে দেয়া হবে, অমুককে নেক ‘আমাল থেকে দেয়া হবে।
এরপর যদি পাওনাদারের হাক্ব তার নেক ‘আমাল থেকে পূরণ করা না যায় সে ঋণের পরিবর্তে তাদের পাপের একাংশ তার প্রতি নিক্ষেপ করা হবে।
এরপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৬৪৭৩)
নবী (দঃ) বলেছেন, "আসল সর্বহারা আর রিক্ত মানুষ হচ্ছে তারা, কেয়ামতের দিন রোজা, নামাজ, অনেক হজ্ব, দান খয়রাত নিয়ে হাজির হবে
কিন্তু দুর্নীতি করে সম্পদ দখল, অন্যদের হক না দেয়া,মানুষের উপর অত্যাচারের কারণে রিক্ত হস্তে জাহান্নামে যাবে।", "ঋণ সম্পর্কীয় কঠিন বিধান।
সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ!
যদি কোনো ব্যক্তি আল্লাহর পথে শহীদ হয়, তারপর পুনর্জীবিত হয়ে আবার আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হয়,
তারপর পুনর্জীবিত হয়ে আবার আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হয় তথা তিনবার শাহাদাতের মর্যাদা লাভ করে, আর তার অনাদায়ী ঋণ থেকে যায়,
তাহলে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যতক্ষণ তার ঋণ পরিশোধ না করা হয়।" (আবু দাউদ, মিশকাত পৃষ্ঠা. ১৬৩)
রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জানাজায় যে প্রশ্ন করতেনঃরসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
"শহীদের সব গুনাহই ক্ষমা করে দেওয়া হবে। মাফ হবে না শুধু ঋণ।" (মুসলিম)
বাস্তবতা হচ্ছেঃ সত্যিই পরিতাপের বিষয়,মুসলিম দেশ ও জাতি বর্তমান বিশ্বে অপর সব দেশ ও জাতি থেকে দুর্নীতির প্রতিযোগিতায় এগিয়ে।
সব দেশ গুলোর দুর্নীতির সুচক এটা প্রমান করে চোখে আঙুল দিয়ে মুসলিম দেশ ও জাতিকে দেখিয়ে দিচ্ছে।
বিশ্বে সবেচেয়ে বেশি দুর্নীতি হওয়া দেশের তালিকায় টানা পাঁচ বছর শীর্ষ অবস্থানে ছিল সমগ্র বিশ্বে মসজিদের দেশ হিসাবে পরিচিত বাংলাদেশ।
এবারের সিপিআই অনুযায়ী ৬৮ স্কোর এবং সর্বোচ্চ থেকে গণনা অনুযায়ী গতবারের মতই দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ ভুটান।
এর পরের অবস্থানে ৪১ স্কোর নিয়ে ৮০তম স্থানে রয়েছে ভারত।
এরপরে শ্রীলঙ্কা ৩৮ স্কোর নিয়ে ৯৩ তম অবস্থানে রয়েছে।
৩২ স্কোর পেয়ে ১২০তম অবস্থানে রয়েছে ইসলামী রিপাবলিক পাকিস্তান।
অন্যদিকে ২৯ স্কোর পেয়ে ১৩০তম অবস্থানে মালদ্বীপ।
বাংলা দেশের অবস্থান?
