Monday, June 21, 2021

ঐতিহাসিক মসজিদ বিশ্ববিদ্যালয় কমপ্লেক্স বনাম প্রস্তাবিত ৫৬০মডেল মসজিদ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।

 ঐতিহাসিক মসজিদ বিশ্ববিদ্যালয় কমপ্লেক্স বনাম প্রস্তাবিত ৫৬০মডেল মসজিদ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।

১) বর্তমান মুসলিম বিশ্বে স্বনামধন্য আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় মূলত আদিতে ছিল একটি মসজিদ। মসজিদ হিসেবে এটির ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। যেহেতু মসজিদ জ্ঞানচর্চার মূলকেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হতো এটি ধীরে ধীরে সম্প্রসারিত হয়ে শেষে একটি বিরাট বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ নেয়। ২) ক'জন আমরা ওয়াকিবহাল/ সচেতন যে বিশ্বের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ৮৫৯ সালে একটি মসজিদের অংশ হিসেবে। মরক্কোর এই কারওয়াইন বিশ্ববিদ্যালয়টি হচ্ছে ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্বের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়। গিনেস বুকের রেকর্ড অনুসারেও মরক্কোর ফেজ নগরীর কারওয়াইন বিশ্ববিদ্যালয় পৃথিবীর সর্বপ্রথম বিশ্ববিদ্যালয়। ফাতেমা নামে এক মহীয়সী নারী পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত সব অর্থ ব্যয় করেছিলেন তার সমাজের লেখকদের জন্য একটি মসজিদ তৈরির পেছনে। এই মসজিদ হয়ে ওঠে ধর্মীয় নির্দেশনা এবং জ্ঞানবিজ্ঞানেরআলোচনার স্থান। মসজিদটি পুরোপুরি নির্মাণে লেগে যায় ২৭৮ বছর। ইতালির বোনায় ১০৮৮ সালে প্রথম ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। তারও আগে কারওয়াইন হয়ে ওঠে এক বিশ্ববিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়। ফেজকে তখন বলা হতো ‘বাগদাদ অব দ্য ওয়েস্ট’। The oldest existing, and continually operating educational institution in the world is the University of Karueein, founded in 859 AD in Fez, Morocco. The University of Bologna, Italy, was founded in 1088 and is the oldest one in Europe.

'পৃথিবীর মধ্যে অনেক নিদর্শন রয়েছে বিশ্বাসীদের জন্য এবং তোমাদের নিজেদের মধ্যেও'- এ ধরনের আয়াতের প্রেরণায় মুসলামানেরা তাদের ইবাদতখানা পবিত্র মসজিদকেও বিজ্ঞান চর্চা ও অনুশীলনের জন্য ব্যবহার করেছেন।