এরপর ২০১৮ এর সমান স্কোর ২৬ পয়েন্ট নিয়ে ১৪৬ তম অবস্থানে বাংলাদেশ এবং
বাংলাদেশের পরে ১৬ স্কোর পেয়ে সর্বোচ্চ থেকে গণনা অনুযায়ী ১৭৩ তম অবস্থানে রয়েছে
তালেবান স্বর্গ ভুমি আজকের-আফগানিস্তান।
অর্থাৎ সর্বনিম্ন থেকে গণনা অনুযায়ী আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে।
বাংলাদেশ সিপিআই সূচক অনুয়ায়ী ২০১২ সাল থেকে দক্ষিণ এশিয় দেশগুলোর মধ্যে সপ্তমবারের মত এবারওদ্বিতীয় সর্বনিম্ন অবস্থানে।
এই হচ্ছে মসজিদের দেশ তাবলীগের মারকাজ বাংলাদেশের সার্বিক গৌরবময় চিত্র।
ইসলামের কেন্দ্র ভূমি সৌদি আরবের অবস্থান ৫১। আর ইহুদী রাষ্ট্র ইসরাইল ৩৫।
তার অর্থ, স্পষ্টতই দুর্নীতিতে ইসরাইল থেকে ১৬ পয়েন্ট এগিয়ে সৌদি আরব।
বাস্তবতা হচ্ছেঃ ইহুদি, খ্রিষ্টান সব ধর্মের কাছেই মুসলিম দেশ, জাতি ও ধর্মের শোচনীয় গৈরবময় নতি স্বীকার।
অপরদিকে মাত্র [{১}] হচ্ছে নিউজল্যান্ড, ডেণ্ মার্ক, ফিনল্যান্ড এর মত দেশগুলো।
এ ক্ষেত্রে কোরআনের স্পষ্ট ফয়সালা কি?আসলে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে,
জান্নাত লাভের প্রায় সব আয়াতেই স্পষ্টত সরাসরি উল্লেখিত হয়েছে 'ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে ' কথাটি।
ঈমান আনবে কিন্ত সেই সাথে দুর্নীতি পরায়ণ জীবন লালন করবে সেই ইমানদারের জন্য জান্নাত নেই।
সে জন্য জান্নাত লাভের সব আয়াতেই ঈমানের সাথে সৎকর্মশীল হবার শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
১] ' .....কাজেই সৎকাজে প্রতিযোগিতামূলকভাবে এগিয়ে যাও।.........' [ সুরা বাকারা ২:১৪৮ ]
২]'সৎকর্ম শুধু এই নয় যে, পূর্ব কিংবা পশ্চিমদিকে মুখ করবে .............' [সূরা বাকারা আয়াত ২ঃ১৭৭]
৩]'যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং সৎকর্ম করেছে আমি কাউকে তার সামর্থ্যের চাইতে বেশী বোঝা দেই না।
তারাই জান্নাতের অধিবাসী। তারা তাতেই চিরকাল থাকবে। [ সুরা আরাফ ৭:৪২ ]
৪] 'নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে ............. তারাই বেহেশতবাসী, সেখানেই তারা চিরকাল থাকবে।' [ সুরা হুদ ১১:২৩ ]
৫] আর যারা তাঁর কাছে আসে এমন ঈমানদার হয়ে যায় সৎকর্ম সম্পাদন করেছে, তাদের জন্যে রয়েছে সুউচ্চ মর্তবা। [ সুরা ত্বা-হা ২০:৭]যে ঈমানদার অবস্থায় সৎকর্ম সম্পাদন করে, সে জুলুম ও ক্ষতির আশঙ্কা করবে না। [ সুরা ত্বা-হা ২০:১১২]
৬]যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম সম্পাদন করে, আল্লাহ তাদেরকে জান্নাতে দাখিল করবেন, যার তলদেশ দিয়ে নির্ঝরণীসমূহ প্রবাহিত হয়। আল্লাহ যা ইচ্ছা তাই করেন। [ সুরা হাজ্জ্ব ২২:১৪]
৭] সুতরাং যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তাদের জন্যে আছে পাপ মার্জনা এবং সম্মানজনক রুযী।[ সুরা হাজ্জ্ব ২২:৫০]
৮] তবে তাদের কথা ভিন্ন, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে এবং আল্লাহ কে খুব স্মরণ করে এবং নিপীড়িত হওয়ার পর প্রতিশোধ গ্রহণ করে। নিপীড়নকারীরা শীঘ্রই জানতে পারবে তাদের গন্তব্যস্থল কিরূপ। [সুরা শু’য়ারা ২৬:২২৭ ]
৯] তবে যে তওবা করে, বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, আশা করা যায়, সে সফলকাম হবে।[ সুরা কাসাস ২৮:৬৭ ]