একমাত্র এ কারনে ইসলাম মানবজাতিকে উপহার দিতে সক্ষম হয়েছে আজকের প্রচলিত বিজ্ঞানকে। বিজ্ঞানের আদি রুপ ছিল পদার্থবিজ্ঞান আর এই পদার্থবিজ্ঞানের বিকাশই হচ্ছে কিন্ত বিজ্ঞানের আর সব শাখা প্রশাখা। এখনও পদার্থবিজ্ঞান বিঙ্গানের আত্মা/ আদি বিজ্ঞান হিসাবে বিবেচিত। বাস্তবে কিন্ত পদার্থবিঙ্গানের তত্ব ও যন্ত্রপাতি ছাড়া বাকি সব বিজ্ঞান অচল। এই পদার্থবিজ্ঞানের জন্ম/উদ্ভাবন করেছে ইসলাম যে রেকর্ডটি ওয়াশিংটনের লাইব্রেরি অব কংগ্রেসে রয়েছে ( সুত্রঃ লেখকের ওয়াশিংটনে লাইব্রেরি অব কংগ্রেস ভিজিট )। পাঠকের সুবিধার্থে ভিজিটের অতি সংক্ষিপ্ত বর্ণনাঃ "{{বিশ্বের সচেতন এবং অভিজ্ঞ  মহল অবগত যেরসায়ন,   গণিত এবং জ্যোতিষশাস্ত্রে ইসলামের অনুসারীরা অভূতপূর্ব যুগান্তকারী  অবদান রেখেছেনকিন্তু একই সাথে   পদার্থবিজ্ঞানের ও উদ্ভাবক ইসলাম ধর্ম   রেকর্ডটি    কোথায়   লিপিবদ্ধ রয়েছে তা দেখার  জন্য  লাইব্রেরি অব কংগ্রেসে  ঘুরে আসা যেতে পারে
 ২০০ বছরেরও বেশি পুরনো বিশ্বের সবচেয়ে সমৃদ্ধ এই পাঠাগারের   সব বই ওয়াশিংটন ডিসির তিনটি  ভবনে সংরক্ষিত। ১৮৯৭ সালের জেফারসন ম্যাগনিফিসেন্ট ভবনটি শুধু দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা   হয়েছে
 লাইব্রেরি অব কংগ্রেসের বিশাল সংগ্রহশালার মধ্য থেকে ২০০টি ঐতিহাসিক পুস্তক ভবনটির দ্বিতীয় তলার ট্রেজারি গ্যালারিতে সংরক্ষিত রয়েছেএই তলার মাঝখানে একটি বড় গম্বুজ
গম্বুজের মধ্যে একেকটি চিত্রের নিচে একেকটি দেশের নাম
ব্যতিক্রম চোখে পড়লএত দেশের মধ্যে এক স্থানে দেশের পরিবর্তে কেবলমাত্র  একটি ধর্মের নাম।পৃথিবীর আর কোন ধর্ম কিন্ত সেখানে স্থান পায়নি। কোন দেশ কী উদ্ভাবন করেছে,   সেটি গাইড আমাদের  বুঝিয়ে দিলেন দেশের নামের বদলে যে চিত্রের নিচে ‘ইসলাম লেখা ছিলসেটি দেখিয়ে গাইড আমাদের বললেনএটার মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যেপদার্থবিজ্ঞানের উদ্ভাবন করেছে ইসলাম ধর্ম।}}"
মুজাদ্দেদ ইমাম গাজ্জালি রহ: লিখেছেন ‘কোনো মুসলমান যদি প্রয়োজনীয় ধর্মীয় শিাক্ষা শেষে মানুষের কল্যাণ চিন্তা করে ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন করে, সে ধর্মীয় শিক্ষারই সওয়াব লাভ করবে'।‘ইসলামের এক গৌরবময় কীর্তি হচ্ছে কুরআন, হাদিস ও মুসলিম বিধান শাস্ত্র ফিকাহর অধ্যয়ন অনুশীলনের অনুরূপ অন্যসব জ্ঞান-বিজ্ঞানের সাধনাকেও সমান আসন ও মর্যাদা দিয়েছে এবং মসজিদের মধ্যেই তাকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।’- পাশ্চাত্য চিন্তাবিদের এই মন্তব্য থেকে স্পষ্টত উপলব্ধি করা যায় দুনিয়ার সুখ, কল্যাণের জন্য মুসলমানেরা কাজ করছে আর তার বিনিময়ে আখেরাতের কল্যাণ লাভে ও তারা সফল হবে। জগতে একমাত্র ইসলামই ধর্মীও এবাদতখানাকে জ্ঞান ও বিজ্ঞান চর্চা এবং অনুশীলনে ব্যাবহার করেছে। ‘তোমরা স্ত্রীদের সাথে মেকিং লাভের জন্য পুরস্কৃত হবে’ রাসূলুুল্লাহ সা:-এর কাছ থেকে এ কথা শোনার পর সাহাবিরা জানতে চান, ‘যে কাজে আমরা সবচেয়ে বেশি তৃপ্তি এবং মজা পাই তাতেও আমরা প্রতিদান পাবো?’ উত্তরে রাসূলুল্লাহ সা: বলেন, ‘তোমরা যদি এটা অনির্ধারিত পন্থায় নিতে তাহলে কি সে জন্য শাস্তি পেতে না?’ জবাবে উপস্থিত সাহাবিরা যখন বলেন ‘অবশ্যই পেতাম’, শুনে রাসূলুল্লাহ সা: বলেন, ‘তোমরা যে নির্ধারিত পন্থায় এটা উপভোগ করছো, সে জন্য তোমাদের পুরস্কৃত করা হবে।’ ইসলামে এমনকি জ্ঞানীদের ঘুমকেও ইবাদত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শেষ জামানায় মসজিদের চাকচিক্যের প্রসার ঘটবে -রাসুলুল্লাহর ভবিষ্যদ্বানী । ঢাকা শহর মসজিদের নগরী আর বাংলাদেশ মসজিদের দেশ হলেও কয়টিতে জ্ঞানবিজ্ঞানের আলোচনা ,চর্চা ও অনুশীলনের সুজোগ সুবিধার জন্য জনগনের ও সরকারের সার্বিক দৃষ্টিভঙ্গি ও মণ মানসিকতা রয়েছে? ধর্মনিরপেক্ষতার আড়ালে মসজিদে মুসলিম সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ঢাক ঢোল বাজিয়ে শেষে আধ্যাতিকতা ও জ্ঞান বিজ্ঞান অনুশীলনের বদলে মসজিদকে পরিণত করা হবে ইস্ লামি নয় বরং ধর্ম নিরপেক্ষ রাজনীতির মুল কেন্দ্র হিসাবে। সেই সাথে প্রমান করার প্রয়াস চলবে -মসজিদ হচ্ছে রাজনীতিমুক্ত। বাস্তবে পরীক্ষিত হবেঃ মডেল মসজিদে পরোক্ষভাবে