১০] আর যারা জ্ঞান প্রাপ্ত হয়েছিল, তার বলল, ধিক তোমাদেরকে, যারা ঈমানদার এবং সৎকর্মী, তাদের জন্যে আল্লাহর দেয়া সওয়াবই উৎকৃষ্ট। এটা তারাই পায়, যারা সবরকারী। [সুরা কাসাস ২৮:৮০ ]
১১] যে সৎকর্ম নিয়ে আসবে, সে তদপেক্ষা উত্তম ফল পাবে এবং যে মন্দ কর্ম নিয়ে আসবে, এরূপ মন্দ কর্মীরা সে মন্দ কর্ম পরিমানেই প্রতিফল পাবে। [সুরা কাসাস ২৮:৮৪ ]
১২] আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, আমি অবশ্যই তাদের মন্দ কাজ গুলো মিটিয়ে দেব এবং তাদেরকে কর্মের উৎকৃষ্টতর প্রতিদান দেব। [ সুরা আনকাবুত ২৯:৭ ]
১৩] যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকাজ করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে সৎকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করব। [ সুরা আনকাবুত ২৯:৯ ]
১৪] যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে জান্নাতের সুউচ্চ প্রাসাদে স্থান দেব, যার তলদেশে প্রস্রবণসমূহ প্রবাহিত। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। কত উত্তম পুরস্কার কর্মীদের।[ সুরা আনকাবুত ২৯:৫৮ ]
১৫] যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে ও সৎকর্ম করেছে, তারা জান্নাতে সমাদৃত হবে; [ সুরা রূম ৩০:১৫ ]
১৬] যারা বিশ্বাস করেছে ও সৎকর্ম করেছে যাতে, আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে নিজ অনুগ্রহে প্রতিদান দেন। নিশ্চয় তিনি কাফেরদের ভালবাসেন না। [সুরা রূম ৩০:৪৫ ]
১৭] যারা ঈমান আনে আর সৎকাজ করে তাদের জন্য রয়েছে নেয়ামতে ভরা জান্নাত। [ সুরা লুকমান ৩১:৮ ]
১৮] যে ব্যক্তি সৎকর্মপরায়ণ হয়ে স্বীয় মুখমন্ডলকে আল্লাহ অভিমূখী করে, সে এক মজবুত হাতল ধারণ করে, সকল কর্মের পরিণাম আল্লাহর দিকে।[ সুরা লুকমান ৩১:২২ ]
১৯] যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তাদের জন্যে রয়েছে তাদের কৃতকর্মের আপ্যায়নস্বরূপ বসবাসের জান্নাত।[সুরা সাজদা৩২:১৯]
২০] তোমাদের মধ্যে যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রসূলের অনুগত হবে এবং সৎকর্ম করবে, আমি তাকে দুবার পুরস্কার দেব এবং তার জন্য আমি সম্মান জনক রিযিক প্রস্তুত রেখেছি। [সুরা আহযাব ৩৩:৩১]
২১] তিনি পরিণামে যারা মুমিন ও সৎকর্ম পরায়ণ, তাদেরকে প্রতিদান দেবেন। তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও সম্মান জনক রিযিক। [সুরা সা’বা ৩৪:৪ ]
২২] তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি তোমাদেরকে আমার নিকটবর্তী করবে না। তবে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, তারা তাদের কর্মের বহুগুণ প্রতিদান পাবে এবং তারা সুউচ্চ প্রাসাদে নিরাপদে থাকবে। [সুরা সা’বা ৩৪:৩৭ ]
২৩] আমি এভাবেই সৎকর্ম পরায়নদেরকে পুরস্কৃত করে থাকি।[সুরা সাফফাত ৩৭:৮০]
২৪] এভাবে আমি সৎকর্মীদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি। [সুরা সাফফা৩৭:১২১]
২৫] যে মন্দ কর্ম করে, সে কেবল তার অনুরূপ প্রতিফল পাবে, আর যে, পুরুষ অথবা নারী মুমিন অবস্থায় সৎকর্ম করে তারাই জান্নাতে প্রবেশ করবে। তথায় তাদেরকে বে-হিসাব রিযিক দেয়া হবে। [সুরা মু’মিন ৪০:৪০]
২৬] অন্ধ ও চক্ষুষ্মান সমান নয়, আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে এবং কুকর্মী। তোমরা অল্পই অনুধাবন করে থাক। [সুরা মু’মিন ৪০:৫৮]
২৭] নিশ্চয় যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, তাদের জন্যে রয়েছে অফুরন্ত পুরস্কার।[সুরা হা-মীম৪১:৮]
২৮] যে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়, সৎকর্ম করে এবং বলে, আমি একজন আজ্ঞাবহ,তার কথা অপেক্ষা উত্তম কথা আর কার? [সুরা হা-মীম ৪১:৩৩]
২৯] যে সৎকর্ম করে, সে নিজের উপকারের জন্যেই করে, আর যে অসৎকর্ম করে, তা তার উপরই বর্তাবে। আপনার পালনকর্তা বান্দাদের প্রতি মোটেই যুলুম করেন না। [সুরা হা-মীম ৪১:৪৬]
৩০]যে সৎকাজ করছে, সে নিজের কল্যাণার্থেই তা করছে, আর যে অসৎকাজ করছে, তা তার উপরই বর্তাবে।অতঃপর তোমরা তোমাদের পালনকর্তার দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে। [সুরা যাসিয়া ৪৫:১৫]
৩১] যারা বিশ্বাস করে ও সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদেরকে জান্নাতে দাখিল করবেন, যার নিম্নদেশে নির্ঝরিণীসমূহ প্রবাহিত হয়। আর যারা কাফের, তারা ভোগ-বিলাসে মত্ত থাকে এবং চতুস্পদ জন্তুর মত আহার করে। তাদের বাসস্থান জাহান্নাম।[সুরা মুহাম্মাদ ৪৭:১২]
৩২]কিন্তু যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, তাদের জন্য রয়েছে অফুরন্ত পুরস্কার। [সুরা ইনশিকাক ৮৪:২৫]
৩৩] যারা ঈমান আনেওসৎকর্ম করে তাদের জন্যে আছে জান্নাত, যার তলদেশে প্রবাহিত হয় নির্ঝরিণীসমূহ। এটাই মহাসাফল্য।[সুরা বুরূজ ৮৫:১১]
৩৪] তবে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তাদের জন্য রয়েছে নিরবচ্ছিন্ন পুরস্কার।[সুরা তীন ৯৫ঃ৬]
৩৫] ‘যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তারাই সৃষ্টির সেরা।’ ‘তাদের পালনকর্তার কাছে রয়েছে তাদের প্রতিদান চিরকাল বসবাসের জান্নাত, যার তলদেশে নির্ঝরিণী প্রবাহিত।
তারা সেখানে থাকবে অনন্তকাল। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারা আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট।
এটা তার জন্যে, যে তার পালনকর্তাকে ভয় কর।’ [সুরা বাইয়্যেনাহ ৯৮: ৭-৮]
ধর্মীয় বিধি নিষেধ মানা যার যার ব্যক্তিগত দায়িত্বের মধ্যে পড়ে এবং এটি আল্লাহ ও বান্দার মধ্যকার বিষয়।
কিন্তু সামাজিক বিধি নিষেধ মেনে চলা একজন বান্দার সাথে অন্য বান্দার মধ্যকার বিষয়। অন্য কথায় ইসলামিক নীতিমালা
যদি মুসলমানরা নিজেদের জীবনে ব্যবহারিক প্রয়োগ না করে, মুসলিম সমাজ দুর্নীতিতে ছেয়ে যাবে যার ভয়াবহ চিত্র মুসলিম দেশ গুলোতে।
লক্ষ, নিযুত, কোটি ছওয়াব পাবার ধান্ধায় যদি মুল এবাদত প্রক্রিয়া থেকে সৎকর্মশীল হওয়ার এবাদতকে ঝাটিয়ে বাদ রাখা হয়
সে ক্ষেত্রে পরকালে কারও কপালে জান্নাত তো জুটবেইনা বরং ইহকালে দুর্নীতিপরায়ণ দেশ ও জাতি হিসাবে বিশ্বে পরিচিত হয়ে
আজকের মত সুনাম কুড়াতে হবে!আল্লাহ মুসলিম জাতি ও মুসলিম দেশ সমূহকে হেফাজত করে
আমাদের মুসলিম উম্মাহর সকলকে ঈমানদার অবস্থায় সৎকর্ম সম্পাদন করে সৎকাজে প্রতিযোগিতামূলকভাবে এগিয়ে যেয়ে
জান্নাত লাভের তৈফিক দিন।
Kazi Minhazul Alam, Mohammed Shah Alam and 20 others
18 Comments
1 Share
Like
Comment
Share