প্রমান উপস্থাপনা করা হবে, এখানে ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতিতে কোনো ক্ষতি/ বাঁধা নেই, অসুবিধা শুধু ইসলামী রাজনিতিতে । এম এন রায় ‘The Historical Role of Islam.’ এ লিখেছেনঃ ‘সত্যিকার ধর্মীও আন্দোলনের চেয়ে রাজনৈতিক রুপ নিয়েই ইসলামের উত্থান হয়েছে।’… ‘তারা(ইসলামের আনুসারিরা) কেবলমাত্র রাজনৈতিক ঐক্যের উপযোগী পরিবেশই সৃষ্টি করে দিয়ে গেল,কিন্ত তাতেই হল আর্থিক উন্নয়ন ও আত্মিক উন্নতিশীল একটা যুগের পথ উন্মুক্ত।‘…. ‘ইসলাম অবদান রাখল আদর্শিক ব্যবস্থা নির্মাণে যা নিয়ে এল পরবর্তী সামাজিক বিপ্লব।’

MN Roy Historical Role of Islam: Chapter Two: "The Mission of Islam--Islam rose rather as a political movement than a religion in the strictest sense of the word. In the initial stages of its history, it was essentially a call for the unity of the nomadic tribes inhabiting the Arabian Desert. Upon its speedy realization, the politic-religious unitarian doctrine became the flag under which the Asiatic and African provinces of the Roman Empire survived the dissolution of the antique social order. The previous revolt had miscarried itself. Christianity had lost its original revolutionary fervor becoming, on the one hand, the ideology of social dissolution (Monasticism), and a prop for the decaying Empire, on the other. But the social crisis continued, aggravated by the degeneration of Christianity. The message of hope and salvation came from the Caravan traders of Arabia who had stood outside the corrupting atmosphere of the decomposed Roman world, and prospered by their advantageous position. The "Revolt of Islam" saved humanity. " ভারতের চিন্তাবিদ প্রখ্যাত ইসলামি বিশেষজ্ঞ মাওলানা আবুল কালাম আজাদ তার বই ‘মসজিদে রাজনীতি’ তে লিখেছেন:" আল্লাহর ঘর মসজিদই হচ্ছে ইসলামী রাজনীতির মুল কেন্দ্র যেটাকে কেন্দ্র করে সকল আল্লাহর প্রেরিত পুরুষগণ সমাজ সংস্কার ও গঠন তথা রাজনীতির কাজ চালিয়েছেন।"

আজ দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটা নিয়ে ভাবনা /গবেষণা যা এখন কিন্ত সময়েরই দাবি এবং সচেতন মুসলমানদের জন্য একটি অত্যাবশ্যকীয় বিষয় যে সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে এটা নিশ্চিত করা- মডেল মসজিদ তথা কথিত ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির না প্রকৃত ইস্ লামের সামগ্রিক ক্রিয়াকলাপের কেন্দ্র হিসাবে কাজ করবে।



No comments:

Post a Comment